নদ-নদীর গতিপথ পরিবর্তনজনিত কারণে অশ্বক্ষুরাকৃতির যে জলাশয়ের সৃষ্টি হয় তাকে বাঁওড় বলে।
ভূমির অভ্যন্তরে যতদূর পর্যন্ত সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে তাকে উপকূলীয় অঞ্চল বলে ধরা হয়।
চিংড়ি প্রধানত লোনা বা আংশিক লোনা পানিতে ভালো হয়। বাগদা চিংড়ি দ্বাদু পানিতে অল্প সময় বেঁচে থাকতে পারে। অপরদিকে, গলদা চিংড়ির কোনো কোনো প্রজাতি আংশিক লোনা, আবার কোনো কোনো প্রজাতি স্বাদু পানিতে জন্মাতে পারে। তবে সকল গলদারই জীবনচক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে লোনা পানির প্রয়োজন হয়। এজন্য, উপকূলীয় অঞ্চল চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী।
ভূমির অভ্যন্তরে যতদূর পর্যন্ত সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে তাকে উপকূলীয় অঞ্চল বলে ধরা হয়।
চিংড়ি প্রধানত লোনা বা আংশিক লোনা পানিতে ভালো হয়। বাগদা চিংড়ি দ্বাদু পানিতে অল্প সময় বেঁচে থাকতে পারে। অপরদিকে, গলদা চিংড়ির কোনো কোনো প্রজাতি আংশিক লোনা, আবার কোনো কোনো প্রজাতি স্বাদু পানিতে জন্মাতে পারে। তবে সকল গলদারই জীবনচক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে লোনা পানির প্রয়োজন হয়। এজন্য, উপকূলীয় অঞ্চল চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিংড়ি আজ বিরাট শিল্পরূপে পরিগণিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টিতে এবং রপ্তানি পণ্যের তালিকায় চিংড়ি একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববাজারে চিংড়ি খাদ্য হিসেবে বেশ লোভনীয় ও আকর্ষণীয়। স্বাদ ও পুষ্টির কারণে বিশ্বে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশে চিংড়ির উৎপাদন দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিংড়ি চাষে উৎসাহ প্রদানে সরকারিভাবে ২ লক্ষ ৭ হাজার চিংড়ির ঘের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে (মৎস্য সংকলন, ২০২২)। বর্তমানে এদেশে চিংড়ি খামারের আয়তন ২.৭৫ লক্ষ হেক্টর। চিংড়ির পোনা আহরণে ৮.৩৩ লক্ষ এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত রয়েছে ১.৫-২.০ লক্ষ লোক (কৃষি ডাইরি, ২০২২)। ফলে চিংড়ি আজ এদেশে বিরাট শিল্পরূপে পরিগণিত হয়েছে। দেশের রপ্তানিজাত মৎস্য পণ্যের প্রায় ৫৮% চিংড়ি। ২০২১- ২২ অর্থবছরে রপ্তানিকৃত চিংড়ির মাধ্যমে ৫৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ২.৭৮ লক্ষ মেট্রিক টন (Export Promotion Bureau, 2022)। চিংড়ি চাষের জমিতে যদি উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগে নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করা হয় তবে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চিংড়ি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো চিংড়ি।
চিংড়ি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যা আর্থ্রোপোডা পর্বের ডেকাপোডা বর্গের অন্তর্গত। বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটি ও পানি চিংড়ি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
দেশের প্রাকৃতিক উৎস থেকে সহজেই চিংড়ি পোনা পাওয়া যায়। কৃত্রিমভাবে ৪৩টি হ্যাচারিতে বাগদা ও ৩৩টি হ্যাচারিতে গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদন করা হয়। রেণু উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৬৮৪ হাজার কেজি। তাছাড়া স্বল্প বিনিয়োগে সহজেই চিংড়ি খামার গড়ে তোলা যায়। গলদা চিংড়ির সাথে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষও অধিক লাভজনক। বাংলাদেশের অসংখ্য নদী খাল, ডোবা, পুকুর এবং বঙ্গোপসাগরের ৪৮০ কিলোমিটার তটরেখা বরাবর অর্থনৈতিক এলাকাসমূহে চিংড়ি চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় ৪০% জমিতে অর্থাৎ প্রায় ১.৭২ লাখ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। আরও অন্তত ২.৩৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করা সম্ভব। এ দেশে চিংড়ির চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়িয়ে সহজেই পতিত জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা এবং অভ্যন্তরীণ জলাশয়সমূহ চিংড়ি চাষের বেশ অনুকূলে এবং বিদেশে চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ ইত্যাদি লক্ষ্য অর্জনে এদেশে চিংড়ি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
Related Question
View Allকোনো প্রাণীর যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ার জন্য। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাই সম্পূরক খাদ্য।
পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির হার সন্তোষজনকভাবে বাড়ে এবং মাছের ফলন বৃদ্ধি পায়।
পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা জন্মায় তাকে প্লাংকটন বলে। প্লাংকটন উৎপাদনের আধিক্যের ওপর মাছের উৎপাদন নির্ভর করে। ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্যের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পানিতে এইসব উপাদান অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এছাড়াও মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পুকুরে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়। তাই পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেওয়া হয়।
চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়।
উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়।
চিত্র-ক ও চিত্র-খ দ্বারা যথাক্রমে গলদা ও বাগদা চিংড়িকে বোঝানো হয়েছে।
গলদা ও বাগদা চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো হলো-
বৈশিষ্ট্য | গলদা চিংড়ি | বাগদা চিংড়ি |
|---|---|---|
| মাথা ও ক্যারাপেস | বড় এবং দেহের ওজনের প্রায় অর্ধেক | ছোট এবং দেহের ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। |
| রোস্ট্রাম | লম্বা ও বাঁকানো | খাটো ও সোজা। |
| রোস্ট্রামে কাঁটার সংখ্যা | উপরিভাগে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮- ১৪টি। | উপরিভাগে ৭-৮টি এবং নিচের দিকে ২-৩টি। |
| অ্যানটেনিউল | তিনটি ফ্লাজেলাযুক্ত। | দুটি ফ্লাজেলাযুক্ত। |
| শিরোবক্ষ | অন্যান্য অঙ্গ যেমন- উদর অংশ অপেক্ষা বড় ও উন্নত। | অংশটি অপর অংশের তুলনায় স্বাভাবিক। |
| প্লুরা | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা প্রথম ও তৃতীয় খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত রাখে। | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা কেবল প্রথম খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত করে রাখে। |
| বক্ষোপাঙ্গ | প্রথম দুটি উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। | প্রথম তিন উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। |
| আবাসস্থল | প্রধানত স্বাদু পানি। | লোনা পানি। |
| বর্ণ | হালকা সবুজ বাদামি। | হালকা বাদামি। |
প্লাংকটন হলো পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীব যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
পুকুরে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চুন মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির পিএইচ মানের ভারসাম্য বজায় রাখে। পানিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। পানির ঘোলাতু কমায় ও পানি পরিষ্কার রাখে। মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে। এ সমস্ত কারণে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!