হাতে কাজ করায় অগৌরব নেই, অগৌরব হয় মিথ্যায়, মূর্খতায়
মূলভাব: আত্মমর্যাদা হানির ভয়ে, মিথ্যা এবং মূর্খতার বশবর্তী হয়ে, নিজের কাজ নিজে করাকে অথবা পরিশ্রম করাকে অনেকে অমর্যাদাকর বলে মনে করেন। কিন্তু কাজ করায় কোনো অগৌরব নেই, বরং কাজ না করায় যত অগৌরব এবং অসম্মান। কাজের মাধ্যমে লোকের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের দেহে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অঙ্গসমূহের মাঝে হাত নিঃসন্দেহে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কাজের গৌরবে ধন্য আজকের এ পৃথিবীতে মানুষের 'অক্লান্ত পরিশ্রম'-এর কোনো বিকল্প নেই। আর এ পরিশ্রমের মূল হাতিয়ারই 'হাত' নামের মানবদেহে দুটি অঙ্গ। আধুনিক পৃথিবীতে পরিশ্রমের মাধ্যম হিসেবে মস্তিষ্ককে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হলেও আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে, পরিশ্রম পরিশ্রমই; তা যেভাবেই সম্পন্ন হোক না কেন, মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায়। প্রতিটি মানুষকে পরিশ্রম করতে হবে এ সত্যটি উপলব্ধি করে আজ মানুষ কাজের মাধ্যমেই অর্জন করে নিচ্ছে। মানুষের মতো মানুষ' হবার যোগ্যতা 'বড় মানুষ' হবার গৌরব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সংস্কারময়তার বেড়াজালে আবদ্ধ মানুষ কায়িক পরিশ্রমকে অসম্মানজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। প্রকৃতপক্ষে, মূর্খতাকে অবলম্বন করে কুসংস্কার এভাবে 'মিথ্যা'কে গৌরবান্বিত করে তোলার ব্যর্থ প্রয়াস চালায়। কিন্তু, আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে, মিথ্যা মিথ্যাই। অসত্য, অন্যায়, অশিক্ষার অন্ধকার 'মিথ্যা' ও 'মূর্খতার' প্রতিক্রিয়াশীল ধারার বাহক। সুন্দর জীবনের জন্য এসবের কোনোটিই আমাদের কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়। তাই, আজ আমাদের সামনে সব মিথ্যার বেড়াজাল ছিন্ন করে সামনে এগিয়ে যাবার সময় এসেছে।
উপসংহার: পরিশ্রমের মাধ্যমে, তা সে কায়িক বা মানসিক যা হোক না কেন, সব রকমের কু-সংস্কারের দেয়াল ভেঙে ফেলে পৃথিবীকে মানব সভ্যতার গৌরবময় আবাসভূমিরূপে গড়ে তুলতে পারি। মিথ্যা অহমিকায়, মূর্খতার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে শুধু কলঙ্ক বাড়ে, কষ্টে জীবন ভরে।
Related Question
View Allসমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে
"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।"
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ।
**ভাব-সম্প্রসারণ:**
এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।
আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।
এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।
এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!