'বুদ্ধ' শব্দের অর্থ হলো জ্ঞানী।
জ্ঞানী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তাদের স্তুতি করার নামই বন্দনা। বুদ্ধ ছিলেন অনন্ত গুণ ও জ্ঞানের অধিকারী। এজন্য বুদ্ধের বন্দনা করি। এ বন্দনার লক্ষ্য হলো বুদ্ধের অনন্ত গুণের অনুশীলন ও অনুসরণ করা।
বুদ্ধকে বন্দনা করার আগে হাত-মুখ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় পরতে হয়'। এতে মন পরিচ্ছন্ন হয়। হৃদয়ও পবিত্র হয়। পবিত্র হৃদয় ও মনে বন্দনা করলে একাগ্রতা বাড়ে। বুদ্ধ বন্দনার সময় বুদ্ধমূর্তি বা বুদ্ধের ছবির সামনে হাঁটুভেঙে বসতে হয়। তারপর দু হাতের তালু যুক্ত করে মনোযোগসহকারে সুর করে বন্দনার গাথা আবৃত্তি করতে হয়। আবৃত্তি স্পষ্ট হওয়া উচিত। বুদ্ধ বন্দনার শেষে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে ভক্তিসহকারে প্রণাম করতে হবে। এভাবে প্রত্যেক বন্দনা বা গাথার শেষে প্রণাম করতে হয়।
আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, উপাসক-উপাসিকাদের সাথে এক সাথে বসে বন্দনাকে সমবেত বন্দনা বলা হয়।
বন্দনা একটি সৎ ও পুণ্যকর্ম। মানবজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যেকেরই সকাল-বিকাল দুবেলা বন্দনা করা উচিত। বুদ্ধমূর্তি বা বুদ্ধের ছবির সামনে বসে মা-বাবা, ভাইবোন সবাই একসাথে বন্দনা করলে ভালো হয়। বিহার নিকটে থাকলে বিহারে গিয়ে বন্দনা করা যায়। আর দূরে হলেও মাঝে মাঝে বিহারে গিয়ে বন্দনা করা উচিত। কারণ সমবেত বন্দনা করলে বেশি পুণ্যলাভ হয়। এতে সকলের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও মৈত্রীভাব বৃদ্ধি পায়। পরস্পর মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের আগ্রহ বাড়ে। তাই সমবেত বন্দনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allজ্ঞানীগুণী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের গুণরাশির স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা।
বুদ্ধের দন্তধাতুর বন্দনাটির বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো-
বুদ্ধের একটি দন্ত ত্রিদশালয়ে, একটি নাগলোকে, একটি গান্ধার রাজ্যে, একটি সিংহল দ্বীপে রয়েছে। নির্বাণ রস প্রদানকারী এ চারটি মহাদন্ত নর ও দেবগণের দ্বারা পূজিত। আমিও সেই চার দন্তধাতুকে ভক্তিসহকারে বন্দনা করছি।
পিতামাতা, ভাইবোন এবং আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে বন্দনা করাকে সমবেত বন্দনা বলে।
বন্দনা শব্দের বিভিন্ন 'রকম অর্থ রয়েছে। যেমন- প্রণাম, নমস্কার, অভিবাদন, শ্রদ্ধা, ভক্তি, সম্মান প্রভৃতি। মূলত গুণী ও জ্ঞানী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের গুণরাশি স্মরণ ও অনুকরণ করে স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা। বন্দনা বৌধধর্মে নিত্যপালনীয় কর্ম।
বুদ্ধ শব্দের অর্থ মহাজ্ঞানী। তিনি ছিলেন মানব-পুত্র। তাঁকে মহামানব বলা হয়। তাছাড়া তিনি অসীম গুণরাশির অধিকারী ছিলেন। ভাই তাঁর অসীম গুণের স্তুতি বা প্রশংসা করে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সুন্দর জীবন গঠনের জন্য আমরা বুদ্ধদেবকে বন্দনা করে থাকি।
মানবজীবনে বন্দনার প্রভাব অপরিসীম। বন্দনার মাধ্যমে মন পবিত্র হয়। পুণ্য লাভ হয়। চিত্ত শুদ্ধ হয়। অশান্ত মন শান্ত ও সংযত হয়। লোড, দ্বেষ এবং মোহ দূরীভূত হয়। সৎচিন্তা আসে ও ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, ইহলোকে ও পরলোকে সুখ লাভ হয়। তাই আমরা নিয়মিত বন্দনা করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
