গিলক্রিস্ট জাতির সংজ্ঞায় বলেন, "জাতি হলো রাষ্ট্রের অধীন সুসংগঠিত একটি জনসমাজ।”
একটি জাতীয় জনসমষ্টি স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক সংগঠনে সংগঠিত হয়ে জাতিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ জাতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো একটি বাস্তব ও সক্রিয় চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দিক থেকে সুসংগঠিত জনসমষ্টি যারা স্বাধীনতা লাভে আগ্রহী বা স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ধারণা, মনন ও চিন্তার এক অবস্থা। জাতীয়তাবোধ কোনো জনসমষ্টিকে অন্যান্য জনসমষ্টি থেকে পৃথক করে। জাতীয়তাবোধ থেকে জন্ম নেয় জাতি। আর এ জাতীয়তাবোধ থেকেই ভারতের সর্ব উত্তরের প্রদেশ কাশ্মীরের জনগণ নিজেদের আলাদা জাতি হিসেবে দাবি করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কাশ্মীরের অধিকাংশ জনগণই মুসলমান এবং তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি কাশ্মীরের জনগণকে ভারত থেকে আলাদা ভাবতে শিখিয়েছে। কাশ্মীরের জনগণ নিজেদের ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ভিন্ন হওয়ায় তাদের ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের অধিকার ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে কাশ্মীরের জনগণ নিজেদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ এবং এদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের আলোকেই কাশ্মীরের জনগণ নিজেদেরকে ভারত থেকে আলাদা মনে করে।
উদ্দীপকে কাশ্মীরের জনগণের মধ্যে জাতীয়তার যে প্রকৃতি ঐক্য এবং সমস্বার্থ। কেননা ভৌগোলিক ঐক্য হলো জাতীয়তার প্রধান উপাদান আর কাশীীরের জনগণ একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে বিধায় তাদের মধ্যে জাতীয়তার ঐক্য লক্ষ করা যায়। কাশ্মীরের অধিকাংশ জনগণ মুসলমান হওয়ায় তাদের ধর্মীয় ঐক্য এক। আর এ ধর্মীয় ঐক্য তাদের জাতীয়তাবোধকে ব্যাপক শক্তিশালী করে। কাশ্মীরের জনগণ নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে এবং তাদের সাংস্কৃতিক ঐক্যবদ্ধ। যা তাদের জাতীয়তাবোধকে শক্তিশালী করে। এছাড়াও কাশীীরের জনগণ একই স্বার্থের জন্য ঐক্যবদ্ধ এবং তারা একই দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। এছাড়াও তাদের এ ঐক্যবদ্ধতার কারণে তাদের জাতীয়তাবোধ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। আর এ শক্তিশালী জাতীয়তাবোধ কাশ্মীরের জনগণকে স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত করছে।
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!