'উৎপল' শব্দের অর্থ নীল পদ্ম।
গৌতম বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তী এক শ্রেষ্ঠী পরিবারে উৎপলবর্ণার জন্ম। আস্তে আস্তে উৎপলবর্ণা বড় হলে তাঁর রূপ ও গুণের কথা-চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর রূপ গুণে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ তাঁর পিতার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। একজনের সঙ্গে বিয়ে হলে পিতার সঙ্গে অন্য প্রার্থীদের শত্রুতা সৃষ্টি হবে বলে উৎপলবর্ণা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকে অনাথপিণ্ডিক নামক বুদ্ধ ভক্তের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। জেতবনে গিয়ে বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে অনাথপিণ্ডিক সেখানেই স্রোতাপত্তি ফল লাভ করলেন। স্রোতাপত্তি নির্বাণ লাভের প্রথম ধাপ। মনের একাগ্রতা সাধনের দ্বারা এটি অর্জিত হয়। ফেরার সময় অনাথপিণ্ডিক বুদ্ধ শ্রাবস্তীর বর্ষাবাস যাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। বুদ্ধ তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
অনাথপিণ্ডিক শ্রাবস্তীতে ফিরে 'কী করলে বুদ্ধ খুশি হবেন' এ বিষয়ে ভাবতে লাগলেন। শ্রাবস্তীতে রাজকুমার জেত-এর মনোরম একটি উদ্যান ছিল। তাঁকে অনেক অনুরোধ করে আঠার কোটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে সেই উদ্যান ক্রয় করলেন। সেখানে নির্মাণ করলেন মনোরম মহাবিহার। এ বিহারের মাঝখানে বুদ্ধের জন্য নির্মিত হয় 'মূল গন্ধকুটি বিহার'। এর চারদিকে নির্মিত হয় আটজন স্থবিরের জন্য পৃথক ভবন। এছাড়া সেখানে নির্মিত হয় চংক্রমণশালা, ভিক্ষুদের জন্য আশ্রম, দিঘি প্রভৃতি। রাজগৃহ থেকে শ্রাবস্তীর দূরত্ব প্রায় নব্বই মাইল।
তিনি বুদ্ধের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রতি দুই মাইল অন্তর মোট পঁয়তাল্লিশটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করালেন। এসব নির্মাণে খরচ হয় আঠারো কোটি স্বর্ণমুদ্রা।
উদ্দীপকের বুদ্ধভক্তের নামের সাথে তার কর্মের মিল রয়েছে।
বুদ্ধের জীবিতকালে ভিক্ষু ছাড়াও অনেক গৃহী বুদ্ধের একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনাথপিণ্ডিক ছিলেন অগ্রগণ্য। সেসময় শ্রাবস্তীতে সুমন নামে এক শ্রেষ্ঠী বাস করতেন। সুদত্ত নামে তাঁর এক পুত্র ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর সুদত্ত উত্তরাধিকার সুত্রে পিতার বিশাল ধনসম্পদের অধিকারী হন। এরকম ধনবানদের শ্রেষ্ঠী বলা হয। সুদত্ত শ্রেষ্ঠী অত্যন্ত দানশীল ছিলেন, গরিব ও দুখীদের তিনি মুক্ত হস্তে দান করতেন। কোনো অসহায় মানুষ তাঁর বাড়ি থেকে শূন্য হাতে ফিরত না। বিশেষত তিনি অনাথদের পিন্ড দান করতেন। পিন্ড হলো রান্না করা খাবার। অনাথদের অকাতরে পিন্ড দান করতেন বলেই সবার কাছে তিনি 'অনাথপিণ্ডিক' নামে পরিচিত হন।
দান কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ অনাথপিণ্ডিক বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর। এখন বিশ্ব বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর প্রশংসা করে, তাঁর দান কর্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে দান ও সেবায় ব্রতী হতে চেষ্টা করে।
Related Question
View Allমহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক।
গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পর তাঁর ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যা প্রথম মহাসঙ্গীতি নামে অভিহিত। মহাকশ্যপ থের এ সঙ্গীতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন। ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য পাঁচশত অর্হৎ ভিক্ষু নির্বাচিত করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুচিত্রার ঘটনাটি থেরী উৎপলবর্ণার জীবনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুচিত্রার কাহিনিটি উৎপলবর্ণা থেরীর চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
উৎপলবর্ণা ছিলেন অপরূপা। শৈশব থেকে তিনি ধর্মপরায়ণ ছিলেন। বড় হয়ে তিনি প্রায় পদমুত্তর বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনতে বিহারে যেতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ ভিক্ষুণী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। উৎপলবর্ণার রূপ-গুণে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ তাঁকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব পাঠায়। তাকে বিয়ে করা নিয়ে রাজাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্বের উপক্রম হয়। এতে উৎপলবর্ণা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে বিহারে ধর্মচর্চায় অনুপ্রাণিত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে সুচিত্রার ঘটনাটি থেরী উৎপলবর্ণার জীবনীকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের উক্তিটির সাথে আম্রপালির জীবন কাহিনির সাদৃশ্য রয়েছে। আম্রপলির জীবনী বিশ্লেষণ করলে উক্তিটির যথার্থতা পাওয়া যায়।
আম্রপালি বৈশালীর রাজোদ্যানে একটি বড় আমগাছের নিচে জন্মগ্রহণ করেছিল বলে তাঁকে আম্রপালি নামে ডাকা হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আম্রপালি অপূর্ব সুন্দরী হয়ে ওঠে। তার রূপ সৌন্দর্যে আশপাশের রাজ্যের রাজপুত্রগণ মুগ্ধ হন। সব রাজপুত্রই তাঁকে বিয়ে করার সংকল্প করেন। ফলে রাজপুত্রদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। তাই কলহ অবসানে আম্রপালি কাউকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি রাজনর্তকীর জীবন বেছে নেন এবং সকল রাজপুত্রের সাথে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করেন।
অনিত্যতা মধ্য বয়সে একদিন বৃদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করেন। সে বুঝতে পারেন মোহ, দেহ, রূপ, যৌবন সবই নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী।
সুতরাং উদ্দীপকে অর্পণার উক্তিটির সাথে আম্রপালির জীবন কাহিনি সাদৃশ্যপূর্ণ।'
'ঋদ্ধি' শব্দের অর্থ হচ্ছে ধ্যান-সাধনার প্রভাবে অলৌকিক ক্ষমতা, অর্জন।
দীক্ষা গ্রহণের আটদিন পর মহাকশ্যপ মহত্ত্ব ফল লাভ করেন। গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের ডেকে মহাকশ্যপের অশেষ গুণের প্রশংসা করলেন। বুদ্ধের ধর্ম দর্শনে তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তাঁর অশেষ গুণাবলির কথা বিবেচনা করে ভিক্ষুগণ তাঁকে অগ্রমহাশ্রাবক পদে অধিষ্ঠিত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!