চেকের আদিষ্ট হলো ব্যাংক।
চেক হারিয়ে গেলে সর্বপ্রথম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে চেকের নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদকাল, চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণ প্রভৃতি তথ্য উল্লেখপূর্বক একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। ব্যাংক বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর উক্ত চেকের টাকা পরিশোধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
উদ্দীপকে মি. ফারহানের চেকটি একটি বাহক চেক।
যে চেকের অর্থ যেকোনো ব্যক্তি বা বাহক ব্যাংকে উপস্থাপন করে সংগ্রহ করতে পারে, সেটি বাহক চেক। এ চেকে প্রাপকের নামের শেষে 'বাহককে', 'অথবা বাহককে' শব্দদ্বয় লিখা থাকে। এই চেক সাধারণত কম নিরাপদ। কারণ এ ধরনের চেকের অর্থ যে কেউ উত্তোলন করতে পারে।
উদ্দীপকে মি. ফারহান জনাব উমারের থেকে ২০ লক্ষ টাকার একটি চেক পান। চেকটিতে গ্রাহকের নাম হিসেবে মি. ফারহানের নাম লিখা ছিল। পাশাপাশি 'অথবা বাহককে' শব্দদ্বয়েরও উল্লেখ ছিল। এ চেকের অর্থ তিনি নিজে অথবা যে কেউ উত্তোলন করতে পারবে। সাধারণত বাহক চেকে এ বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ করা যায়। তাই বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় মি. ফারহানের চেকটিকে বাহক চেক বলা যায়।
মি. ওয়ালিদের চেকটি হুকুম চেক হওয়ায় তুলনামূলকভাবে এটি বেশি নিরাপদ বলে আমি মনে করি।
যে চেকে প্রাপকের নামের সামনে 'অথবা আদেশানুসারে' কথাটি লিখা থাকে, তাকে হুকুম চেক বলে। এ চেকে যার নাম লিখা থাকে ব্যাংক তাকেই টাকা দিতে বাধ্য থাকে। এ ধরনের চেক বাহক চেক থেকে নিরাপদ।
উদ্দীপকে মি. ওয়ালিদ জিমদান ফ্যাশন লি. থেকে লভ্যাংশ বাবদ একটি চেক পেয়েছেন। উক্ত চেকে লিখা ছিল 'মি. ওয়ালিদকে ৫০,০০০ টাকা প্রদান করুন'। এটি একটি হুকুম চেক। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক লেনদেন নিষ্পত্তি করতে জনাব উমার মি. ফারহানুকে ২০ লক্ষ টাকার একটি চেক দেন। উক্ত চেকটিতে গ্রাহকের নামের পাশাপাশি 'অথবা বাহককে' শব্দদ্বয় উল্লেখ ছিল। উক্ত চেকটি একটি বাহক চেক। হুকুম চেক বাহক চেকের চেয়ে বেশি নিরাপদ। কারণ বাহক চেকের অর্থ যে কেউ উঠাতে পারে। এক্ষেত্রে চেকটি চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে হুকুম চেকে প্রাপকের নাম উল্লেখ থাকে। তাই চেকে উল্লিখিত ব্যক্তিকেই ব্যাংক টাকা পরিশোধ করে। অন্য কেউ এ চেকের টাকা তুলতে পারে না। উদ্দীপকে চেকে মি. ওয়ালিদের নাম উল্লেখ থাকায় তিনি ছাড়া অন্য কেউ এ চেকের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না। সুতরাং, নিরাপত্তা বিবেচনায় মি. ওয়ালিদের চেকটিই তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।
Related Question
View Allভ্রমণকালে বিদেশে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক ভ্রমণকারীদের যে বিশেষ ধরনের চেক ইস্যু করে তাকে ভ্রমণকারীর চেক বলে।
চেকের অনুমোদন দ্বারা চেকের মালিকানা পরিবর্তন নিশ্চিত হওয়ায় চেক হস্তান্তরে চেকের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। বাহক চেক শুধু প্রদানের মাধ্যমে অনুমোদন হলেও হুকুম চেকের উল্টো পিঠে অবশ্যই বৈধ অধিকারী দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়। চেকের অনুমোদন অবশ্যই সম্পূর্ণ চেকের জন্য হয়।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদ রাসেলকে প্রথমে দাগকাটা চেক প্রদান করেন।
বাহক বা হুকুম চেকের ওপরে বাম কোণে দুটি দাগ টেনে দিলে তাকে দাগকাটা চেক বলা হয়। এ চেকের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা দিয়ে উত্তোলন করতে হয়। এ চেক লেনদেনের জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। উদ্দীপকে জনাব মাসুদ তার পাওনাদার জনাব রাসেলকে একটি চেক প্রদান করেন। চেকটি লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপদ বলে বিবেচতি হয়। দূর্ভাগ্যবশত জনাব রাসেল চেকটি হারিয়ে ফেলেন এবং মাসুদ সাহেবকে অবহিত করেন। জনাব মাসুদ রাসেলকে বিচলিত না হতে বলেন। সাধারণত, দাগকাটা চেক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা নিরাপদ। এ চেক হারিয়ে গেলেও অন্য কেউ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে না। যার কারণে জনাব মাসুদ রাসেলকে বিচলিত না হওয়ার কথা বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব মাসুদ রাসেলকে প্রথমে দাগকাটা চেক প্রদান করেন।
উদ্দীপকের জনাব মাসুদ কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম চেক হলো দাগকাটা চেক এবং দ্বিতীয় চেক হলো হুকুম চেক।
হুকুম চেকে প্রাপকের নামের পরে 'অথবা আদেশানুসারে' কথাটি লেখা থাকে। এ চেকে অবশ্যই প্রাপকের নামের উল্লেখ থাকে। ব্যাংক চেকের প্রাপককে সত্যতা যাচাই করে অর্থ পরিশোধ করে। অন্যদিকে, বাহক বা হুকুম চেকের বাম কোণে দুটি রেখা অঙ্কন করলে তাকে দাগকাটা চেক বলে।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদ একজন ঠিকাদার। তিনি পাওনাদার জনাব রাসেলকে এক লক্ষ টাকার একটি দাগকাটা চেক প্রদান করেন। জনাব রাসেল চেকটি দূর্ভাগ্যবশত হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি জনাব মাসুদকে জানালে তিনি বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। জনাব মাসুদ পরবর্তীতে জনাব রাসেলের নামের শেষে 'আদেশ অনুসারে' কথাটি লিখে নতুন একটি চেক ইস্যু করেন। জনাব মাসুদ প্রথমে দাগকাটা চেক প্রদান করেন। এ চেকের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা দিয়ে শুধু উত্তোলন করা যায়। ফলে চেকটি হারিয়ে গেলে বা চুরি হলেও অন্য কেউ অর্থ উত্তোলন করতে পারবে না। অন্যদিকে, পরবর্তীতে প্রদত্ত চেকটি হলো হুকুম চেক। এ চেকের অর্থ প্রাপক নিজেই শুধু উত্তোলন করতে পারে। তবে প্রাপকের বৈধ অনুমতিক্রমে অন্য কেউও এ চেকের অর্থ উত্তোলন করতে পারে। তবে দাগকাটা চেকের চেয়ে হুকুম চেক অপেক্ষাকৃত কম নিরাপদ। এভাবেই উদ্দীপকের দাগকাটা চেক ও হুকুম চেক ভিন্ন প্রকৃতির বলে বিবেচিত।
আমানতকারি কর্তৃক ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের লিখিত শর্তহীন নির্দেশনামাকে চেক বলে।
বিনিময় বিল হচ্ছে এমন একটি হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল যাতে কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের শর্তহীন নির্দেশ দেয়।
সাধারণত ধারে পণ্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে এ বিল ব্যবহার করা হয়। বিক্রেতা বিনিময় বিলের মাধ্যমে ক্রেতার কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অর্থ আদায় করে। মেয়াদের আগেই অর্থ সংগ্রহ করতে চাইলে বিলটি ব্যাংকে বাট্টায় ভাঙ্গানো যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!