জনাব রায়হান একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন। তিনি 'ডেলটা লাইফ ইন্সুরেন্স কো.'-এর সাথে পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ১৫ বছরের জন্য ২০ লক্ষ টাকার একটি জীবন বিমা চুক্তি করেন। ৫ বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পর হঠাৎ তিনি চাকরি হারান। ফলশ্রুতিতে তার আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি বিমা পলিসিটি চালাতে অসমর্থ হন। বিষয়টি তিনি বিমাকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করেন এবং তার পরিশোধিত প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ অংশ ফেরত পাবার জন্য আবেদন করেন।
বিমাযোগ্য স্বার্থের নীতির আলোকে স্বামী তার স্ত্রীর জীবনের ওপর বিমা করতে পারে।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থই বিমাযোগ্য স্বার্থ। এক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতিতে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্ত্রীর জীবনে কোনো ক্ষতি হলে, স্বামীও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই স্ত্রীর জীবনের ওপর স্বামীর বিমাযোগ্য স্বার্থ রয়েছে। এই বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকার কারণেই স্বামী তার স্ত্রীর জীবনের ওপর বিমা করতে পারে।
এ ধরনের বিমা পলিসিতে একক বিষয়বস্তুকে একাধিক বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিমা করা হয়। বিমাকৃত মূল্য না পাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোই এরূপ বিমার মূল উদ্দেশ্য। সাধারণত অধিক মূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমা পলিসি গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে মি. রকিব EPZ এ অবস্থিত একটি সাইকেল কারখানার মালিক। তিনি তার কারখানার জন্য 'X' বিমা কোম্পানি ও 'Y' বিমা কোম্পানির সাথে পৃথকভাবে ত্রিশ লক্ষ টাকার দুটি বিমা চুক্তি করেন। একই বিষয়বস্তুর জন্য একাধিক বিমা কোম্পানির সাথে চুক্তি করলে তাকে দ্বৈত বিমা বলে। উদ্দীপকের মি. রকিবও দ্বৈত বিমা করেছেন। এক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতিতে তাকে আনুপাতিক হারে বিমা দাবি পরিশোধ করা হবে। ফলে বিমা দাবি ফেরত না পাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মি. রকিব তার কারখানার জন্য দ্বৈত বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
আনুপাতিক হারে অংশগ্রহণের নীতি অনুযায়ী বিমা কোম্পানি কর্তৃক মি. রকিবের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
এ নীতি সাধারণত দ্বৈত বিমার ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট সম্পত্তি একাধিক বিমাকারীর নিকট বিমা করা হলে বিমা কোম্পানিগুলো আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। সব বিমা কোম্পানি একত্রে বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
উদ্দীপকে মি. রকিব EPZ এ অবস্থিত একটি সাইকেল কারখানার মালিক। তিনি তার কারখানার জন্য 'X' ও 'Y' দুটি বিমা কোম্পানির সাথে পৃথকভাবে বিমা করেন। উভয় কোম্পানিতেই তিনি ৩০ লক্ষ টাকা করে বিমা করেন। পরবর্তীতে দূর্ঘটনা জনিত কারণে তার কারখানার ৪ লক্ষ ।
উদ্দীপকের টাকার ক্ষতি হয়। মি. রাকিব উভয় কোম্পানির নিকট হতে পৃথকভাবে ৪ লক্ষ টাকা করে দাবি করেন। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে। মি. রকিব দ্বৈত বিমা করেন। দ্বৈত বিমায় আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, বিমা কোম্পানিগুলো একত্রে মি. রকিবকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করবে। মি. রকিব উভয় বিমা কোম্পানিতে সমান টাকায় বিমা করেন। তাই উভয় বিমা কোম্পানি সমানভাবে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। কিন্তু মি. রকিব প্রত্যেক বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন, যা যৌক্তিক নয়। তাই বলা যায়, আনুপাতিক হারে অংশগ্রহণের নীতি অনুযায়ী মি. রকিবের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থকে বিমাযোগ্য স্বার্থ বলে। আইনানুযায়ী বিমা একটি বৈধ ব্যবসায়। অসুস্থ মৃতপ্রায় কোনো ব্যক্তির জীবন বা অন্যের সম্পত্তি বিমা করে বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করা গেলে তা জুয়াখেলা হতো। কিন্তু বিমার ক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থ থাকে। এ স্বার্থকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করতেই বিমার উদ্ভব হয়।
এ জীবন বিমাপত্র নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য খোলা হয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে বিমাগ্রহীতা বিমাকৃত অর্থ ফেরত পায়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে তার মনোনীত ব্যক্তি বিমা দাবি আদায় করতে পারে। এ বিমা একই সাথে জীবন বিমা ও সঞ্চয়ের সুবিধা দেয়।
উদ্দীপকের জনাব রায়হান একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন। তিনি 'ডেলটা লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ'-এর সাথে ১৫ বছরের জন্য ২০ লক্ষ টাকার জীবন বিমা চুক্তি করেন। ৫ বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পর হঠাৎ তিনি চাকরি হারান। ফলে বিমাপত্রটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। জনাব রায়হানের বিমাপত্রের মেয়াদ নির্দিষ্ট ছিল। এটি জীবন বিমার অন্তর্গত মেয়াদি বিমাপত্র। উক্ত বিমাপত্রের পলিসির টাকা তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু ১৫ বছরের মধ্যে তার মৃত্যু হলে তার মনোনীত ব্যক্তি এ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তাই বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বলা যায়, জনাব রায়হানের বিমাপত্রটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।