যে দলিলের মাধ্যমে কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তা-ই বন্ড।
ঝুঁকি ও মুনাফার দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ড ও শেয়ার পৃথক, কারণ শেয়ার মার্কেটের মাধ্যমে অর্থায়নে কোনোরূপ ঝুঁকি নেই কিন্তু বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে অর্থায়ন করলে বন্ডের Interest না দিতে পারার ঝুঁকি রয়েছে। আবার শেয়ার হোল্ডারগণ কোম্পানির মালিক এবং কোম্পানির লভ্যাংশ লাভ করে থাকে। তাই মুনাফার পরিমাণ বেশি হয়, অপরদিকে বন্ড মার্কেটে বন্ডের মূল্য Interest Rate উঠানামার সাথে উঠানামা করে বিধায় মুনাফার পরিমাণ কম হয়ে থাকে।
মি. রউফ ও তার বন্ধুদের অর্থায়নের উৎস নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকের মি. রউফ নিজস্ব সঞ্চয় এবং পুঁজি বাজারের মাধ্যমে অর্থায়ন করলেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস হলো মালিকের নিজস্ব সঞ্চয়। কোনো ব্যক্তি তার চলতি আয়ের সবটাই ভোগের জন্য ব্যয় করে না। সে তার চলতি আয় থেকে প্রতিমাসে কিছু না কিছু সঞ্চয় করে। এ সঞ্চয় থেকেই মূলধনের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়। আবার বড় শিল্পে যে ব্যাপক মূলধনের প্রয়োজন হয়, সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান এককভাবে এ মূলধন সরবরাহ করতে পারে না। তাই বিধি মোতাবেক বা কোম্পানি আইনের মাধ্যমে অথরিটির কাছে নিবন্ধিত হয়ে জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে অতি সহজেই এ মূলধন দীর্ঘমেয়াদের জন্য সংগ্রহ করা যায়। উদ্দীপকে মি. রউফ ও তার বন্ধুরা ব্যক্তিগত সঞ্চয় দিয়ে ব্যবসায় শুরু করলেও ব্যবসায় প্রসারের উদ্দেশ্যে পুঁজি বাজারে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রসারিত করে।
অতএব বলা যায়, মি. রউফ ও তার বন্ধুরা নিজস্ব সঞ্চয় ও শেয়ার মার্কেট থেকে অর্থায়ন করেছেন।
শেয়ার বাজার থেকে মি. রউফ ও তার বন্ধুরা যেভাবে উপকৃত হলেন তা উদ্দীপকের আলোকে নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
সহজে ঋণ সংগ্রহ: দেশে নতুন নতুন কলকারখানা ও পুরাতনগুলোর উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রয়োজন পড়ে। শেয়ার বিক্রি করে সহজেই তা করা যায়।
দীর্ঘসময়ের নিশ্চয়তা: যেকোনো শিল্পোৎপাদন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ এ প্রক্রিয়ায় অর্থ বিনিয়োগ করলে তা থেকে ফল পেতে অনেক সময় লাগে। তাই শিল্পোদ্যোক্তাদের এমনভাবে অর্থ সংগ্রহ করা উচিত যাতে তা দ্রুত পরিশোধ করতে না হয়। সেক্ষেত্রে শেয়ার মার্কেট থেকে প্রাপ্ত অর্থ সেই নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে।
খরচ হ্রাস: ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে গিয়ে মূলধন গঠনের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করলে নিয়মিত উক্ত ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু কিছু শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করলে কোনো সুদ প্রদান করতে হয় না।
অধিক মূলধন: শেয়ার বাজারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত শেয়ার বিক্রি করে অল্প সময়ে অধিক পরিমাণে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে।
জামানতমুক্ত: বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে মূলধন গঠন করলে জামানত বা গ্যারান্টি প্রদান করতে হয়, কিন্তু শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করলে কোনো জামানত প্রদান করতে হয় না।
অবশেষে আমরা বলতে পারি মি. রউফ ও তার বন্ধুরা উল্লিখিত উপায়ে উপকৃত হলেন।
Related Question
View Allপ্রয়োগগত দিক থেকে অর্থায়নকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- (১) সরকারি অর্থায়ন, (২) বেসরকারি অর্থায়ন।
ব্যাংক জনগণের অর্থ গ্রহণ করে ব্যবসায় করে। আমানত গ্রহণ করার সময় ব্যাংক তেমন কোনো বিচার-বিবেচনা করে না, কিন্তু ঋণ প্রদানের সময় নানা রকম বিচার-বিবেচনা করে ঋণ প্রদান করে। ঋণ প্রদানের সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয় তাকে Five C's দ্বারা বোঝানো যেতে পারে; যথা-Character (চরিত্র), Capacity (ক্ষমতা), Collatoral (জামানত) Contract (চুক্তি), Capital (মূলধন)।
উদ্দীপকের অনুপম বাবু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ
করেছেন। নিচে উক্ত ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমের বর্ণনা করা হলো-অর্থসংস্থানে বাণিজ্যিক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। যথা: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন শিল্পের কার্যকরী ঋণ প্রদান করে থাকে। বিভিন্ন শিল্প স্বল্প মেয়াদে চলতি সম্পদ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক থেকে এরূপ ঋণ সংগ্রহ করে। আবার অনেক সময় কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সরবরাহ করে।
কোনো কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এককভাবে এরূপ ঋণ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য প্রদান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি সোনালী ব্যাংক, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। অর্থসংস্থানে এই ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের ব্যাংক স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ
প্রদান করে। ক্ষেত্রবিশেষে এই ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে থাকে। আবার অনেক সময় কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সরবরাহ করে। পক্ষান্তরে, বিনিয়োগ ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। বিনিয়োগ ব্যাংক অবলেখকের কাজও করে থাকে। বাংলাদেশে Investment Corporation of Bangladesh (ICB) একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ব্যাংক। এই ব্যাংক পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়তাদান, পরামর্শ প্রদান, মূলধনের স্বল্পতা পূরণে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া জনগণের সঞ্চয়কে একীভূতকরণ ও তার সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করে। এই ব্যাংক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন ও উন্নয়নও করে থাকে।
সময়গত দিক থেকে অর্থায়ন তিন প্রকার, যথা : স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি।
স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় অথবা দীর্ঘদিনের জন্য বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যে অর্থায়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে। এ ধরনের অর্থায়ন সাধারণত ৭ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। সাধারণত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!