উদ্দীপকের আকবরের সংগ্রহ করা ডিমের মধ্যে ৫টি ডিম বড় আকারের ছিল। নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় হওয়ায় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটেনি।
সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে এসব বড় আকারের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে না। তাই বড় ডিমগুলো ফোটানোর জন্য রাকিবের কৃত্রিম পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত ছিল।
কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফোটানোর উল্লেখযোগ্য একটি পদ্ধতি হলো ইনকিউবেটর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে ডিমের মোটা প্রান্ত উপরের দিকে এবং সরু প্রান্ত নিচের দিকে রাখতে হয়। ডিমের মোটা প্রান্তে বায়ুকোষ থাকে। ডিম ইনকিউবেটরে রাখার ১৪ দিনের মাথায় ভ্রূণ বৃদ্ধি পেলে ডিমের দৈর্ঘ্য বরাবর অবস্থান নেয়। ১৮ দিনে বাচ্চার ঠোঁট বায়ুকোষের দিকে বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় বাচ্চা ঠোঁট দিয়ে ডিমের অন্তঃকোষীয় মেমব্রেন ছিদ্র করে বায়ুকোষে শ্বাস নেওয়া শুরু করে। এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় যদি মোটা প্রান্ত নিচের দিকে এবং সরু প্রান্ত উপরের দিকে রাখা হয়। ইনকিউবেটরে ডিম ফুটাতে হলে সর্বনিম্ন ৩৭ সে. এবং সর্বোচ্চ ৩৯ সে. তাপমাত্রা (সর্বাপেক্ষা উত্তম তাপমাত্রা ৩৮.৫ সে.) রাখা প্রয়োজন এবং আর্দ্রতা রাখা প্রয়োজন ৭০%। বৈদ্যুতিক ইনকডিবেটরে ২৪ ঘণ্টায় ৫-৮ বার ডিমগুলো ঘুরিয়ে বা নাড়াচাড়া করে দিতে হয় যাতে ডিমগুলো চারিদিকে সমানভাবে তাপ পায়, ভ্রূণের স্বাভাবিক নড়াচড়ার গতি ঠিক থাকে এবং ডিমের ভূণ ডিমের দেয়ালের সাথে আটকে না থাকে।
সুতরাং, বড় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য উদ্দীপকের আকবরের কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা উচিত ছিল।
Related Question
View Allপুলেট হলো প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন ২০/২২ সপ্তাহ বয়সের মুরগি যাকে এখনো মোরগের সংস্পর্শে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশে হাঁস পালন লাভজনক কারণ হাঁস পালনের জন্য জায়গা কম লাগে। হাঁস বছরে প্রায় ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। মুরগির তুলনায় হাঁস ৪০-৪৫টি ডিম বেশি পাড়ে। অধিকাংশ হাঁস নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করে খেতে পারে বিধায় হাঁস পালনে যত্ন, পরিচর্যা ও খরচ কম লাগে। দ্রুত চলাফেরা করতে পারে। এসব কারণে বাংলাদেশে হাঁস পালন লাভজনক।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত। এটি হাঁসের ডাকপ্লেগ ভাইরাস দ্বরা সংক্রমিত মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। হাঁসের এই রোগ ডাক হারপেস ভাইরাস-১ (DHV-1) এর সংক্রমণে হয়ে থাকে।
এ রোগে হাঁস আলো দেখলে ভয় পায়। সাঁতার কাটতে চায় না। পানি পিপাসা বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখায়। নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হয়। সবুজ ও হলুদ রঙের পাতলা মলত্যাগ করে। পালক এলোমেলো হয়ে ঝুলে পড়ে। মাথা, ঘাড় ও শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয়। পা এবং পাখা অবশ হয়ে যায়। চোখ হতে অনবরত পানি ঝরে এবং চোখের ভিতরে সাদা রঙের আবরণ পড়ে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। এ রোগে হাঁস খুঁড়িয়ে হাঁটে, ডিম পাড়া হাঁস ডিম পাড়া কমিয়ে দেয় এবং হঠাৎ মারা যায়।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলোতে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়। অর্থাৎ সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকের প্রাণী চিকিৎসক সাবিনাকে তার খামারে ডাক প্লেগ রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য করণীয় সম্পর্কে জানান।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাক প্লেগ নামক ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উক্ত রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় বিশ্লেষণ করা হলো-
i. খামারের জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ii. আক্রান্ত হাঁস অন্যত্র সরিয়ে ফেলা।
iii. মৃত হাঁস মাটিতে পুঁতে ফেলা।
iv. খামারে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা।
V. বাসস্থান নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা।
vi. পরিষ্কার পানি সরবরাহ করা।
vii. হাঁসের ঘর ফিউমিগেশন করা।
viii. বাসস্থানে ঢোকার মুখে ফুটবাথের ব্যবস্থা করা।
ix. প্রতিষেধক হিসেবে খামারে নিয়মিত ডাক প্লেগ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। হাঁসের বাচ্চাকে জন্মের ১৫-২০ দিন পর ১ম মাত্রা, ১ম মাত্রার ২৫ দিন পর বুস্টার বা ২য় মাত্রা এবং ২য় মাত্রার পর প্রতি ৫-৬ মাস অন্তর অন্তর এ টিকা দিতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ডাক প্লেগ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব।
যে সকল ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নেয় না সেগুলোই অনুর্বর ডিম।
কবুতর খুব অল্প জায়গায়, কম খরচে, উঁচুতে দেয়ালের পাশে বা ছাদের উপর বাসা তৈরি করে পালন করা যায়।
কবুতরের রোগবালাই কম হয় এবং খাদ্য খরচও কম লাগে। ৪ সপ্তাহের মধ্যেই কবুতরের বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। এরা ৫-৬ মাস বয়সে ডিম দেয় এবং মাত্র ১৮ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। কাজের অবসরে পালন করা যায় বলে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। সময়, শ্রম ও অর্থ কম লাগে বলেই কবুতর পালন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!