ভারতবর্ষে সবশেষে আগমন করে কারা? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ ফরাসিরা

ভারতবর্ষে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ এবং ইংরেজদের পর ইউরোপীয় শক্তি হিসেবে ফরাসিরা সবশেষে আগমন করে। ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের অর্থমন্ত্রী জ্যাঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (French East India Company) গঠন করেন। এই কোম্পানি ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সুরাটে তাদের প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

ফরাসিরা পন্ডিচেরি, চন্দননগর, মাহে, কারাইকাল ও ইয়ানামে তাদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। ভারতে বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে ফরাসিদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইংরেজরা। এই দুই শক্তির মধ্যে কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহের (Carnatic Wars) মাধ্যমে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত ভারতে ফরাসিদের প্রভাব হ্রাস এবং ব্রিটিশদের আধিপত্য বিস্তারে সহায়ক হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
592

Related Question

View All
উত্তরঃ

দ্বৈত শাসন বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একই ভূখণ্ডে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান থাকে এবং ক্ষমতা ও দায়িত্বের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকে। এই ব্যবস্থায় একটি কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা প্রয়োগ করলেও তার কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না, আর অন্য কর্তৃপক্ষের উপর দায়িত্ব থাকলেও প্রয়োজনীয় ক্ষমতা থাকে না।

বাংলায় দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর লর্ড ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে। পলাশীর যুদ্ধের পর এবং বক্সারের যুদ্ধের (১৭৬৪) পর এলাহাবাদের চুক্তি অনুসারে, কোম্পানি বাংলার নবাবের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের (দেওয়ানি) এবং বিচার পরিচালনার অধিকার লাভ করে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার (নিজামত) দায়িত্ব নবাবের হাতেই ন্যস্ত থাকে।

এই ব্যবস্থার ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি ক্ষমতা লাভ করে প্রচুর অর্থ আদায় করতে থাকে কিন্তু কোনো প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা বহন করত না। অন্যদিকে, নবাবের হাতে নিজামত বা প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকলেও, রাজস্বের অভাব এবং কোম্পানির হস্তক্ষেপে তিনি কার্যকরভাবে শাসন পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন। এর ফলস্বরূপ, বাংলার সাধারণ মানুষের উপর চরম শোষণ ও অত্যাচার নেমে আসে। কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কোম্পানির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই ব্যবস্থার অব্যবহিত ফল ছিল ১৭৭০ সালের (বাংলা ১১৭৬ সন) ভয়াবহ মন্বন্তর, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই মন্বন্তরে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারায়।

দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বাংলার অর্থনীতি ও সমাজে চরম অরাজকতা ও বিপর্যয় ডেকে আনে। অবশেষে, ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর হিসেবে আসার পর এই ত্রুটিপূর্ণ ও অমানবিক দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান এবং কোম্পানি প্রত্যক্ষভাবে বাংলার শাসনভার গ্রহণ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
284
উত্তরঃ

উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের ছয় দফা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ছয় দফা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে একটি মাইলফলক। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। মূলত পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। এই বৈষম্য দূরীকরণ এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ছয় দফা কর্মসূচি প্রণীত হয়।

ছয় দফার মূল বিষয়বস্তুগুলো ছিল নিম্নরূপ:

        
  • ১. ১৯৫৬ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে পাকিস্তানে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার গঠন করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আইনসভা গঠিত হবে।
  •     
  • ২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় থাকবে এবং অন্যান্য সকল বিষয় প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
  •     
  • ৩. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা প্রচলন করতে হবে অথবা এক মুদ্রা থাকলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
  •     
  • ৪. সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে থাকবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর জন্য প্রাদেশিক সরকারের তহবিলে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা গ্রহণ করবে।
  •     
  • ৫. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব রাখতে হবে এবং বহিঃবাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
  •     
  • ৬. পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি আধা-সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া গঠন করতে হবে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিধানে সক্ষম হবে।

ছয় দফা ঘোষণার পর থেকেই এটি বাঙালির মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এটিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করে। তবে এই আন্দোলনই পরবর্তীকালে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
185
উত্তরঃ

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক ফলাফল ছিল, যা সংশ্লিষ্ট সমাজ, অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনা কেবল তাৎক্ষণিক ভোগান্তিই বয়ে আনেনি, বরং এর ফলস্বরূপ দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভেদ: উক্ত ঘটনার প্রধান নেতিবাচক ফলগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অস্থিরতা এবং বিভেদ সৃষ্টি। এর ফলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও শত্রুতা বৃদ্ধি পায়, যা রাজনৈতিক ঐক্যকে দুর্বল করে তোলে। সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পায় এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র রূপ ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে, এই ঘটনা নতুন রাজনৈতিক সংকট বা সংঘাতের জন্ম দেয়, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি: উক্ত ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির ওপরও গভীরভাবে পড়েছিল। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস এবং সম্পদের অসম বন্টন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে, কৃষি উৎপাদন কমে যায় বা শিল্পক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায় এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পায়। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করে।

সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও মানবিক সংকট: উক্ত ঘটনার কারণে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। জনজীবনে অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব প্রকট হয়। অনেক ক্ষেত্রে, এর ফলে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, শরণার্থী সমস্যা এবং মানবিক সংকট দেখা দেয়। সামাজিক সম্পর্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্বেষ ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পায়। নারী ও শিশুদের ওপর এর বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থ বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: ঘটনার নেতিবাচক ফলাফল কেবল ভৌত বা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা মানুষের মনস্তত্ত্বে এবং সংস্কৃতিতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। মানুষের মনে হতাশা, ভয় এবং অনিশ্চয়তা বাসা বাঁধে। সাংস্কৃতিক চর্চা ও ঐতিহ্য ব্যাহত হয়, এবং অনেক ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং নৈতিক স্খলনও দেখা দিতে পারে, যা একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতির জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সংকটগুলি দীর্ঘকাল ধরে সমাজকে পীড়িত করে এবং উন্নয়নের গতিকে শ্লথ করে দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
190
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews