ফ্লাজেলাবিহীন স্পোরানজিওস্পোরকে অ্যাপ্লানোস্পোর বলে।
দুটি জীব একত্রে অবস্থান করায় একটি দ্বারা অন্যটি উপকৃত হলে, এ সহাবস্থানকে মিথোজীবিতা বলে। লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক সদস্যদ্বয়ের ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের ফলে উভয়েই সুবিধা ভোগ করে। এদের অবস্থানকে মিথোজীবিতা বলা হয়। এধরনের সহাবস্থানের ফলে ছত্রাকটি জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও বিভিন্ন ধরনের খনিজ শৈবালকে সরবরাহ করে। বিনিময়ে শৈবালটি সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে যে খাদ্য প্রস্তুত করে তাতে উভয়েরই অংশীদারিত্ব বজায় থাকে।
উদ্দীপকের করোনা মহামারী সৃষ্টিকারী অণুজীবটি হলো ভাইরাস। ভাইরাস অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় বস্তু যা প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। ভাইরাসের মধ্যে জীবীয় এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করা যায়। ভাইরাস সজীব কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে, পাশাপাশি এদের মধ্যে প্রকরণ সৃষ্টি ও পরিব্যপ্তি ঘটতেও দেখা যায়। এসব জীবীয় বৈশিষ্ট্য। আবার, সজীব কোষের বাইরে ভাইরাস কোনো জৈবিক কার্যকলাপ ঘটাতে পারে না এবং এদের কোনো সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, বিপাকীয় এনজাইম কিছুই থাকে না-যেগুলো জড় বৈশিষ্ট্য। তাই, জীব ও জড় উভয় প্রকার বৈশিষ্ট্য ভাইরাসে পরিলক্ষিত হয় বলেই একে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইরিশ দুর্ভিক্ষ দ্বারা Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের আক্রমণে আলু গাছে বিলম্বিত ধ্বসা রোগের কথা বলা হয়েছে। নিচে উক্ত রোগের লক্ষণ বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ আলু গাছের উপরের অংশে দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে ভূনিম্নস্থ অংশ যেমন টিউবারও আক্রান্ত হয়। প্রথমে গাছের পাতায় ভেজা হালকা বাদামি বর্ণের ক্ষত দেখা দেয়। এ ক্ষত অংশ ক্রমে ধূসর ও পরে কালচে বর্ণ ধারণ করে। পাতার আগা ও কিনারায় রোগ শুরু হয় ও দ্রুত এটি সমগ্র পাতা ও কান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য কয়েক দিনের মধ্যে গাছের সমস্ত পাতা ঝলসে যাওয়ার মতো শুকিয়ে যায়। এ সময় তীব্র পঁচা সবজির গন্ধ ছড়াতে থাকে। শুষ্ক পরিষ্কার আবহাওয়ায় রোগের প্রকোপ কম দেখা যায় ও পাতায় বাদামি দাগ ছোট ও সীমিত থাকে। তীব্র সংক্রমণে আলুর টিউবার আক্রান্ত হয়, শুকনো মাটিতে রোগ আক্রান্ত টিউবার অস্বাভাবিক বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং শুষ্ক পচন দেখা যায়। এ ধরনের আলুর খোসা কুচকে যায় ও গাঢ় বর্ণ দেখায়। ভেজা মাটিতে আলুর টিউবারের টিস্যু নরম হয় এবং দ্রুত আর্দ্রপচন দেখা দেয়।
Related Question
View Allমিথোজীবিতা হচ্ছে দুটি ভিন্ন জীবের মধ্যে এমন একটি সহবস্থান যেখানে উভয়েই উপকৃত হয়।
বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও প্রকৃতিগত সাদৃশ্যপূর্ণ দুটি গ্যামিটের মিলনকে আইসোগ্যামী বলে। এই ধরনের গ্যামিট একই খ্যালাসে অথবা ভিন্ন ভিন্ন থ্যালাসে উৎপন্ন হতে পারে। কখনও কখনও ফিলামেন্ট বিশিষ্ট শৈবালের একই ফিলামেন্টের ভিন্ন ভিন্ন কোষে এগুলো উৎপন্ন হয়।
যেমন- Ulothrix |
উদ্দীপকে উল্লিখিত এ জীবটি শৈবাল। শৈবালের দৈহিক গঠন বিভিন্ন রকম হতে পারে। নিচে শৈবালের দৈহিক গঠনের পরিসর ব্যাখ্যা করা হলো-শৈবাল এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এককোষী শৈবাল সচল (ফ্লাজেলা থাকায়, যেমন- Chlamydomonas) বা নিশ্চল ফ্লাজেলাবিহীন, (যেমন- Chlorella) হতে পারে। অনেক প্রজাতি আছে যাদের অনেকগুলো কোষ একসাথে কলোনি হিসেবে অবস্থা করে (যেমন-Volvox)। বহু শৈবাল প্রজাতি আছে যাদের দেহ ফিলামেন্টাস। ফিলামেন্ট অশাখ হতে পারে (যেমন- Spirogyra, Ulothrix) আবার শাখান্বিত হতে পারে (যেমন- Chaetophora), কোনো কোনো শৈবালে বিশেষ জননাঙ্গ সৃষ্টি হয়। অনেক সামুদ্রিক শৈবালের দেহকে বাহ্যিকভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত দেখায়। যেমন- Sargassum। সমুদ্রে কিছু শৈবাল এতো লম্বা হয় যা স্থলভাগের কোনো কোনো উঁচু বৃক্ষের সমান বা তারও বেশি। কোনো কোনো শৈবাল দেখতে পর্ব-মধ্যপর্ব বিশিষ্ট মনে হয় যেমন- Chara। অনেক শৈবালের দেহ লম্বা পাতার ন্যায়, যেমন- Ulva।
উদ্দীপকে 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে শৈবাল ও ছত্রাককে নির্দেশ করা হয়েছে। শৈবাল ও ছত্রাকের পাশাপাশি সহাবস্থানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় লাইকেন নামক উদ্ভিদের। লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। এ ধরনের সহাবস্থানকে মিথোজীবিতা বলা হয়। সুতরাং লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক একে অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। লাইকেন উদ্ভিদে ছত্রাক চারিদিক থেকে শৈবালকে ঘিরে রেখে বাসস্থান প্রদান করে। ছত্রাক পরিবেশ থেকে পানি, খনিজ লবণ ও জলীয় বাষ্প ইত্যাদি শোষণ করে শৈবালকে প্রদান করে। আর শৈবাল মধ্যখানে বসে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে। প্রস্তুতকৃত খাদ্য শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই ভাগ করে গ্রহণ করে। এভাবে শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট লাইকেন উদ্ভিদে তারা উভয়ই একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়।
সুতরাং উদ্দীপকের A ও B দ্বারা গঠিত জীবের পারস্পরিক মিথোজীবিতা একে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সর্বদাই উপকার করে।
একটি জীবের এক সেট ক্রোমোসোমে অবস্থিত সকল জিনসহ পূর্ণাজা DNA-ই হলো জিনোম।
এক জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড এর মধ্যে যে অংশের বিনিময় ঘটে, তাকে ক্রসিংওভার বলে। মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো ক্রসিংওভার, যার ফলে জিনগত পরিবর্তন সাধিত হয়। জিনগত পরিবর্তন সাধনের ফলে সৃষ্ট জীবে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!