জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের আইনসভার নাম হলো জাতীয় সংসদ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ ৩৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৩০০ জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকাসমূহ হতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। এছাড়া ৫০ টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এরা সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য সংসদ সদস্যদের ভোটে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের সরকার প্রধানের সাথে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের বেশকিছু সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান এবং শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তাকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তার নিয়োগ এবং কাজের সাথে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের মিল লক্ষণীয়।
ব্রিটেনের সরকার প্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। সংবিধান অনুযায়ী যে সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় নেতাকেই রাষ্ট্রপতি সংসদের আস্থাভাজন সদস্য বলে মনে করেন। আবার, ব্রিটেনের সরকার প্রধান আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন। তবে তিনি আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীই জাতীয় সংসদের নেতা বলে বিবেচিত হন। সংসদ নেতা হিসেবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকাই মূখ্য। সংসদের উত্থাপিত কোনো বিল পাস না হলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। তবে এতো ক্ষমতা সত্ত্বেও তার কাজের জন্য আইনসভায় তাকে জবাবদিহি করতে হয়। এই আলোচনা থেকেই উদ্দীপকের সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সাদৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বেশকিছু পদমর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান, সরকার প্রধান মন। রাষ্ট্রপ্রধান রূপে তিনি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির উর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। তিনি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মতো কর্ম করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন নামমাত্র শাসক। উদ্দীপকের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদমর্যাদা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকের রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকার সূত্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। কিন্তু বাংলাদেশে এ রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।
আবার উদ্দীপকের ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান তার কাজের জন্য আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। কেননা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কারো নিকট দায়বদ্ধ নন। তিনি আইনসভার নিকটও জবাবদিহি করেন না। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি অন্য সকল ব্যক্তির উর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন। তিনি সংবিধান অনুসারে তার ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করেন। কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া সব সময়ই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কিছু করা বা না করার জন্য তাঁকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ও উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allমন্ত্রণালয় হলো সচিবালয়ের একটি প্রশাসনিক শাখা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের - মাপকাঠি হলো সে দেশের বিচার বিভাগ কার্য সম্পাদনে কতটুকু স্বাধীন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। জনগণের মৌলিক অধিকার, সংবিধান এবং আইন সংরক্ষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরি।
উদ্দীপকের আবুল কালামের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী। তিনি হলেন শাসন ব্যবস্থার মধ্যমণি। তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়। তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধান করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারালে কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি একাধারে দলের নেতা, সংসদের নেতা, মন্ত্রিসভার মধ্যমণি, রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা এবং জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংহতির প্রতীক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আবুল কালাম 'Y' রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তিনি এমন এক সূর্য যার চার দিকে রাজনৈতিক গ্রহগুলো আবর্তিত হয়। উদ্দীপকের 'Y' এর মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা পরিচালিত হয়। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদ অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
একটি দেশের জনগণ তাদের সরকারের ওপরই সর্বোতভাবে নির্ভরশীল। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান। এ ব্যবস্থায় জনগণ প্রধানমন্ত্রীকেই তাদের মূল আশ্রয় বলে মনে করে। তার ওপর দেশের উন্নতি, অবনতিত, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন প্রভৃতি অনেকাংশে নির্ভর করে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই প্রধানমন্ত্রী এ দেশের শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যন্ত সব বিষয়ের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট। দেশের উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা তার ওপর বর্তায়। এ কারণে তৃণমূল থেকে জাতীয় সব পর্যায়েই তাকে নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। তিনি জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক সংকট প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণের পাশে দাঁড়ান, সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে ভরসা দেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের মতো সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ফলে জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদটি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন কিংবা শাসন বিভাগের কাজ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা বিচার বিভাগ কর্তৃক পর্যালোচনা করার ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক। সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষাকারী হিসেবে বিচার বিভাগ এর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকে। বিচার বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ, তাহলে তা বাতিল করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তেমনি শাসন বিভাগের কোনো কাজ সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বজায় রাখতে বিচার বিভাগ এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!