১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হয়।
উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলিম সমাজের নবজাগরণে যেসব মনীষীর অবদান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের মধ্যে সৈয়দ আমীর আলী অন্যতম। তিনি ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ৬ এপ্রিল হুগলির এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ইতিহাসে এম. এ পাস করে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলেত গমন করেন। তিনি ব্রিটিশদের কাছ থেকে মুসলমানদের দাবি-দাওয়া আদায়ে ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় Central National Mohammedan Association' নামে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি মুসলিম সমাজের উন্নয়নে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। অবশেষে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত ব্রিটিশ শাসনামলের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইতিযাসে বজ্রাভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ শাসকদের 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বঙ্গভঙ্গ। ভারতে নিযুক্ত তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তদানীন্তন বঙ্গ প্রেসিডেন্সিকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। তার এ কর্মকাণ্ডেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় লর্ড কার্জন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় হয়ে এসে বক্তাভঙ্গ কার্যকর করেন। কারণ বাংলা প্রদেশ ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিত। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় আর্থ-সামাজিক সুবিধাটি নিশ্চিত করা এবং ব্রিটিশদের Divide and Rule Policy-এর বাস্তবায়ন করার জন্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য লর্ড কার্জন বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে দুটি প্রদেশে রূপান্তরিত করেন, যা বক্তাভরণ হিসেবেই সমধিক পরিচিত। এ পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ (দার্জিলিং বাদে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ জেলাসহ) এবং আসাম নিয়ে 'পূর্ব-বাংলা ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঢাকাকে নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় এবং এর শাসনভার অর্পণ করা হয় স্যার ব্যামফিল্ড ফুলারের ওপর। কলকাতাকে রাজধানী করে অবিভক্ত বাংলার অন্যান্য অংশ নিয়ে 'বঙ্গ প্রদেশ' প্রতিষ্ঠা করা হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাই ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভজ্যেরই ইঙ্গিত দেয়।
ব্রিটিশ ভারতের এ বিভক্তি অর্থাৎ, বঙ্গভঙ্গের পেছনে প্রশাসনিক ও সামাজিক কারণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লর্ড কার্জনসহ মেকেলে, রিজলে প্রমুখ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে মূলত প্রশাসনিক কারনেই বঙ্গভঙ্গ করা হয়েছিল। তাদের যুক্তি বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ। ফলে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার বেহালদশা প্রভৃতি কারণে একজন গভর্নরের পক্ষে এই বিশাল প্রদেশের সুষ্ঠু শাসন কাজ পরিচালনা করা ছিল প্রায় অসম্ভব। এরূপ একটি বাস্তবতার মধ্যে লর্ড কার্জন দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসনিক সুবিধার জন্যই বঙ্গ প্রদেশের বিভক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পিছনে আর্থ-সামাজিক কারণও ক্রিয়াশীল ছিল বলে অনেক পণ্ডিত মনে করেন। বস্তুত কলকাতা ছিল বাংলার প্রাণকেন্দ্র। এককথায় কলকাতাকে ঘিরেই বাংলার সকল প্রকার অর্থনৈতিক, শিক্ষা, যোগাযোগ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ফলে পূর্ববাংলা থাকে চরম অবহেলিত। অর্থনৈতিক দিক থেকে কলকাতা ক্রমশ উন্নত হতে থাকে এবং পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক অবনতি ঘটে। এই অবস্থায় ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার মুসলমানদের বোঝাতে চেষ্টা করে যে, বজাভজোর ফলে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে, তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হিসেবে স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। এ কারণে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন জানায়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের পিছনে প্রশাসনিক ও আর্থ-সামাজিক কারণ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। মূলত বঙ্গভঙ্গের জন্য আর্থ-সামাজিক ও প্রশাসনিক এ দুটো কারণই যৌক্তিক ছিল।
Related Question
View Allফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কলকাতায় অবস্থিত।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলা প্রদেশকে শাসন করার যে নীতি গ্রহণ করে, তা-ই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
দ্বৈত শাসন হলো দুইজনের শাসন। এ ব্যবস্থায় বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নবাবের ওপর। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমি-জমার বিবাদ সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। লর্ড ক্লাইভের বাংলা শাসনের এ অভিনব নীতিই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত ব্রিটিশ শাসনামলের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ শাসকদের 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বক্তাভঙ্গ। ভারতে নিযুক্ত তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তদানীন্তন বা প্রেসিডেন্সিকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের জনগণকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করার মধ্যে তার এ কর্মকান্ডেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা সুদানকে শাসন করার জন্য এক সময় ঔপনিবেশিক শাসকেরা এ অঞ্চলের জনগণকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করে। একইভাবে লর্ড কার্জন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় হয়ে এসে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। কারণ বাংলা প্রদেশ ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিত। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় আর্থ-সামাজিক সুবিধাটি নিশ্চিত করা এবং ব্রিটিশদের Divide and Rule Policy-এর বাস্তবায়ন করার জন্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য লর্ড কার্জন বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে দুটি প্রদেশে রূপান্তরিত করেন, যা বজাভা হিসেবেই সমধিক পরিচিত। এ পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ (দার্জিলিং বাদে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ জেলাসহ) এবং আসাম নিয়ে 'পূর্ব-বাংলা ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঢাকাকে নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় এবং এর শাসনভার অর্পণ করা হয় স্যার ব্যামফিল্ড ফুলারের ওপর। কলকাতাকে রাজধানী করে অবিভক্ত বাংলার অন্যান্য অংশ নিয়ে 'বজল প্রদেশ' প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের জনগণকে দুটি শিবিরে ভাগ করার সাথে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভঙ্গের ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। পূর্ব বাংলার জনগণের নিকট বঙ্গভঙ্গ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা সামাজিক মর্যাদা ফিরে পায় এবং তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম তথা সার্বিক দিকে প্রগতি নিশ্চিত করার শুভ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে, যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
ব্রিটিশ ভারতে বাঙ্গ প্রদেশকে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবরা এই দুই অঞ্চলে বিভন্ত করা হলে উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মুসলমান সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে সমর্থন জানালেও কলকাতাকেন্দ্রিক উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দু সমাজ বকাভকোর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে। কারণ বক্তাভলোর ফলে তাদের অর্থনৈতিক ও পেশাগত স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাছাড়া কলকাতার বৃদ্ধিজীবী মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, বঙ্গভঙ্গের অর্থ হলো 'মাতৃভূমিকে বিভক্ত করা'। তাই বজ্ঞাভজোর প্রতিবাদস্বরূপ তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জনে স্বদেশি আন্দোলন ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাতে থাকে। বঙ্গভজ্ঞজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও হিন্দুদের প্রচণ্ড বিরোধিতায় ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে। দিল্লির রাজদরবারে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারা বজাভঙ্গ রদ ঘোষণা করে দুই বাংলাকে আবার একত্র করে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বঙ্গভজোর ফলে মুসলমানরা কিছুটা লাভবান হলেও হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরে। উভয়ের মধ্যে সন্দেহ, রেষারেষি মারাত্মক পর্যায়ে রূপ নেয়। এ বৈরী সম্পর্কের রেশ ধরেই এক সময় তারা আলাদা হয়ে যায়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে গঠিত হয়।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলা প্রদেশকে শাসন করার যে নীতি গ্রহণ করে, তা-ই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত। দ্বৈত শাসন হলো দুইজনের শাসন। এ ব্যবস্থায় বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নবাবের ওপর। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমি-জমার বিবাদ সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। লর্ড ক্লাইভের বাংলা শাসনের এ অভিনব নীতিই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!