বাদল 'পড়ে পাওয়া' বাক্স নিয়ে বাড়িতে যেতে চায়নি ঐ বাক্সের জিনিসের ভাগ অন্যদের দিতে হবে, এই ভেবে।
না, ও উকিলই হবে'- একথা বিধুর বন্ধুরা বলেছিল বিধুর উপস্থিত বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার দিক বিবেচনা করে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে অন্যতম প্রধান চরিত্র বিধু। সে সমবয়সি বন্ধুদের তুলনায় একটু বেশি পরিপক্ক। তার দূরদৃষ্টি ও বিবেচনাবোধ সবাইকে বিস্মিত করে। মেঘের ক্ষীণ ডাক শুনে সে বলে দেয় কালবৈশাখী ঝড় হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এছাড়াও পড়ে পাওয়া বাক্সটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে কাগজে লিখে তা গাছে সেঁটে দেওয়া, বাক্সের মিথ্যা মালিক সেজে লোক এলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া, সর্বোপরি প্রকৃত মালিককে বাক্স ফিরিয়ে দেওয়ার সময়ে প্রাপ্তি রসিদ লিখে রাখা ইত্যাদি বিষয় দেখে সবাই বুঝতে পারে সে বড় হলে উকিল হবে।
উদ্দীপকের তাঁতির শেষ অভিব্যক্তি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের হারানো টিনের বাক্স ফেরত পেয়ে কাপালির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ঘটনাকে প্রতিফলিত করে।
নৈতিকতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা মানব চরিত্রের অতি আবশ্যকীয় গুণ। এই গুণ দ্বারা ব্যক্তি যেমন লাভবান হন তেমনই অন্যেরাও তার দ্বারা উপকৃত হয়। আর উপকার ভোগীরা কৃতজ্ঞতাচিত্তে তাদের স্মরণ করে।
উদ্দীপকে করিম বখশের সততা, দায়িত্বশীলতা এবং তার প্রতি বৃদ্ধ তাঁতির কৃতজ্ঞতাবোধ তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বৃদ্ধ তাঁতি জরুরি কাজে বাড়ি যাওয়ার সময় অপরিচতি ছেলে করিম বখশের কাছে তার দোকানের দায়িত্ব দিয়ে যায়। তাঁতি যথাসময়ে দোকানে ফেরত না এলেও করিম বখশ সেই দোকানের দায়িত্ব নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করে অনেক উন্নতি করে। একদিন সেই বৃদ্ধ তাঁতিকে সে খুঁজে পেয়ে তাকে সেই দোকানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে চায়। বৃদ্ধ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে করিম বখশকে বলেন- বাবা তুমি মানুষ না ফেরেশতা! উদ্দীপকের বৃদ্ধের এই কৃতজ্ঞতা 'পড়ে পাওয়া' গল্পে হারানো টিনের বাক্স ফেরত পাওয়া কাপালির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই গল্পে নির্লোভ কিশোর বালকদের চেষ্টায় অম্বরপুর চরের কাপালি তার টাকা ও গহনার বাক্সটি লেখকের বাবার কাছ থেকে ফেরত পেয়ে বলেছিল- "ঠাকুরমশাই, আপনারা মানুষ না, দেবতা।" এক্ষেত্রে তাদের উভয়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, করিম বখশ পরিপূর্ণরূপে 'পড়ে পাওয়া' গল্পে বালকদের প্রতিনিধিত্ব করে।
সততা মানব চরিত্রের অমূল্য সম্পদ। সৎ ব্যক্তিকে সবাই ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। যার মধ্যে সততা রয়েছে সে কখনো অন্যের ক্ষতি করতে পারে না। তারা কখনো অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ করে না।
উদ্দীপকে করিম বখশের সততা, মানবতা ও নৈতিক আদর্শের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। করিম বখশ একজন সৎ নির্লোভ ও মানবিকবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। বৃদ্ধ তাঁতি তাকে দোকানে বসিয়ে রেখে বাইরে গিয়ে দীর্ঘদিন ফিরে না এলেও সে দায়িত্বে অবহেলা করেনি। নিজ দায়িত্বে সেই ব্যবসায় পরিচালনা করে অনেক উন্নতি করেছে। অবশেষে সেই বৃদ্ধ তাঁতিকে বিপন্ন অবস্থায় পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছে এবং তার দোকানের ভার তাকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছে। তার এই সততা 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বালকদের সততার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। বালকরাও পড়ে পাওয়া টিনের বাক্সটি উপযুক্ত মালিকের কাছে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দিয়ে সততার পরিচয় দিয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে বালকরা কুড়িয়ে পাওয়া ডাবল টিনের বাক্সটি নিয়ে লোভের পরিচয় দেয়নি। তারা তাদের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বাক্সটি উপযুক্ত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য পরামর্শ করেছে এবং যথাযথ উপায় সন্ধানে বুদ্ধিমত্তা ও ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে। উদ্দীপকের রিম বখশের মধ্যেও অনুরূপ চেনা লক্ষ করা যায়। এই দিক থেকে তাই বলা যায় যে, করিম বখশ পরিপূর্ণরূপে 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বালকদের প্রতিনিধিত্ব করে।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!