“অর্থই অনর্থের মূল”
মূলভাব
অর্থ প্রয়ােজনীয় জিনিস আবার এ অর্থই বহু অনাসৃষ্টির জন্ম দেয়। পৃথিবীতে যত লােমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশের মূলেই রয়েছে অর্থ। অর্থের জন্য ভাই ভাইকে, স্বামী স্ত্রীকে খুন করতেও দ্বিধাবােধ করে না।
সম্প্রসারিত ভাব
মানবজীবনে অর্থের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য। কারণ অর্থ ছাড়া সুষ্ঠু জীবনযাপনের কথা চিন্তাও করা যায় না। মৌলিক প্রয়ােজন মিটানাে ব্যতিরেকে মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আর প্রতিটি মৌলিক প্রয়ােজন মিটানাের জন্য দরকার অর্থের। অধুনা বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল সেসব দেশই বিশ্বের নেতৃত্ব দেয়। পক্ষান্তরে, যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল সেসব দেশকে সচ্ছল দেশের নির্দেশনা মতাে চলতে হয়। শুধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই নয় সর্বত্রই এর প্রতিফলন চোখে পড়ে।
আসলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় কর্ম ও অর্থের দ্বারা সম্পন্ন হয়। আপাতদৃষ্টিতে অর্থ মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের নিয়ামক হলেও সেই অর্থই অনেক সময় অনর্থের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অর্থকে কেন্দ্র করে ভাইয়ে-ভাইয়ে, পিতা-পুত্রে ও স্বামী-স্ত্রীতে বিবাদ-বিসংবাদ, দ্বন্দ্ব-কলহ লেগেই আছে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই অনেক লােমহর্ষক ঘটনা চোখে পড়ে যার অধিকাংশই অর্থের কারণে সংঘটিত হয়। অর্থের লােভে মানুষ চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই রাহাজানি এমনকি হত্যার মতাে জঘন্য পাপাচারে লিপ্ত হয়।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দেশের চরম সর্বনাশ ডেকে আনছে কেবলই অর্থের কারণে। অর্থের লালসা মানুষের নৈতিক অধঃপতন ঘটায়। পৃথিবীতে যাবতীয় দ্বন্দ্ব, অশান্তি আর সংঘাতের মূল কারণও এ অর্থ। অর্থসম্পদের কারণেই রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যুদ্ধের উন্মাদনা দেখা দেয়, শ্রমিকমালিকের মধ্যে মতবিরােধ এবং ভাইয়ে ভাইয়ে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। অর্থের জন্যই মানুষ মানুষকে খুন করে। আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদের সেনাপতি সিমারের হাতে যে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল তার মূলেও ছিল অর্থ। সুতরাং জগতে অশান্তির মূলই হচ্ছে অর্থ।
মন্তব্য
জীবনধারণের জন্য অর্থের আবশ্যকতা থাকলেও এর মােহে কখনই নীতি ও বিবেক বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। তাই অর্থের পিছনে না ছুটে কিভাবে নৈতিকতা ও মনুষ্যত্ব অর্জন করা যায় তার পিছনে আমাদের ছুটা উচিত।
“অর্থই অনর্থের মূল”
মূলভাব : অর্থ মানবজীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একথা যেমন সত্য, তেমনি অর্থের যথাযোগ্য সদ্ব্যবহার করা না হলে তা বহু অনর্থের কারণ হয়ে থাকে। মানব জীবনের জন্য উপকারী অর্থ অপচয়ের মাধ্যমে ক্ষতির সৃষ্টি করে।
সম্প্রসারিত ভাব: জীবনের নানা কাজে অর্থের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আজীবন মানুষের প্রয়োজন মেটায় অর্থ। অর্থ না থাকলে জীবনে দুঃখ-কষ্টের শেষ থাকে না। জীবন তখন অর্থহীন বা মূল্যহীন বলে বিবেচিত হয়। তাই অর্থ সব মানুষের কাম্য বস্তু। আবার এ অর্থই সব অনর্থের মূল। অর্থ ছাড়া যেহেতু জগতে কিছুই সম্ভব হয় না, তাই এ অর্থ পাওয়ার জন্য মানুষ অমানুষের মত আচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। অর্থকে করায়ত্ত করার জন্য মানুষ অনেক সময় নির্যাতন, অত্যাচার, অবিচার এবং যে-কোনো রকমের জঘন্য কাজ করতে সংকোচ বোধ করে না। পৃথিবীতে যত দ্বন্দ্ব, কলহ, অশান্তি, মারামারি, কাটাকাটি সংঘটিত হয়; তার অধিকাংশই ঘটে অর্থের কারণে। অর্থ লিপ্সা মানুষকে পশুতে পরিণত করে। অর্থকেই জীবনের বড় সম্পদ মনে করে মানুষ মানুষকে মেরে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করে না। আবার অর্থ সম্পদ বেশি হলে তা ব্যয়ের ব্যাপারে মানুষ সংযম প্রদর্শন করে না। তখন নানারকম অন্যায় কাজেও অর্থ ব্যয়িত হয়। এর ফলে মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞান হারিয়ে চরিত্রহীন হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়। তাই দেখা যায় সামাজিক সব অন্যায়-অনাচারের পিছনে অর্থ কাজ করে। এভাবে অর্থ অনর্থ ঘটায়।
মন্তব্য : সব অনর্থের মূল হিসেবে বিবেচিত এ অর্থ সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে জগতের প্রতিটি মানুষকে।
Related Question
View Allসমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে
"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।"
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ।
**ভাব-সম্প্রসারণ:**
এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।
আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।
এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।
এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!