কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূরীকরণে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অত্যধিক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি হতে পারে আরও বেশি ফলপ্রসূ। আমাদের দেশে বেকারত্বের হার যেমনি বেশি, তেমনি পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও কম নয়। এ শিল্প শুধু শিক্ষিত ডিগ্রিধারীদের জন্যই কর্মসংস্থান তৈরি করবে না; এ শিল্পে একজন সাধারণ মানুষেরও পান-চায়ের দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমাদের দেশে শহরের তুলনায় গ্রামে কর্মসংস্থান অপ্রতুল, গ্রামে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটলে এ সেক্টরে প্রতিটি মানুষের জন্য কর্মের সুযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কর্মসংস্থান তৈরি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোয় লাগবে পরিবর্তনের হাওয়া। ফলে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হবে।
পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে এ শিল্প তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি। তাই বিপুল সংখ্যার বেকার, বেকারই রয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে একটি চাকরি জোগাড় করা যখন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, ঠিক সে সময় এ শিল্প আমাদের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে আশাবাদী করে। এ শিল্প যেহেতু বহুমাত্রিক কর্ম সৃষ্টি করে, সেহেতু একজন নৌকাচালক থেকে শুরু করে একজন চা বিক্রেতা ব্যবসা করে লাভবান হবে। কেননা, পর্যটন এলাকায় সবসময়ই পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পের ব্যবসায়ীরা এবং এ সেক্টরের কারিগররা পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় তাদের পণ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পারে। সেগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নজর কাড়ে এবং পর্যটকরা তাদের পণ্য ভালো দামে কিনতে আগ্রহ দেখায়। ফলে কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো দেশি ঐতিহ্য ধরে রাখতে এগিয়ে আসবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে দেশীয় হারাতে বসা অনেক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ সম্ভব হবে।
পর্যটকরা চায় তাদের ভ্রমণ অনেক আনন্দদায়ক হোক। আর তাদের ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও সুন্দর করতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোকে পর্যটকদের ভালো সেবা দেয়ার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হয়। পর্যটকদের যত উন্নত ও ভালো সেবা দেয়া যায়, সেসব পর্যটন স্পটে পর্যটকরা বেশি বেশি আসবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই পর্যটন কেন্দ্রে কর্মরত সবাইকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও উত্তম আচরণের অধিকারী হওয়া উচিত।
আমি সম্প্রতি একটি দামি রেস্টুরেন্টে যাই। সেখানে গিয়ে কয়টি মিষ্টির অর্ডার দেই, কিন্তু আমি তাদের একজন কর্মচারী আচরণে কষ্ট পাই। রেস্টুরেন্টের সেবার মান কিন্তু ভালো ছিল। একজন কর্মচারীর কারণে ভালো সার্ভিস দেয়া সত্ত্বেও আমি গোটা রেস্টুরেন্টের ওপরই আমি মনঃক্ষুন্ন হই। দেখা গেল, একজন কর্মচারীর জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানটির বদনাম হলো। তাই এ সেক্টরে সেবাদাতা সবাইকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, মাধুর্যপূর্ণ ভাষা ও ব্যবহারের অধিকারী হওয়া চাই।
গ্রামের অর্থনীতি অনেকটা কৃষিনির্ভর হওয়ায় বছরের একটা সময় কৃষি শ্রমিকরা শহরে গিয়ে গার্মেন্টস কিংবা কারখানায় কাজ নিতে দেখা যায়। কিন্তু গ্রামের মনোমুগ্ধকর আবহে পর্যটনশিল্পের বিকাশে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। তাই গ্রামে পর্যটনশিল্পের প্রসার বাড়ানো গেলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তৈরি হবে তরুণ উদ্যোক্তা। একজন রিকশাওয়ালাও বাদ যাবে না আয়-রোজগারের পথ থেকে। গ্রামের মানুষের জীবনে লাগবে আধুনিকতার ছোঁয়া। সুদিন ফিরবে প্রতিটি ঘরে। ফলে গ্রাম থেকে আসা মানুষের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে হাঁপাতে হবে না ঢাকা শহরসহ অন্যান্য নগরীকে।
দেখা যায়, অনেক নয়নাভিরাম মনলোভা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থান প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। মনপুরা দ্বীপ, চর কুকরি-মুকরিসহ এমন অনেক ভ্রমণ স্পটের কথা আমরা বলতে পারি। এসব স্থানে এ শিল্পের পরিকল্পিত বিকাশ ঘটানো গেলে, সেখানকার খেটে-খাওয়া মানুষগুলো আয়-রোজগারের পথ খুঁজে পাবে। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায়ও আসবে পরিবর্তন। বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হবে কর্মসংস্থান। মোদ্দা কথা হলো, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এবং দেশে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে ওঠলে দেশ যেমনি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, তেমনি বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব হবে। তাই আসুন, পর্যটনশিল্পের বিকাশে এগিয়ে আসি।
Related Question
View All"পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার"
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ দূষণ একটি ব্যাপক আলোচিত ঘটনা যা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা মানব জাতিকে সতর্ক ও সচেতন হতে নির্দেশ দিয়ে আসছেন। পরিবেশ দূষণ মানব সমাজে নিদারুন সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবেশ দূষণের ফলে শুধু মানব গোষ্ঠীই নয়, বরং সমস্থ জীবকূলের অস্তিত্ব এই পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দূষণ পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়। পরিবেশে বিভিন্ন উপাদানে ক্ষতিকারক বস্তুর অনুপ্রবেশ ঘটে। বিশিষ্ট বস্তুবিজ্ঞানী ওডামের মতে, “বায়ু, পানি, মাটি” ইত্যাদি ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন মানব সভ্যতাকে অথবা কোন প্রজাতির জীবনকে সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বা করতে পারে, তাকেই দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদগুলো হলোঃ পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ ।
পানি দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. পানিতে আবর্জনা, সার বা বিষাক্ত দ্রব্য না ফেলা।
২. উপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
৩. ভূগর্ভস্থ পানির পরিমিত ব্যবহার।
৪. জমিতে সার বা কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. ধুমপানের ধোঁয়া, যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
২. ওজোন স্তরে ছিদ্র হয়ে যে সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে তা প্রতিরোধ করা।
৩. গ্রীণ হাউজ গ্যাসের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা।
৪. আবর্জনাকে ধরণ অনুযায়ী পৃথক করে জমা ও অপসারণ করা। ৫. জনগণকে বৃক্ষ রোপনে উৎসাহী করা।
শব্দ দূষণ রোধে করণীয় :
১. উচ্চস্বরে কথা/চিৎকার করা যাবে না।
২. জোরে গান বাজানো যাবে না।
৩. হাইড্রোলিক হর্ণ/ বোমাবাজি/ বিকট আওয়াজে স্লোগান ইত্যাদি করা
মাটি দূষণ মুক্ত রাখতে করণীয়:
১. প্লাস্টিকের ব্যাগ, পলিথিন পরিহার করতে হবে।
২. বৃক্ষরোপন, পাহাড় ও উচ্চভূমি রক্ষা করতে হবে।
৩. কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৪. ইটের বিকল্পে ব্লক ইট ব্যবহার।
৫. পরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
কারাগারের রোজনামচা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত একটি গ্রন্থ সংকলন। গ্রন্থটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকীতে ২০১৭ সালে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির মহানায়ক গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীণ থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিন তিনি ডায়েরী লেখা শুরু করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল জেল- জীবনচিত্র এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো সেসব বিষয় যেমন সন্নিবেশিত হয়েছে; ঠিক তেমনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দুঃখ-দুর্দশা, গণমাধ্যমের অবস্থা, শাসক গোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাস ঘাতকতা, প্রকৃতি প্রেম, পিতৃ-মাতৃ ভক্তি, কারাগারে পাগলদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেছেন।
রাতারগুল জলাবন
রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। রাতারগুল যা বাংলার অ্যামাজন নামেও পরিচিত চিরসবুজ এই বন গুয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। বর্ষাকালে এই বন ২০ থেকে ৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে। বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। এখানে গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানান বন্য প্রাণী আর পাখি। শীতে জল শুকিয়ে যায় বলে বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময় (জুলাই থেকে অক্টোবর) রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। সিলেট শহর থেকে রাতারগুলের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ বনের অবস্থান। সিলেট বন বিভাগের উত্তর সিলেট রেঞ্জে-২ এর অধীন প্রায় ৩০ হাজার ৩শ' ২৫ একর জায়গা জুড়ে এ জলাভূমি। এর মধ্যে ৫শ' ৪ একর জায়গার মধ্যে বন, বাকি জায়গা জলাশয় আর সামান্য কিছু উঁচু জায়গা। তবে বর্ষাকালে পুরো এলাকাটিই পানিতে ডুবে থাকে। শীতে প্রায় শুকিয়ে যায় রাতারগুল। তখন বনের ভেতরে খনন করা বড় জলাশয়গুলোতে শুধু পানি থাকে। পুরাতন দুটি বড় জলাশয় ছাড়াও ২০১০-১১ সালে রাতারগুল বনের ভেতরে পাখির আবাসস্থল হিসেবে ৩.৬ বর্গ কিলোমিটারের একটি বড় লেক খনন করা হয়। শীতে এ জলাশয়ে বসে নানান পাখির মিলন মেলা। রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন। এরপরেও বন বিভাগ হিজল, বরুণ, করচ আর মুতা-সহ কিছু জলবান্ধব জাতের গাছ লাগিয়ে দেয় এ বনে। এছাড়াও রাতারগুলের গাছপালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ কদম, জালিবেত, অর্জনসহ জল সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির গাছপালা। সিলেটের শীতলপাটি তৈরির মূল উপাদান মুতার বড় অংশ এই বন থেকেই আসে। বাংলাদেশ বন বিভাগ ১৯৭৩ সালে এ বনের ৫শ' ৪ একর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!