বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না
মূলভাব: বই ক্রয়ে সামান্য অর্থ ব্যয় হলেও তা থেকে অর্জিত জ্ঞানের মূল্য অসামান্য। আর্থিক মূল্যে নয়, সাংস্কৃতিক রুচির বিচারে বই কেনা উত্তম কর্ম।
সম্প্রসারিত ভাব: সভ্যতার প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষ জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে পৃথিবীকে বসবাস উপযোগী করে আসছে। জ্ঞান সাধনা একটা নিরন্তর ঘটনা। জ্ঞান মানুষের পরম ধন। আর জ্ঞান অর্জনের একটি অন্যতম উপায় হলো বই পড়া। বই পড়ার মাধ্যমে মানব মনের সুকুমার বৃত্তিসমূহের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মজ্জাগত চেতনা ও সৃষ্টির অবলম্বন হলো বই। সুদূর অতীতের জানা-অজানা বিষয়গুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় বই। তবে এই বইটিকে অবশ্যই সৃজনশীল ও নিরীক্ষাধর্মী হতে হবে। একটি সৃজনশীল বই জ্ঞানের আধার, চির যৌবনা ও চির অমলিন আনন্দের উৎস। বইয়ের মূল্য এত বেশি যে, পারস্য কবি ওমর খৈয়াম স্বর্গেও বই নিয়ে যেতে চেয়েছেন। আবার দার্শনিক টলস্টয় বলেছেন, 'জীবনে তিনটি বস্তুই বিশেষভাবে প্রয়োজন তা হচ্ছে বই, বই এবং বই।' কিন্তু বই কিনতে হলে বিনিময় মূল্য হিসেবে আমাদের অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেকেই একে অপচয় মনে করেন। খেয়ালের বশবর্তী হয়ে মানুষ নানা কাজে অর্থব্যয় করে থাকে, শুধু বই ক্রয়েই তাদের অনাগ্রহ। জীবনে সাফল্য লাভের জন্য কঠিন সাধনা ও কর্ম সম্পাদন করতে হয়। এ কর্মসাধনের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত মেধা, প্রচেষ্ঠা ও জ্ঞান। সামান্য অর্থ ব্যয় করে বইয়ের রাজ্য থেকে জ্ঞান অর্জন করে জীবনকে সমৃদ্ধ করা যায়। এক্ষেত্রে ব্যয়িত অর্থের তুলনায় অর্জিত জ্ঞান কয়েকগুণ বেশি মূল্যবান। এ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জগতের অন্যান্য সম্পদের সন্ধান করা যায়। তাই বইয়ের জন্য ব্যয়িত অর্থ অপচয় নয়, বরং তা জীবনের সাফল্য লাভের পাথেয়। জীবনের অধিকাংশ সম্পদই ভোগের সাথে সাথে নিঃশেষ হয়ে যায় কিন্তু একটি বইয়ের আবেদন কখনও কমে না। বই যুগের সাথে যুগের বন্ধন তৈরি করে। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমানের সাথে সংযোগ স্থাপন করে বই। বইয়ের মাধ্যমে আমরা মনের আনন্দ পেয়ে থাকি। তাই বই কেনার ব্যাপারে আমাদের অহীনা প্রকাশ করা ঠিক না। বাস্তব জগতে দেখা যায় যে জাতি যত বেশি বইপ্রেমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। বর্তমান জগতে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। বই পাঠের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধি অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য। বইয়ের মূল্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কবি বলেছেন,
"রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে
প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে
কিন্তু একখানি বই থাকবে অনন্ত যৌবনা।"
মন্তব্য: আলোকিত জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই হতে পারে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন। তাই বই কিনতে কার্পণ্য করা অনুচিত।
Related Question
View Allসমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে
"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।"
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ।
**ভাব-সম্প্রসারণ:**
এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।
আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।
এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।
এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!