'পিনাক-পাণি' বলতে শির বা মহাদেবকে বোঝানো হয়েছে।
বাঙালি জাতিকে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত করতে কবি গ্রিক পুরাণে উল্লিখিত মহান শিল্পী অর্ফিয়াসের বাঁশির সাথে নিজের তুলনা
করেছেন।
অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী। তিনি যন্ত্রসংগীতে সকলকে মুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তা-ই নয়, সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হবে দেশবাসী। এমন ভাবনা থেকে কবি নিজেকে 'অর্ফিয়াসের বাঁশরী' বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দিকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির জ্বালাময়ী বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি তাঁর বিদ্রোহের স্বরূপ উন্মোচনে প্রয়াসী হয়েছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া শোষকগোষ্ঠী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের শোষণ-নির্যাতনে সামাজিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। তাদের অবিচারে নাভিশ্বাস ওঠে জনজীবনে। সংগত কারণেই সমাজে জেঁকে বসা এই অচলায়তনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন কবি। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন জয়ী না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সংগ্রাম চলবেই।
উদ্দীপকে ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। এই আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের অবদান ছিল চিরস্মরণীয়। তিনি প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে মাস্টার দা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং জীবনদান করেন। 'বিদ্রোহী' কবিতাতেও কবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনা প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার বিষয়টি 'বিদ্রোহী' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। উপনিবেশিক ভারতবর্ষে কবির জন্ম। সংগত কারণেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির করালগ্রাসে ভারতবাসীর চরম দুরবস্থা তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। চারদিকে অন্যায়-অত্যাচার, যেন এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে গোটা জাতি গুমরে মরছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিরাজমান বৈষম্য ও অচলায়তনকে ঘোচাতেই বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন কবি।
উদ্দীপকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের সংগ্রামী জীবন ও আত্মদানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়লে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশ বিদ্রোহী আন্দোলনে এক উজ্জীবিত প্রাণশক্তির নাম। তাঁর জীবন ও আদর্শ এই আন্দোলনকে গতিশীল করেছে। 4
অন্যদিকে 'বিদ্রোহী' কবিতাতে কবি এই একই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যেই তিনি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বিদ্রোহী সক্রিয় সত্তাকে আকাঙ্ক্ষা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, দ্রোহই একদিন পরাধীন জাতিকে পৌছে দেবে মুক্তির সীমানায়। কবি দ্রোহের সঙ্গে সঙ্গে মানবপ্রেমকেও চেতনায় ধারণ করেছিলেন। আর এই প্রেম ও দ্রোহের মৌলিক প্রেরণা ছিল সর্বাঙ্গীণ মুক্তি। যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনাদর্শের মূল লক্ষ্য ছিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
Related Question
View Allঅর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
উত্তর
বিদ্রোহী
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!