অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা সংগীত, ছবি আঁকা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যাবলির সঙ্গে জড়িত শিশু-কিশোররা সাধারণত আনন্দময় পরিবেশে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। অন্যদিকে যারা এসবের সুযোগ পায় না তারা মানসিক অস্থিরতার ফলে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণেই শিশু-কিশোরদের মানসিক্ বিকাশের জন্য সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তোলা জরুরি।
উদ্দীপকের অনিকের কাজগুলো যে সামাজিক সমস্যা নির্দেশ করে তা হলো কিশোর অপরাধ।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। অনিক নবম শ্রেণির ছাত্র। সে প্রায়ই স্কুল পালিয়ে বখাটে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ায়, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ে। অনিকের এ কাজগুলোকে কিশোর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশে ৭থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙ্গে বলেই তারা কিশোর অপরাধী, যেসব অপরাধ, কিশোর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে সেগুলো হচ্ছে- চুরি, খুন, জুয়া খেলা, স্কুল পালানো, বাড়ি থেকে পালানো, পরীক্ষায় নকল করা, বিদ্যালয় ও পথেঘাটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, পকেট মারা, মারপিট করা, বোমাবাজি, গাড়ি ভাংচুর, বিনা টিকিটে ভ্রমণ, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, নারী নির্যাতন, অশোভন ছবি দেখা, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি। আমাদের দেশের কিশোর অপরাধীরা সাধারণত এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে। স্কুল পালানো, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা ও পরীক্ষায় নকল করা এসকল কাজগুলো কিশোর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। তাই অনিকের কর্মকাণ্ডগুলো কিশোর অপরাধ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় সমস্যা অর্থাৎ মাদকাসক্তি আশিকের মতো অনেকের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। - প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
মাদকাসক্তি ব্যক্তির সামাজিক ও নৈতিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব - ফেলছে। শারীরিক ক্ষতির মধ্যে একজন মাদক গ্রহণকারীর হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তার মানসিক স্বাস্থ্যও এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে। মাদক গ্রহণকারীরা হতাশা ও হীনম্মন্যতায় ভোগে। নিজেদের ক্ষতি তো এরা করেই, উপরন্তু ভয়, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার শিকার হয়ে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। পারিবারিক জীবনে মাদকের প্রভাব নানা জটিল সমস্যা সৃষ্টি করে। পরিবারের সুখ-শান্তিকে নষ্ট করে। পরিবারে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে। মাদকের টাকার যোগান দিতে গিয়ে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়। এছাড়াও হত্যা, আত্মহত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করে। মূল্যবোধের চরম অবক্ষায় দেখা দেয়। একারণে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক। তা না হলে উদ্দীপকে আশিকের মতো অনেকের জীরন ধ্বংস করে দিবে।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!