মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
পুকুর প্রস্তুতির সময় পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য সার প্রয়োগ করতে হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সার প্রয়োগ করা হয়।
মহিবুল্লাহর পুকুর ছিল ৫০ শতাংশের।
১ শতাংশে গোবর সার দেওয়া হয় ৫ থেকে ৭ কেজি
∴ ৫০ শতাংশে গোবর সার দেওয়া হয় = (৫ থেকে ৭) × ৫০ কেজি = ২৫০ থেকে ৩৫০ কেজি
সুতরাং, মহিবুল্লাহ পুকুর প্রস্তুতির সময় ২৫০ থেকে ৩৫০ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করেছিলেন।
মহিবুল্লাহ পুকুরে পোনা মজুদ পরবর্তী সময়ে সার প্রয়োগের জন্য সেক্কিডিস্ক ব্যবহার করেন।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার আছে কি না এবং আরও সার প্রয়োগ করতে হবে কি না সেটা জানা যায়।
সেক্কিডিস্ক পদ্ধতিতে ২০ সেমি ব্যাসযুক্ত টিনের একটি সাদা-কালো থালা সুতা দ্বারা পানিতে ডুবানো হয়। ডুবানোর পর যদি ২৫-৩০ সেমি গভীরতায় থালা দেখা না যায় তবে বুঝতে হবে পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার রয়েছে। ৩০ সেমি এর অধিক গভীরতায় যদি সেক্কিডিস্ক দেখা যায় তবে বোঝা যাবে খাবার কম আছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে পুকুরে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করা যায়। পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য থাকলে বাইরে থেকে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।
উক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে সার প্রয়োগ করায় মহিবুল্লাহকে অতিরিক্ত খাদ্য প্রদান করতে হয়নি। এতে অর্থের অপচয় রোধ হয় কিন্তু মাছের উৎপাদন বেশি হয়। অতএব বলা যায়, উপরিউক্ত পদ্ধতিতে মহিবুল্লাহর সার প্রয়োগ অর্থের অপচয় রোধ করার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক।
Related Question
View Allগবাদিপশু যে সকল উপাদান খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে দেহে শক্তি উৎপাদন করে তাকে গো-খাদ্য বলে।
যে খাদ্যে কম পরিমাণ আঁশ এবং বেশি পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায় তাকে দানাজাতীয় খাদ্য বলে।
দুধাল বা মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। কারণ দানাজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ থাকে যা গবাদিপশুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস শুকিয়ে হে তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি হে তৈরির জন্য মে সঠিক পূর্ণতাপ্রাপ্ত গাছ (ফুল আসার আগে) কেটেছিলেন। কেননা সুগিত মানের হে তৈরির জন্য কম বয়সের গাছ বেশি উপযুক্ত। এরপর ঘাসগুলোকে সঠিকভাবে শুকিয়েছিলেন যাতে এটি মোল্ডমুক্ত ও অতিরিক্ত তাপমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যের আলো পরিহার করে ঘাসগুলোকে দ্রুত শুকিয়েছিলেন। ঘাসগুলোকে কেটে রৌদ্রে এমনভাবে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছিলেন যেন এগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না যায়। এরপর এগুলো শুষ্ক অবস্থায় (১৫-২০% আর্দ্রতায়) সংরক্ষণ করেছিলেন।
উল্লিখিত উপায়ে কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেছিলেন।
কনক বড়ুয়া তার গবাদিপশুর সারাবছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেন।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে কনক বড়ুয়ার গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কনক বড়ুয়া তার চারণ ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যারা পশু পালনের সাথে জড়িত তাদের সবার উচিত এভাবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ বা হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ, কনক বড়ুয়ার কার্যক্রমটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারি ছিল।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!