ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করা এবং নতুন বছরের হিসাব খেলার জন্য হালখাতা অনুষ্ঠান করতেন।
পয়লা বৈশাখের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনুষ্ঠান হালখাতা। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ার কারণে ফসলের মৌসুম শেষ হলে কৃষকেরা বাকিতে সওদাপাতি সংগ্রহ করতেন এবং ফসল ওঠার সঙ্গে কৃষকের অর্থপ্রাপ্তির কারণে এই ফসল বিক্রি করে কৃষকেরা দোকানির টাকা মিটিয়ে দিতেন। তারা পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে দোকানিদের বাকি টাকা পরিশোধ করতেন। এদিন দোকানিরা গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করাতেন। হালখাতার মূল উদ্দেশ্য বকেয়া অর্থ পরিশোধ হলেও এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দোকানি ও গ্রাহক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
Related Question
View Allছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে।
হালখাতা হলো পহেলা বৈশাখে আয়োজিত অনুষ্ঠানবিশেষ।
হালখাতা অনুষ্ঠানটি করতেন ব্যবসায়ীরা। মানুষ সারাবছর ধরে বাকিতে দোকান থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করত। পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে দোকানিদের সেই বাকির টাকা মিটিয়ে দিত। হালখাতা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে দোকানিরা তাদের দোকান সাজাতেন। গ্রাহক-খরিদ্দারদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। এ সময় হাসিঠাট্টা, গল্পগুজবের মধ্যে বকেয়া আদায় এবং উৎসবের আনন্দ উপভোগ দুই-ই সম্পন্ন হতো।
চৈতির গানে বাংলা নববর্ষের পুরোনো বছরের দুঃখকষ্ট দূরীভূত হয়ে নতুন বছরে পৃথিবী যেন পূত-পবিত্র হয়ে ওঠে সে দিকটি ফুটে উঠেছে।
বৈশাখ মাসের প্রথম দিন বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। নববর্ষে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমস্ত জরা-জীর্ণ-ক্লান্তি দূর হয়ে সবার জীবন যেন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে- এই কামনা করা হয়।
উদ্দীপকের দুই বান্ধবী সীমা ও চৈতি বাংলা নববর্ষে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে চলে যায় রমনার বটমূলে। সেখানে অসংখ্য মানুষ নানা রকম সাজে সজ্জিত হয়ে এসেছে। সেখানে গিয়ে সীমা নিজের ও খালাতো বোনের জন্য জিনিসপত্র কেনে। চৈতি মনের আনন্দে গান গেয়ে ওঠে। গানের মূলকথায় পুরোনো সব দুঃখ-গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে পৃথিবী যেন শুচি-শুভ্র হয়ে ওঠে সেই প্রত্যাশা করা হয়।
বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বলা হয়েছে যে, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রধান জাতীয় উৎসব। নববর্ষ সব দেশের, সব মানুষেরই আনন্দের দিন। শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের জন্য কল্যাণ কামনারও দিন। সুখ শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়েই নববর্ষ উদযাপন করা হয়। এভাবে উদ্দীপকে প্রবন্ধের এ কল্যাণ কামনার বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধের মূল সুরটিই যেন ফুটে উঠেছে। উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে।
উদ্দীপকে নববর্ষে দুই বান্ধবী সীমা ও চৈতি রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান দেখতে যায়। মেলায় সীমার দেখা হয় তার খালাতো বোনের সাথে। সে বাড়ির সকলের খবর নেয়। ছোট খালাতো বোনের জন্য উপহার কিনে
দেয়। এ ছাড়া সীমা বাড়ির জন্য কুলা, ঝুড়ি, হাঁড়ি ইত্যাদি কেনে এবং মনের আনন্দে চৈতি গান গেয়ে ওঠে। গানটির মূলকথা হলো- সকল দুঃখ-গ্লানি, জরা দূরীভূত হয়ে পৃথিবী যেন পবিত্র ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বর্ণিত হয়েছে রমনার বটমূলের নববর্ষের আনন্দ উৎসব এবং পুরাতন সব দুঃখ-গ্লানি দূরীভূত হয়ে সবার জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠার প্রত্যাশা।
নববর্ষ প্রত্যেক মানুষেরই আনন্দ-উৎসবের দিন। শুধু আনন্দ উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের কল্যাণ কামনারও দিন। তাই সবাই সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে মহা-ধুমধামে নতুন বছরে সবার সঙ্গে নববর্ষ পালন করে। উদ্দীপকের কল্যাণ কামনার বিষয়টি এবং আনন্দ উৎসব প্রবন্ধেরও মূল সুর। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষের প্রধান অনুষ্ঠানের নাম বৈশাখী মেলা।
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব বাঙালি অভিন্ন জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে বলে বাংলা নববর্ষ আমাদের অন্যতম প্রধান জাতীয় উৎসব।
নতুন বছরের শুরুতে দিনের প্রথম প্রহরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দে মেতে ওঠে। তারা নববর্ষের দিনে জাতির মঙ্গল কামনা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পেছনে বাংলা নববর্ষ পালনের প্রেরণা সক্রিয় ছিল। কারণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাঙালি নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করেছিল। সর্বোপরি বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় উৎসব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!