অব্যয়ীভাব সমাস হলো এমন এক প্রকার সমাস যেখানে পূর্বপদে একটি অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই সমগ্র সমাসবদ্ধ পদের অর্থকে প্রাধান্য দেয়। 'আশৈশব' শব্দটিতে 'আ' একটি অব্যয়, যা 'থেকে' বা 'পর্যন্ত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ব্যাসবাক্য হলো 'শৈশব থেকে'। এখানে 'আ' অব্যয়টি 'থেকে' অর্থে প্রাধান্য পাওয়ায় এটি অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে। এই সমাসে সাধারণত পূর্বপদে প্রতি, উপ, আ, অনু, দূর, সু, সহ, যথ, হা ইত্যাদি অব্যয় যুক্ত হয়, যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে যেমন – সমীপে (উপকূল), অভাব (দুর্ভিক্ষ), সাদৃশ্য (উপনদী), পর্যন্ত (আজীবন), যোগ্যতা (যথাবিধি), অতিক্রম (অনতিক্রম্য), ইত্যাদি।
হর বেলা যে - - হরবোলা। এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে সমস্তপদ দ্বারা সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থ প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ, পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে ভিন্ন কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা গুণকে বোঝায়।
'মীনাক্ষী' শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো 'মীনের অক্ষীর ন্যায় অক্ষী যার'। এখানে 'মীন' (মাছ) বা 'অক্ষী' (চোখ) কোনো পদের অর্থই প্রাধান্য পায়নি। বরং, এই দুটি পদের সমন্বয়ে একটি তৃতীয় অর্থ (মাছের চোখের মতো চোখযুক্ত নারী) প্রকাশিত হয়েছে। যেহেতু এখানে পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ প্রধান না হয়ে একটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে, তাই এটি বহুব্রীহি সমাসের একটি সার্থক উদাহরণ।
'দিলদরিয়া' শব্দটি একটি বহুব্রীহি সমাস।
---
বিশ্লেষণ:
'দিল' = হৃদয়
'দরিয়া' = সমুদ্র
'দিলদরিয়া' মানে যার হৃদয় সমুদ্রের মতো বিশাল — অর্থাৎ উদার হৃদয়ের ব্যক্তি।
এখানে উল্লিখিত দুটি পদ (দিল + দরিয়া) মিলে যে অর্থ বোঝায়, তা কোনো একটি পদের নয়, বরং একটি তৃতীয় সত্তার (যার এমন হৃদয় আছে) — এটাই বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ।
---
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
Related Question
View Allসিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
সিংহ চিহ্নিত আসন- সিংহাসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
নদী মাতৃক (নদী মাতা যার) = বহুব্রীহি সমাস।
শশব্যস্ত (শশকের (খরগোশ) ন্যায় ব্যস্ত) = উপমান কর্মধারয়।
উদ্বেল (বেলাকে অতিক্রান্ত) = অব্যয়ীভাব সমাস।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!