অধ্যাপক ডাল্টন সরকারি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, “সরকারি অর্থব্যবস্থা সরকারের আয়-ব্যয় এবং এদের একটির সাথে অপরটির সমন্বয় বিধানের কার্যাবলি আলোচনা করে।"
দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যসমূহের ওপর সরকার যে শুষ্ক বা কর আরোপ করে তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়।
রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসজাত পণ্য উৎপাদন নিরুৎসাহিত করতে এরূপ শুল্ক আরোপ করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই, মদ, গাঁজা প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়।
উদ্দীপকের 'B' ছকে চিহ্নিত বিষয়টি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক নানাবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যে ঋণ প্রদান করে থাকে। এসব ব্যাংক জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে, আমানতের বিপরীতে স্বল্প সুদ দেয়। আবার জনগণের গচ্ছিত এ আমানত জনসাধারণকে ঋণ হিসেবে দেয়। ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে সুদ আদায় করে। আমানত ও ঋণের সুদের হারের পার্থক্যই হলো ব্যাংকের মুনাফা। এছাড়াও ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে চেক, ব্যাংক ড্রাফট, হুন্ডি, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র ইত্যাদি সৃষ্টি করে। বাট্টা নির্ধারণ করাও এসব ব্যাংকের কাজ। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ নিরাপদে ও দ্রুত টাকা স্থানান্তর করে। সহজ উপায়ে দ্রুত গ্রাহকের টাকা স্থানান্তর করে। বন্ড, শেয়ার, ডিবেঞ্চার ক্রয়-বিক্রয় করে। এছাড়াও গ্রাহকদের বাড়িভাড়া, আয়কর, বিমার প্রিমিয়াম, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ বিল প্রভৃতি পরিশোধে সহায়তা করা এবং মূল্যবান অলংকার, দলিলপত্র গচ্ছিত রাখতেও বাণিজ্যিক ব্যাংক কাজ করে। উদ্দীপকে ছক B তে আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান ও বিনিময়ের মাধ্যম উল্লেখ আছে এসবই বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য।
তাই বলা যায়, ছক B তে বাণিজ্যিক ব্যাংক উল্লেখ আছে যা উপরে আলোচিত কার্যাবলি সম্পাদন করে।
উদ্দীপকের চিত্রে ছক 'A'-তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং 'B'-তে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিতে বিস্তর পার্থক্য লক্ষণীয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের অর্থবাজার, মুদ্রাব্যবস্থা এবং অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা প্রচলনের ক্ষমতা আছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের এরূপ কোনো ক্ষমতা নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের প্রতিনিধি ও আর্থিক পরামর্শদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটি একটি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রধানত মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এরূপ ব্যাংক সরকারি কিংবা বেসরকারি অথবা যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে বাণিজ্যিক ব্যাংক বাধ্য থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্দেশনার মুখাপেক্ষী নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোনো ব্যক্তি ব্যাংকিং সেবার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকে যে কেউ শর্তপূরণ সাপেক্ষে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের এজেন্সি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাভুক্ত একটা প্রতিষ্ঠান মাত্র।
উদ্দীপকে ছক A তে বলা আছে' দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কথা। আর B ছকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে ছক A এর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ছক B এর বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allব্যাংকসমূহকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- ১. কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ২. বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ৩. বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রচলিত মুদ্রাই দেশের 'চিহ্নিত মুদ্রা'। দেশের কাগজি মুদ্রার প্রচলন ও মুদ্রাব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ মুদ্রার অভ্যন্তরীণ ও বহির্মূল্য যাতে স্থিতিশীল থাকে তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকে।
মামুন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। দারিদ্র্য নিরসনে এর বহুবিধ কার্যক্রম রয়েছে।
মামুন তার পৈতৃক সম্পত্তি চাষাবাদের কাজে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য যে ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন সেটি হচ্ছে 'বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক'। ব্যাংক কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। হালের বলদ, বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, পানি সেচের জন্য শক্তিচালিত পাম্প, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন প্রভৃতি কাজের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে। বর্তমানে কৃষিকার্য ছাড়াও হাঁস-মুরগি ও পশুপালন, মৎস্য উৎপাদন, গুটি পোকার চাষ, ফলের চাষ, ফুলের চাষ ও কুটির শিল্পের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে মামুন তার পৈতৃক সম্পত্তি চাষাবাদের কাজে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। আর এ ধরনের ঋণ প্রদান করে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। আর মামুনের নলকূপের পানি দিয়ে যেমন গ্রামের কৃষকেরা অধিক ফসল উৎপাদন করছে তেমনিভাবে এ থেকে অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছে।
অতএব, দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রম অপরিসীম গুরুত্বের দাবিদার।
নাফিজ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ চেক, ব্যাংক ড্রাফট, হুন্ডি, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র ইত্যাদি বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে। এছাড়া বাট্টা ধার্য করে হুন্ডি বা বিনিময় বিল ভাঙিয়ে দেওয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ব্যাংক নিরাপদে এবং দ্রুত টাকা স্থানান্তর করে। এসব ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে- অর্ডার, ভ্রমণকারীর চেক, টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার প্রভৃতি সহজ উপায়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে অর্থ প্রেরণে জনগণকে সহায়তা করে। এ এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক মূল্যবান অলংকার ও দলিলপত্র গঞ্ছিত রাখার কাজ করে থাকে। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, নাফিজ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বাড়ি বন্ধক রেখে বিশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পোশাক উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। ফলে নাফিজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। পাশাপাশি সে গ্রামের প্রায় একশত লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ নাফিজ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়ায় তাদের গ্রামের অর্থনীতিতে উন্নয়ন এসেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক এভাবেই অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা দ্বারা প্রশ্নোক্ত উক্তিটির যথার্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কৃষি ও পল্লি উন্নয়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম হার শতকরা ২৫ ভাগ।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো শিক্ষা।
শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে অশিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারকে সাম্প্রতিককালে এ খাতে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসার জন্য অনুদান, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিস্তারের নতুন নতুন কার্যক্রমে যথেষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!