বৃক্ষমেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে একটি দিনলিপি লেখ।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

দিনলিপি
তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৫
স্থান: ময়মনসিংহ
সময়: রাত ১০:৩০ মিনিট

আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন হয়ে থাকবে, কারণ আজ আমি প্রথমবারের মতো বৃক্ষমেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সকাল থেকেই মনটা আনন্দে ভরে ছিল। মা বললেন, “আজ শহরের শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।” আমি দেরি না করে বাবা-মায়ের সঙ্গে বের হয়ে পড়লাম।

বেলা প্রায় ১১টা নাগাদ আমরা মেলার মাঠে পৌঁছাই। প্রবেশপথেই সাজানো ছিল বিভিন্ন রঙের ফুলের টবে মনোমুগ্ধকর সব গাছ। যেন প্রকৃতি নিজ হাতে বর্ণমালা লিখে রেখেছে গাছের পাতায়-ফুলে। মেলার মাঠ জুড়ে ছিল নানা প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধি ও ফুলগাছের স্টল। প্রতিটি স্টলেই ছিল পরিচিত ও অপরিচিত বৃক্ষের সমাহার, আর তাদের গায়ে লাগানো নামফলক দেখে অনেক নতুন কিছু শিখেছি।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘ঔষধি গাছের’ স্টলটি। সেখানে আমি দেখলাম নিম, তুলসি, অর্জুন, বহেড়া, হরতকি ও আমলকী গাছ—যেগুলোর নাম আমি বইয়ে পড়েছি, কিন্তু কখনো চোখে দেখিনি। স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দাদা অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিটি গাছের উপকারিতা বুঝিয়ে বলছিলেন। আমি সেখানে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ শুনেছি। মনে হলো, প্রকৃতির মাঝেই যেন লুকিয়ে আছে আমাদের জীবনের সুস্থতা ও শান্তির চাবিকাঠি।

বাবা একটি আমগাছের চারা, আর আমি একটি রজনীগন্ধার টব কিনে নিই। মায়ের জন্য নিলাম একটি ঘৃতকুমারী গাছ। এ ছাড়া অনেকেই বালতি, জৈব সার, মাটির টব, ও গার্ডেনিং সরঞ্জামও কিনছিলেন।

মেলার এক পাশে ছিল শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও গাছ লাগানো প্রতিযোগিতা। শিশুরা প্রকৃতিকে নিয়ে যে যত্ন ও ভালোবাসা দেখাচ্ছিল, তা দেখে খুবই ভালো লেগেছে। মনে হলো, আগামী প্রজন্ম পরিবেশের ব্যাপারে আরও সচেতন হয়ে উঠছে।

বিকেলের দিকে মেলায় ছিল একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও একটি আলোচনাসভা—যেখানে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য থেকে বুঝতে পারলাম, বৃক্ষ আমাদের শুধু অক্সিজেনই দেয় না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আমরা বাড়ির পথে রওনা হই। বাসায় ফিরে গাছগুলিকে ছাদের এক পাশে গুছিয়ে রাখি এবং নিজ হাতে পানি দিই। মনটা তখনও আনন্দে পরিপূর্ণ। ভাবলাম, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে মানুষ সত্যিকারের শান্তি খুঁজে পায়।

আজকের বৃক্ষমেলার অভিজ্ঞতা আমার মনে এক গভীর ছাপ ফেলেছে। প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখলাম আর ভাবলাম—সবাই যদি একটি করে গাছ লাগায়, তাহলে পৃথিবীটা আরও কত সুন্দর হতে পারে!

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
1.2k

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার
রাত ১০টা
ঢাকা
আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শীতের পরে বসন্ত এসে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়, বসন্তের প্রকৃতি আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের কলেজে প্রতিবছরই বসন্তবরণে একটি অনুষ্ঠান হয়। আজ সকালে আমি বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়েছিলাম। কলেজের মাঠে একটি মন্ঞ্চ বানিয়ে সেখানে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গান, কবিতা, নাচ ইত্যাদি পরিবেশনার সঙ্গে চলছিল বসন্ত বন্দনা। একজন গেয়েছিল লগ্নজিতার 'বসন্ত এসে গেছে' গানটি। তবে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আহা আজি-এ বসন্তে' গানটির পরিবেশনা। আমার ফন্ধু সাদিয়া 'ফুলে ফুলে ঢোলে, ঢোলে...' গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছিল। অনুষ্ঠান শেষে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে সংগীত পরিবেশন করেছিল শিল্পী অর্ণব। কনসার্ট শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি তার বক্তব্যে বসন্তবরণের সঙ্গে বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলেন। কিছুক্ষণ আগেই বাসায় এসেছি। আজ সারা দিন খুব আনন্দে কেটেছে, আবার কবে বসন্ত আসবে তার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।

22.1k
উত্তরঃ

 পদ্মাসেতু দর্শনের অনুভূতি 

তারিখঃ ২৬ শে জুন, ২০২৫

সময়ঃ রাত ১০ঃ০০ টা

স্থানঃ ঢাকা

চমৎকার একটি দিন কাটালাম আজ। কলেজের কয়েকজন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সীগঞ্জের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে এই সেতু। পদ্মা সেতু প্রথম দেখাতেই মনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশের তিন কোটিরও অধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে এই সেতুটির মাধ্যমে। দেশের পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতুর ফলে দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সারকথা, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পদ্মা সেতু সমগ্র দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি উপলব্ধি করে এক অজানা আনন্দে মন পুলকিত হয়ে আছে।

Ëñďý Ŕozario
Ëñďý Ŕozario
10 months ago
769
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews