কোরিয়া যুদ্ধ ১৯৫০ সালে সংঘটিত হয়।
স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। এখানে দুটি পরাশক্তি ছিল। একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যটি সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই পরাশক্তিই নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য NATO ও Warsaw Pact গঠন করে। এটি ছিল স্নায়ুযুদ্ধের সময় বা স্নায়ুযুদ্ধ। একটা সময়ে এ স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব কিছুটা স্তিমিত হলেও সত্তরের দশকের শেষ দিকে আবার বৃদ্ধি পায়। এ সময়ের ঘটনাবলির মধ্য রয়েছে- ১. অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, ২. মার্কিন হস্তক্ষেপ, ৩. ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন, ৪. কম্পুচিয়া ও ভিয়েতনাম বিরোধ ৫. চীন-ভিয়েতনাম সংঘর্ষ ইত্যাদি বিরোধগুলো চলতে থাকে। অতঃপর ১৯৬২ সালে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করে ১৯৮৫ সালে রিগ্যান ও গর্ভাচেড়-এর বৈঠক হয়। ১৯৮৭ সালে আই এন এফ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে মস্কো শীর্ষ সম্মেলনের ফলে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয় এবং বিশ্বে শান্তির বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে। এটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্র দুটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত এক সময়ের বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা করা যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশক্তিগুলোর উত্থান-পতন ঘটে ও ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষে থাকলেও যুদ্ধশেষে মতাদর্শগত পার্থক্যসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক মতবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী ছিল। ধীরে ধীরে প্রায় গোটা বিশ্ব এই দুই পরাশক্তির অধীনে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিরোধ লেগেই থাকতো। মোটের ওপর দুই পরাশক্তির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব চলতে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারত ও পাকিস্তান পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রই শক্তিশালী ও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। সীমান্তে দুইপক্ষের গুলিবর্ষণের কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। তারা সচরাচর যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায় না। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের স্থায়ী বৈরিতা বিরাজ করে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের রাষ্ট্র দুটির বৈরিতার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার তুলনা করা যায়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উল্লিখিত রাষ্ট্রদ্বয়ের বৈরিতা তথা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বশান্তিকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেয় তা হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিন তথা পুরো জার্মানি মিত্রপক্ষ ভাগ করে।
নেয়। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন পায় পূর্ব জার্মানি। আর পুঁজিবাদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা লাভ করে পশ্চিম জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের রাজনৈতিক ময়দানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান সোভিয়েত ইউনিয়ন কখনো সহজভাবে মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্যোগ নেয়। ঠান্ডা লড়াইয়ে প্রাধান্য অর্জনের জন্য দুই দেশই ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমরসম্ভার সমৃদ্ধ করে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে কোরীয় উপদ্বীপ, ভিয়েতনাম, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধে (Proxy War) জড়িয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব যুদ্ধে অকল্পনীয় মাত্রায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট। ১৯৬২ সালের ১১ অক্টোবর সোভিয়েত সরকার ঘোষণা করে যে, কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে তারা সে দেশে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা কিউবায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা থেকে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছিল বলে অনেকে ধারণা করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈরিতা বিশ্ববাসীকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়।
Related Question
View Allগ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিখাইল গর্বাচেভ
মার্শাল পরিকল্পনা ও ট্রুম্যান তত্ত্বের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপ হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিনকে ৪ ভাগে ভাগ করে শাসন শুরু হয়।আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড তাদের অধিকৃত পশ্চিম বার্লিনে সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিলে রাশিয়ার স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমের সাথে পূর্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এ অবরোধ প্রায় ১১ মাস ধরে চলার পর স্ট্যালিন প্রত্যাহার করে নেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থানটি আমার পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো এবং ওয়ারশ জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে শক্তির মহড়া দিতে এবং পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রকে প্রতিহত করতে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সে সময় ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ন্যাটো সামরিক জোট। এ জোটের সব দেশ ছিল পুঁজিবাদের সমর্থক এবং সমাজতন্ত্রের বিরোধী। সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে চাপে রাখা এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।
অপরদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ারশ কোট গঠন
করে। প্রকৃতপক্ষে, ন্যাটোর কার্যাবলি চ্যালেঞ্জ করার জন্য ওয়ারশ জোট গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৫৫ সালে এ জোট গঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের যমুনা নদীর তীরবর্তী সালেমপুর ও মকসুদপুর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রামের সাথে পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো ও ওয়ারশ জোটের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত অবস্থাটি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল বলে আমি মনে করি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর লেনিন ও স্ট্যালিনের দক্ষ নেতৃত্বে সাম্যবাদ শুধু রাশিয়ায় নয়, বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। অল্প সময়ে পার্শ্ববর্তী ১৫টি রাষ্ট্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকে। অপরদিকে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই সাম্যবাদের গতিরোধ করতে গিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দেয়। স্নায়ুযুদ্ধ ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর ফলে Bipolar System প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মূল ধারণা ছিল দ্বিমেরুকরণ। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ দ্বিমেরুকরণের প্রভাব বহু বছর ধরে বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং বলা যায়, উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ- স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা হয় যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে।
গ্লাসনস্ত শব্দের অর্থ মুক্তাবস্থা বা Open Air. ১৯৯০ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, ইতিহাসে তাই গ্লাসনস্ত নামে পরিচিত। বিদ্যমান সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকবে কিনা বা এর পতনের পক্ষে-বিপক্ষে মুক্ত আলোচনার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপটি গৃহীত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!