দৃঢ়চেতা ও স্থিরপ্রতিজ্ঞ মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না।
তরুণসমাজ কোটা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করছিল।
স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে সরকারি বেশিরভাগ চাকরি বরাদ্দ ছিল নানা গোষ্ঠীর জন্য। সে সময় বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যকোটার ব্যাপক অপব্যবহার চলছিল। এমতাবস্থায় তরুণসমাজ সরকারি চাকরি পাওয়ার তেমন সম্ভাবনা দেখছিল না। তাই তারা কোটা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করছিল।
অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে দেশবাসীর আত্মত্যাগের চিত্র উপস্থাপনের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার সাদৃশ্য রয়েছে।
যুগে যুগে বিভিন্ন অপশক্তি এদেশের মানুষকে অবদমিত করে রাখতে চেয়েছে। তবে বাঙালিরাও তাদের এই অপচেষ্টাকে সফল হতে দেয়নি। সাম্য চেতনায় উদ্বুদ্ধ এ জাতি সম্মিলিত শক্তিতে সেসব অপশক্তিকে বারবার পরাভূত করেছে।
উদ্দীপকে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকে বাঙালিদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে বাঙালিরাও তাদের এই অত্যাচার-নির্যাতনকে মুখ বুজে মেনে নেয়নি। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে। একইভাবে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের ছাত্রনেতা আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা উপস্থাপন করা হয়েছে। তার এই আত্মত্যাগ আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিই ঘুরিয়ে দেয়। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।
"উদ্দীপকের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার চেতনাগত ঐক্য বিদ্যমান।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালিরা চিরকালই স্বাধীনচেতা। তা সত্ত্বেও বারবার এ জাতিকে পরাধীনতা ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। তবে দৃঢ়চেতা বাঙালি জাতি প্রতিবারই সেসব অপশক্তিকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে তারা ২০২৪-এর আন্দোলনে অংশ নেয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এদেশের মানুষের ওপর বৈষম্য করতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, তাদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও অনেক লোক প্রাণ হারায়। অবশেষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনাটি ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা। স্বৈরাচার সরকারের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ আন্দোলন গড়ে তোলে। একইভাবে উদ্দীপকের ঘটনাবর্তেও পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allকোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য অর্জিত হয় ২০১৮ সালে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটির দ্বারা দেশ সংস্কারে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্মতা বোঝানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগদান করেন। সবাই নিজেদের অবস্থান ভুলে রাস্তায় একত্র লড়াই করেছিলেন একটা উদ্দেশ্য সামনে রেখে। এভাবে আন্দোলনের সময় এমন এক ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই সবাইকে বুঝতে পারছিলেন। মানুষের মধ্যে এমন বোধ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর তৈরি হয়েছিল বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এটাই হওয়া উচিত। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের বিরুদ্ধাচরণ করে। তখন পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে ছাত্রসমাজ কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চরম দমননীতি এবং হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এতে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, গোঁতাবায়া রাজাপাকসে বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্য নিপীড়ন চালায়। শেষ পর্যন্ত তার পতন হয়।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি জাতি হলো বীরের জাতি। তারা যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণপথে লড়াই করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিরা জীবনদানেও কার্পণ্য করেনি।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য সরকার তার পোষ্য দলীয় বাহিনী ও জাতীয় বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের দ্বারা সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজার হাজার জনতা। ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে সরকার পালাতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকেও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। ফলে ডজনখানেক আহত হয়েছে। সেখানে কোনো মৃত্যুর ঘটনার কথা নেই। আবার জুলাই বিপ্লব পুরোপুরি শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ছিল। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত বিক্ষোভে এমন কোনো আভাস নেই। উপর্যুক্ত এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কারফিউ' শব্দের অর্থ সান্ধ্যআইন।
'সরকার নির্বাচন নিয়ে একের পর এক তামাশা করেছে' বলতে এখানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। এর পর থেকে এই সরকারে তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে সরকার লোক দেখানো ভোটের আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কারচুপি করে নির্বাচনে জয়ী হয়। এভাবে সরকার যে প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!