ভারত ও বাংলাদেশের কোন কোন শিল্পের মধ্যে সাদৃশ্যতা বিদ্যমান? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্পাস বয়ন শিল্প, লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, পাট শিল্প, রেশম শিল্প, চিনি শিল্প, কাগজ শিল্প ও সিমেন্ট শিল্পে সাদৃশ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের যেসব শিল্পের মধ্যে সাদৃশ্যতা বিদ্যমান তা নিচে আলোচনা করা হলো- কার্পাস ও বয়ন শিল্পে ভারত ও বাংলাদেশ খুবই প্রসিদ্ধ। সারাবিশ্বে এ শিল্পে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। ভারতের বস্ত্রকলগুলো মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তামিলনাডুতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের বস্ত্রকলগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে কেন্দ্রীভূত। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে লৌহ আকরিক শিল্প পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চিত আছে এবং উত্তোলন হচ্ছে বিধায় এদেশের ভিলাই, রাউরকেলা, দুর্গাপুর, ভদ্রাবতী প্রভৃতি সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি লৌহ ও ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশ পাট শিল্পে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ভারতে মোট ১১২টি এবং বাংলাদেশে ২০৫টি পাটকল রয়েছে। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকায় পাটকল অবস্থিত। পাট উৎপাদনে বিশ্বে ভারত প্রথম এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক ও মাদ্রাজ রেশম শিল্পে প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের রাজশাহী, দিনাজপুর ও বগুড়াতে এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। ভারত, বাংলাদেশ চিনি শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। ভারতে চিনি দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প। ভারতে ৩১৮টি এবং বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৮টি চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারতে মোট ৭০০টি কাগজ কল আছে। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে ৮টি কাগজ ও বোর্ড শিল্প গড়ে ওঠেছে। ভারতে ১০টি বৃহৎ সিমেন্ট প্লান্ট ও পায় ৩০০টি ক্ষুদ্র সিমেন্ট প্লান্ট আছে। সিমেন্ট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে বাংলাদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন সমৃদ্ধ না হলেও দেশের কয়েকটি স্থানে চুনাপাথর আবিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে এ শিল্পে কিছুটা উন্নতি লাভ করেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উভয় দেশে বিভিন্ন ধরনের শিল্প গড়ে উঠলেও পাট, সার, কাগজ ও তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদনে, রপ্তানি বা আমদানিতে উভয় দেশের মধ্যে অধিকতর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
107

Industry

কোনো দ্রব্যের আকার বা রূপগত পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যবহার উপযোগিতা বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াই শিল্প। এটি মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কার্যাবলি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিয়ামকের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠেছে। যেমন- কাঁচামালের সহজলভ্যতা, শক্তি সম্পদ, জলবায়ু, মূলধন, শ্রমিক প্রাপ্তি, উন্নত প্রযুক্তি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি। বাংলাদেশেও। বিভিন্ন নিয়ামকের প্রাপ্যতার উপর ভিত্তি করে চিনি, সিমেন্ট, সার, তৈরি পোশাক, ওষুধ প্রভৃতি শিল্প বিকাশ লাভ করেছে। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এসব শিল্পের সাথে ভারতের শিল্পের অনেক মিল রয়েছে। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্প স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে শিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে শিল্পের বিভিন্নতা দেখা যায়, যা এ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের একটি সার কারখানা হলো যমুনা সার কারখানা

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
237
উত্তরঃ

বিনিয়োগ ছাড়া শিল্পায়ন সম্ভব নয়।'
শিল্প স্থাপনের অন্যতম নিয়ামক হলো মূলধন। মূলধন বিনিয়োগ না হলে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ প্রভৃতি যোগান দেওয়া যাবে না। এছাড়া মূলধন শিল্প স্থাপনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের হাতিয়ার। পর্যাপ্ত অর্থায়ন ছাড়া শিল্পকার্য চরমভাবে ব্যাহত হবে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
188
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি নিয়ামকের প্রভাব রয়েছে। নিচে এ শিল্প গঠনের নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র লোহা ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতির প্রধান কারণ হলো এ শিল্পের কাঁচামাল আকরিক লৌহ খনিজের আধিক্য। দেশটি লোহা ও ইস্পাত শিল্পে বেশ উন্নত। এ ধরনের শিল্প গড়ে ওঠার জন্য উক্ত দেশে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকের প্রাধান্য রয়েছে।
বর্তমানে লোহাপিন্ড উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল প্রাপ্তি, পানি ও বিদ্যুৎশক্তির সহজপ্রাপ্যতা, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, মূলধনের পর্যাপ্ততা, ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।
এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান, সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা, কয়লার পর্যাপ্ততা, উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে লোহা ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
228
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'ক' হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং 'খ' হলো জাপান। উভয় দেশই শিল্পে সমৃদ্ধ। নিচে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের শিল্পের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো-

যুক্তরাষ্ট্র একটি শিল্পসমৃদ্ধ উন্নত অঞ্চল। বিশেষ করে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, কার্পাস ও বয়ন শিল্প এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প। এর মধ্যে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র চতুর্থ এবং কার্পাস ও বয়ন শিল্পে তৃতীয়। কয়লায় পর্যাপ্ত সম্ভায় ও হ্রদ অঞ্চলে পানি ও উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থায় কারণে এদেশে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ উন্নত। যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম রাবার উৎপাদনেও শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। সমরাস্ত্র শিল্পেও এদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া মটরগাড়ি, উড়োজাহাজ, জাহাজ শিল্প, কাগজ শিল্পসহ ছোট বড় অসংখ্য শিল্প রয়েছে। জাপানও একটি শিল্পোন্নত দেশ। এদেশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। শুধু তাই নয় জাপান রাবার শিল্পে এবং বস্ত্র ও বয়ন শিল্পেও বেশ উন্নত। বিশ্ব বাজারে জাপানের কার্পাসজাত দ্রব্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। যেকোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, মেশিন, টুলস, কেমিক্যাল, টেক্সটাইল প্রভৃতি শিল্প জাপানের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে অবস্থিত। জাপানের অর্থনীতি অনেকটা শিল্প নির্ভর। মূলত লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বিখ্যাত হলেও এদেশে অসংখ্য ছোট বড় শিল্প গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বড় বড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, মোটর গাড়ি শিল্প, রেলইঞ্জিন শিল্প, যন্ত্রপাতি, ট্রাক্টর, বাইসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখা, রেডিও, ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন সেট, ক্যামেরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উভয় দেশই শিল্পসমৃদ্ধ হলেও' উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। কারণ জাপানের শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি অনেকটা আমদানিনির্ভর।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
197
উত্তরঃ

বিশ্বে প্রধান কার্পাস ও বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
322
উত্তরঃ

বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন উৎপাদনের পরিমাণ তার চেয়ে কম। সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, শক্তিসম্পদ, মূলধন, দক্ষ শ্রমিক, যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশ সারের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। তাই বাংলাদেশ সারশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
11 months ago
189
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews