'জৈবিক বন্ধনের সামাজিক স্বীকৃতিই জ্ঞাতিসম্পর্ক'- উক্তিটি ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী রিভার্স-এর।
বিবাহ একজন নারী ও পুরুষের একত্রে বসবাসের বৈধতা প্রদান ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করার মাধ্যমে সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
বিবাহ হচ্ছে নারী-পুরুষের সমাজস্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে ব্যক্তি জৈবিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এটি নারী-পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য আরোপ করে। ব্যক্তি এ বন্ধনের মাধ্যমে পরিবার গঠন করে সন্তান জন্মদান করে ও তার লালন পালন করে। এভাবেই বিবাহ সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
লাউদ্দীপকে শোভার সাথে রফিক সাহেবের বিবাহটি হলো সমান্তরাল কাজিন বিবাহ।
সমান্তরাল কাজিন বলতে চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনকে বোঝায়। একই লিঙ্গের ভাই বা বোনের সন্তানরা পরস্পর সমান্তরাল কাজিন। যেমন- দুই ভাইয়ের সন্তানরা পরস্পর চাচাতো ভাইবোন আবার দুই বোনের সন্তানরা পরস্পর খালাতো ভাইবোন। চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিবাহকে বলা হয় সমান্তরাল কাজিন বিবাহ। বাংলাদেশের মুসলিম সমাজসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ধরনের বিবাহ লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে লক্ষণীয় শোভা তার চাচাতো ভাই রফিককে বিবাহ করেছে। তাদের এ বিবাহটি সমান্তরাল কাজিন বিবাহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পূর্বোক্ত বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনার উপর ভিত্তি করে বলা যায়।
পারিবারিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা ও সন্তান লালন-পালন করার জন্য উদ্দীপকের রফিক সাহেবের সাথে দিবার বিবাহটি গুরুত্বপূর্ণ। সরোরেট বিবাহ প্রথায় কোনো ব্যক্তি তার মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করে। এ প্রথাটি অবশ্য পালনীয় হয় যদি ঐ মৃত স্ত্রী কোনো সন্তান রেখে যান। এক্ষেত্রে স্ত্রীর মৃত্যুর পরপরই গোষ্ঠীদ্বয়ের মধ্যকার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। বাবা-মা সন্তান রেখে গেলে তার জন্যও এটি মঙ্গলজনক হয়।
উদ্দীপকে শোভা একটি সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করার পর তার ছোট বোন দিবা ঐ সন্তানটিকে দেখাশুনা করে। দিবার সাথে রফিক সাহেবের বিবাহ সম্পন্ন হলে উক্ত সন্তানটি যথাযথ স্নেহ পাবে। এ ধরনের বিবাহ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর ফলে পূর্বের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় থাকে এবং মা হারা সন্তান সঠিক যত্নে বড় হয়ে ওঠে পাশপাশি এ ধরনের বিবাহের ফলে সমাজে পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। অতএব, উক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সরোরেট বিবাহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে।
Related Question
View Allনৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি।
আদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!