বৃদিতা বাবার সাথে সিলেটের জাফলং বেড়াতে যায়। প্রতি বছর বহু পর্যটক সিলেটের এই পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসে। হৃদিতা শুধু সিলেটের জাফলং নয়, সে পরবর্তীতে বগুড়ার মহাস্থানগড়ও ঘুরে আসে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ইৎসিং চীন দেশের ভ্রমণকারী।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

'বং' নামক জাতির নাম থেকে 'বঙ্গ' নামের উৎপত্তি হয়।

 বঙ্গ অতি প্রাচীন জনপদ। প্রাচীন পুঁথিতে একে মগধ ও কলিঙ্গ জনপদের প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চন্দ্রগুপ্ত, বিক্রমাদিত্য, চালুক্যরাজ ও রাষ্ট্রকূটদের শিলালিপি এবং কালিদাসের গ্রন্থে এ জনপদের বর্ণনা পাওয়া যায়। এসব বিবরণ থেকে ধারণা করা হয়, বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে এ জনপদটি গড়ে উঠেছিল। এ জনপদে 'বং' নামক জাতি বসবাস করত। তাদের নাম থেকেই জনপদটির নাম হয়েছে বঙ্গ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত হৃদিতা প্রথমে যেখানে বেড়াতে যায়, তা প্রাচীন হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত।

সাত শতকের লেখকরা হরিকেল নামক এক জনপদের বর্ণনা করেছেন। পূর্ব-ভারতের শেষ সীমানায় হরিকেলের অবস্থান ছিল বলে চীনা ভ্রমণকারী ইৎসিং তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। নয় শতকের সাহিত্যকর্ম 'কপূরমঞ্জরীতে' এ বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। আবার কারো কারো বর্ণনায় হরিকেলের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তাতে সেটি বর্তমান চট্টগ্রামের অংশ বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন তথ্যের পর্যালোচনার ভিত্তিতে পূর্বে শ্রীহট্ট বা বর্তমান সিলেট থেকে চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ পর্যন্ত হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল বলে ধরে নেওয়া হয়। সপ্তম ও অষ্টম শতক থেকে দশম এবং একাদশ শতক পর্যন্ত হরিকেল ছিল একটি স্বতন্ত্র রাজ্য। কিন্তু রাজা ত্রৈলোক্যচন্দ্রের চন্দ্রদ্বীপ অধিকারের পর থেকে হরিকেলকে মোটামুটিভাবে বঙ্গের অংশ বলে ধরা হয়। অনেকে শুধু সিলেটের সাথে হরিকেলকে অভিন্ন বলে মনে করেন।

উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, হৃদিতা তার বাবার সাথে প্রথমে সিলেটের জাফলং বেড়াতে যায়। আর উপরের আলোচনায় সিলেট অঞ্চলটিকে প্রাচীন জনপদ হরিকেলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং এটা বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত হৃদিতা প্রথমে যেখানে বেড়াতে যায়, তা প্রাচীন জনপদ হরিকেলের অন্তর্ভুক্ত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

হৃদিতা পরবর্তীতে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘুরতে যায়। সেখানে অবস্থিত পুণ্ড ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।

প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড অন্যতম। বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে এ জাতির উল্লেখ আছে। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদে বাস করত, যাদের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৯-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড রাজ্য স্বাধীন সত্তা হারায়। সমৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে তা পুণ্ড্রবর্ধনে রূপান্তরিত হয়। সে সময় পুণ্ড্রবর্ধন বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুণ্ডনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসায়- বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, হৃদিতা তার পিতার সাথে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘুরতে যায়। আর উপরের আলোচনায় বগুড়ার মহাস্থানগড়কে প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ পুণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, হৃদিতা পরবর্তীতে বগুড়ার মহাস্থানগড় বা পুণ্ড জনপদে ঘুরতে যায়, যা ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
224

ইতিহাস-বিষয়ক আলোচনায় যুগের বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এ যুগ বিভাজন নির্ণয় করা হয়ে থাকে । ঐতিহাসিকগণ খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিষ্টীয় তেরো শতক পর্যন্ত সময়কালকে বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন যুগ বলে মনে করেন । আবার কেউ কেউ খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিষ্টীয় ছয় শতক পর্যন্ত সময়কালকে আদি ঐতিহাসিক যুগ এবং খ্রিষ্টীয় সাত শতক থেকে তেরো শতক পর্যন্ত সময়কালকে প্রাক- মধ্যযুগ বলেও যুগ বিভাজন করে থাকেন । 

 

এই অধ্যায় শেষে আমরা  -

♦ বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারব

♦ প্রাচীন বাংলার তথ্য অনুসারে জনপদগুলোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব

♦ প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভে জনপদগুলোর গুরুত্ব জানতে আগ্রহী হব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রাচীনকালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত হওয়া বাংলার অঞ্চলগুলোর সমষ্টিকে জনপদ বলা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
395
উত্তরঃ

গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।

সপ্তম শতকের চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ততে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৯৬০- এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রাজবাড়িডাঙ্গার (পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার যদুপুর গ্রাম) মঠের সাথে লো-তো-মি-ছি (রক্তমৃত্তিকা)-এর ফলে এখন যথার্থভাবেই বলা যায় যে, খননকৃত প্রত্নস্থলের নিকটে ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাক্ষসীডাঙ্গার ধ্বংসস্তূপ খননে আনুমানিক সপ্তম শতকের বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তিচিহ্ন পাওয়া গেছে, স্থানীয় ভাবে এটি রাজা কর্ণ-এর প্রাসাদ নামে পরিচিত। তবে নদীপ্রবাহ বা ভাঙ্গনের ফলে অনেক চিহ্ন এখন মুছে গেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
483
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত নিদর্শনটি প্রাচীন সমতট জনপদে অবস্থিত।

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চলটি ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। আবার কেউ মনে করেন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। তবে সাত শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত বর্তমান ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ।

উদ্দীপকে আমরা শালবন বিহারের চিত্র দেখি, যা কুমিল্লা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বা লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণির প্রায় মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। কুমিল্লা যেহেতু প্রাচীনকালে সমতট নামে পরিচিত ছিল তাই এই বিহারটি সমতট জনপদে অবস্থিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.4k
উত্তরঃ

না, উক্ত জনপদ অর্থাৎ সমতট জনপদটি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল বলে আমি মনে করি না। প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল পুণ্ড।
সমতট জনপদটি কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। এ জনপদে দেব রাজবংশের রাজারা বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী, শিল্পকলা ইত্যাদিতে অবদান রেখেছেন। এছাড়াও এ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ময়নামতি অঞ্চল তখনকার সময়ে বৌদ্ধ সংস্কৃতির অন্যতম চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এর নিদর্শনস্বরূপ রয়েছে অনেকগুলো বৌদ্ধ বিহার। যেমন- আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার ইত্যাদি। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এ অঞ্চলে এসে তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন। তাছাড়া গঙ্গা- ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিস্তৃতি বিধায় এ জনপদ নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড অন্যতম। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। পুণ্ডদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় কয়েক শতাব্দীকাল পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজবংশের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে ছিল বিস্তৃত ছিল এ পুণ্ড জনপদ। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুন্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। চীনের সঙ্গে মগধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের ওপর পুণ্ড্রবর্ধনের উপস্থিতি এ গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর বিবরণীও এ অঞ্চলের সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সমতট নয় পুণ্ড ছিল বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
947
উত্তরঃ

জনপদ হলো প্রাচীন ছোট ছোট খণ্ডরাজ্য যার প্রতিটি অঞ্চলের শাসক তার রাজ্যটিকে নিজের মতো করে শাসন করতেন। প্রাচীন যুগে বাংলা এখনকার বাংলাদেশের মতো কোনো একক ও অখণ্ড রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। আর প্রতিটি অঞ্চলের শাসক যার যার মতো শাসন করতেন। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে এক-একটি জনপদ হিসেবে নাম দেওয়া হয়। ইতিহাসে বিখ্যাত বাংলার কয়েকটি প্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড, গৌড়, বঙ্গ, হরিকেল, সমতট ইত্যাদি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews