আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগে।
আটলান্টিক চার্টার হচ্ছে মূলত জাতিসংঘ গঠনের দ্বিতীয় পদক্ষেপ। অক্ষশক্তির ক্রমাগত আক্রমণে যখন মিত্রশক্তি কোণঠাসা, তখন ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট আটলান্টিক মহাসাগরে অগস্টা নামক যুদ্ধজাহাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল মিলিত হয়ে আটলান্টিক সনদ স্বাক্ষর করেন। ঐতিহাসিক এ চার্টারে যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে বিজয়ী ও বিজিত সকল জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, সীমানা সম্পর্কে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি এবং সকল পক্ষের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
উদ্দীপকে বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
সর্বজনস্বীকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক এ সংগঠনটির কতিপয় কার্যাবলি নিম্নরূপ-
১. সোভিয়েত-ইরান বিরোধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইরান থেকে সোভিয়েত সৈন্য অপসারিত হয়নি। এরূপ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সহায়তায় ইরান-সোভিয়েত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।
২. বার্লিন অবরোধ: ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত রাশিয়া কর্তৃক পূর্ব জার্মানির বার্লিন অবরোধ করা হলে, জাতিসংঘর মধ্যস্থতায় ও দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সে সমস্যা দূর হয়।৩. ফকল্যান্ড বিরোধ: ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিরোধকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সে সমস্যার সমাধান হয়।
৪. ইরাক-কুয়েত সমস্যা: ১৯৮৯ সালে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করলে, ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ ইরাককে কুয়েত থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। শেষপর্যন্ত মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ইরাক আক্রমণ করে কুয়েতকে ইরাকের দখলমুক্ত করে।
এছাড়া ইন্দোনেশীয় সংকট, আরব-ইসরাইল বিরোধ প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংকটে হস্তক্ষেপ ও তা নিরসন প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র বিশ্বস্ত ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নানা ব্যর্থতা, সমালোচনা সত্ত্বেও উক্ত আন্তর্জাতিক সংগঠন অর্থাৎ জাতিসংঘের কারণেই প্রায় আট দশক ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় কোনো যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবি রাখে। এরই মধ্যে আরব-ইসরাইল বিরোধ, উপসাগরীয় সংকট, ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ক্রিমিয়ার সংকট, বার্লিন অবরোধ, সোভিয়েত-ইরান বিরোধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, চলমান ইউক্রেন সংকট প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বারবার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেও প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো সর্বগ্রাসী, বিশ্বত্রাসী তৃতীয় কোনো ভয়াবহ প্রভাব বিস্তারকারী বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি পৃথিবী এখন হয়নি।
নানা ব্যর্থতা, সমালোচনা সত্ত্বেও জাতিসংঘ যে জন্মের আট দশক পরে এসে এখন একটি অদ্বিতীয় ও সর্বজনস্বীকৃত শান্তি সংস্থা হিসেবে নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা। এ সফলতা এটিই ঘোষণা করে যে, জাতিসংঘের অস্তিত্বের অসারতা প্রমাণিত হওয়ার মতো বড় কোনো সংকট প্রতিষ্ঠার আট দশক পরে এসেও এখনও পৃথিবীতে হয়নি।
Related Question
View All১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করেন। মার্শালের এ নীতি ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য, হতাশা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের এ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা বিশ্ব ইতিহাসে 'মার্শাল পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ।
বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপ লাভ করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির অর্থাৎ জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নীরব বা নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্য মুজিবনগর সরকার তার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কেননা, একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছিল। তবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা - হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলোর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদসা হিসেবে যোগদান করে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!