পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের মেয়াদকাল ৫ বছর।
কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- স্থানীয় সরকার বা স্থানীয় অপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার।
স্থানীয় সরকারকে প্রশাসনের এক একটি ইউনিট বলা হয়। এ ধরনের স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং তারা কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করে মাত্র। যেমন- জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন প্রভৃতি। অপরদিকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার পরিচালিত হয় স্থানীয় জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। এজন্য স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের শাসনও বলা হয়। আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট এ ধরনের সরকার তাদের কাজের জন্য জনসাধারণের কাছে দায়ী থাকেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নতুন করে। প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন প্রভৃতি। স্থানীয় প্রশাসন আবার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি হলো বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারব্যবস্থা।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মুঘল আমল থেকে শুরু হয়ে ব্রিটিশ শাসন পর্যন্ত নানা আইনি সংস্কারের মধ্য দিয়ে এদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের শাসন-কাঠামো রূপ লাভ করে। পাকিস্তানি শাসন আমলে এর প্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর নতুন রাষ্ট্রের সবকিছুই ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন হয়। নতুন রাষ্ট্রে ১৯৭২-এর সংবিধানে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিস্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। এগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, ১১টি বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও 'তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে শাসনকার্য পরিচালনা করছে।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার হচ্ছে সমগ্র রাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে 'ক্ষুদ্রতর পরিসরে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থা। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে এই ধরনের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, ১১টি বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামীণ সমস্যা দূরীকরণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নানাবিধ কাজ করে। উপজেলা ও জেলার উন্নয়নের জন্য রয়েছে উপজেলা ও জেলা পরিষদ। পৌরসভা শহরের জনগণের স্থানীয় বহুবিধ সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পালন করে।
মহানগর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিভিন্ন সমস্যার সমধান এবং উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন কাজ করে। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলার জন্য কাজ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ।
ওপরের আলোচনার ভিত্তিতে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে শাসনকার্য পরিচালনা করছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো হলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়া। দেশের সর্বশেষ ১৩তম সিটি কর্পোরেশন বগুড়া।
পাঠাগার স্থাপন পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ।
পৌরসভা নানারকম উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাঠাগার স্থাপন তার মধ্যে অন্যতম। এটি পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের অন্তর্গত। পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য পৌরসভা পাঠাগার স্থাপন করে।
জনাব রমিজ আলীর কাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
পৌরসভার মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী মনে করেন, মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন স্থাপন করলে এলাকার লোকজন তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে। এতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে এবং জনগণ বিভিন্ন রকম রোগ থেকে রক্ষা পাবে। নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটালে মশার বংশ ধ্বংস হবে। এতে এলাকাবাসী ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া মাতৃসদনে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা সেবা লাভ করলে তারা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। অকালে কোনো শিশু মারা যাবে না। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মায়ের মৃত্যু হবে না। মা ও শিশুর জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হবে।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ আলী পৌরসভার একজন মেয়র। কেননা উপজেলা শহরের স্থানীয় সরকার হলো পৌরসভা। আর পৌরসভার প্রধান হলেন মেয়র। একজন মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পাদন করেছেন।
অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পৌরসভার প্রধান জনাব রমিজ আলীর কাজগুলো তার এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
পৌরসভা প্রধান জনাব রমিজ আলীর সম্পাদিত কাজগুলো হলো মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন নির্মাণ, নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটানো, মাতৃসদন স্থাপন করে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের সেবা প্রদান প্রভৃতি। রমিজ আলীর এলাকার উন্নয়নের জন্য উক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরও কাজের প্রয়োজন।
জনাব রমিজ আলীর পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার স্থাপন প্রভৃতি কাজ রমজান আলীর সম্পাদন করতে হবে। পৌর এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও জনগণের বিনোদনের জন্য উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন করতে হবে। আবার পৌর এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নৈশপ্রহরী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া সুপরিকল্পিত শহর গড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদানসহ অননুমোদিত ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিতে হবে। এছাড়া পৌরসভায় প্রধান জনাব রমজান আলীকে পৌর এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সন্ত্রাস দমনসহ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক শহর গড়ার ক্ষেত্রে পৌরসভার উল্লিখিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
১৯৯৭ সালে প্রণীত আইনে ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠাই নারীর ক্ষমতায়নকে নির্দেশ করে। যেমন- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী হলেন নারী। এছাড়াও নারীরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সবক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়লাভ করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!