ব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তির সকল বৈশিষ্ট্যের সামগ্রিক রূপ, যার ভিতর দিয়ে প্রকাশ পায় তার স্বাতন্ত্র্য ভাব।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তির সকল বৈশিষ্ট্যের সামগ্রিক রূপ, যার ভেতর দিয়ে তার স্বাতন্ত্র্য ভাব প্রকাশ পায়।
ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালা।
ব্যক্তিত্ব নির্ণায়ক বহু সংখ্যাক প্রশ্নমালার সমন্বয়ে এ অভীক্ষা গঠিত হয়। ব্যক্তি হ্যাঁ-না' বা 'সত্য-মিথ্যা'র সাহায্যে প্রশ্নমালার উত্তর দিয়ে থাকে। ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালার সাহায্যে কোনো ব্যক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলির মূল্যায়ন করা হয়। ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, অনূভূতি, উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও উপযোগ, মূল্যবোধ, সামাজিকতা প্রভৃতি গুণাবলি এ অভীক্ষার সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালার সাহায্যে নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা প্রমাণ করা যায়। তাই ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রশ্নমালা পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি হলো সাক্ষাৎকার পদ্ধতি।
প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা ব্যতীত ব্যক্তিত্ব পরিমাপের অন্যান্য অভীক্ষাসমূহকে অপ্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো সাক্ষাৎকার পদ্ধতি। ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের জন্য সাক্ষাৎকার পদ্ধতি বহুলাংশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ও প্রদানকারী সামনাসামনি আসেন এবং প্রত্যক্ষ কথোপকথনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। এ ধরনের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, মনোভাব প্রভৃতি সম্পর্কে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী মোটামুটি একটি ধারণা গঠনের চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রাচীনতম এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে গবেষক ব্যক্তিকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ সাক্ষাৎকার পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রে 'A' দ্বারা আদিসত্ত্বা এবং 'C' দ্বারা অতি অহমকে নির্দেশ করা হয়েছে।
ফ্রয়েডের মতে, জন্মের সময় শিশুর ব্যক্তিত্বে থাকে শুধু সুখের জন্য অচেতন তাড়না। যে কল্পিত মানসিক কাঠামোতে এই তাড়নাসমূহ অবস্থান করে ফ্রয়েড তার নাম দিয়েছেন আদিসত্তা। আদিসত্তা সবসময় সুখের জন্য তার তাড়নাগুলোর তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি পেতে চেষ্টা করে। আদিসত্তা 'সুখ ভোগের নীতি' (Pleasure Principle) অনুসরণ করে। সে শুধু সুখ ভোগ করতে চায়। সে কোনো সামাজিক রীতি, নীতি বা শিক্ষার ধার ধারে না। সে আদিম মানব মনের প্রতীক। তার মধ্যে কোনো যুক্তি নেই, বিচারবুদ্ধি নেই। আদিসত্তা নগ্ন কামনা-বাসনার প্রতিচ্ছবি।
অপরদিকে, পিতামাতা এবং সমাজ থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আমরা অর্জন করি তার ধারক ও বাহক হলো অতি অহম। এটি প্রকৃতপক্ষে দুটি উপ-অংশে নিয়ে গঠিত। একটি অংশ বিবেক (Conscience) যা কতগুলো আচরণের বিরুদ্ধে নৈতিক বাধা প্রদান করে, বিশেষত সেগুলো আদিসত্তার যৌন ও আক্রমণাত্মক তাড়না প্রকাশ করে। অতি অহমের অন্য অংশটি হলো অহম আদর্শ (Ego-ideal)। এটি হলো একজন ব্যক্তি আদর্শগতভাবে কী হতে পারে এবং কেমন আচরণ করা উচিত তার প্রতিচ্ছবি। এটি একধরনের নৈতিক নীতিকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, আদিসভা মূলত অচেতন এবং সুখনীতি; অতি-অহম হলো আংশিক চেতন এবং এক ধরনের নৈতিক নীতির সভা।
ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের জন্য যে অভীক্ষায় কোনো ব্যক্তিকে অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক বা অসংগঠিত উদ্দীপক উপস্থাপন করে এর প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে বলা হয় তাই প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা।
একই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব যদি কখনও অন্তর্মুখী আবার কখনও বহির্মুখী হয় তখন তাকে উভয়মুখী ব্যক্তিত্ব বলে।
অনেক, আধুনিক মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং-এর মতবাদের সাথে একমত নন। ব্যক্তিত্বকে তারা শুধু দুটি ভাগে ভাগ করতে রাজি নন। তাদের মতে, বেশিরভাগ ব্যক্তিই অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করে। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব সবসময় অন্তর্মুখী থাকে না আবার বহির্মুখী ব্যক্তিত্বও সবসময় বহির্মুখী থাকে না। বেশিরভাগ লোক পরিমাপের মাঝামাঝিতে পড়ে। তাই অধিকাংশ লোকই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
