ভারত বিভক্তিতে উক্ত দল দুটি অর্থাৎ কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতীয়দের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির সদস্যপদ হিন্দু-মুসলিমসহ সব ভারতীয়র জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের কিছু সিদ্ধান্তে মুসলমানরা ভিন্নমত পোষণ করে এবং তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। তুলনামূলকভাবে অনগ্রসর ভারতীয় মুসলমান সম্প্রদায়ের অধিকার আদায় ও অগ্রগতির লক্ষ্যে মুসলিম নেতারা কংগ্রেসের প্রতি হতাশা থেকে ১৯০৬ সালে পৃথক রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
জাতীয় কংগ্রেস দল ভারতীয়দের অধিকার আদায়ে নানামুখী কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ফলে ইংরেজ সরকার কংগ্রেসকে তাদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করে। প্রথমদিকে কংগ্রেস সরকারের কাছ থেকে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দাবি-দাওয়া আদায়ের চেষ্টা করে। তবে পরে এ সংগঠনটি ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। ভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭সালে ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
অন্যদিকে বিংশ শতকের শুরুর দিকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ফলে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। সাংগঠনিক ভিত্তি থাকায় মুসলমানদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় সহজ হয়। পৃথক নির্বাচনের দাবিসহ মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংগ্রাম করায় মুসলিম লীগের জনসমর্থন ক্রমশ বাড়তে থাকে। গঠনের পরবর্তী ৪০ বছরে (স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত) মুসলমানদের মধ্যে দলটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এদিকে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' (ডিভাইড অ্যান্ড রুল) নীতিসহ বিভিন্ন কারণে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 'দ্বি-জাতি তত্ত্ব' উপস্থাপন করেন। এতে মুসলিমদের পৃথক জাতি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ করে তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ভারতবাসীর মনে স্বাধিকারের চেতনার জন্ম দিয়েছিল। কিছু চেষ্টা সত্ত্বেও দুই দলের নেতাদের মতপার্থক্য শেষ পর্যন্ত দূর করা সম্ভব না হওয়ায় ভারত অনিবার্যভাবে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তির পথে এগিয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
Related Question
View Allমন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ৩ জন।
বঙ্গভঙ্গ বলতে ১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ২ ভাগে বিভক্ত করাকে বোঝায়।
প্রায় ২ লক্ষ বর্গমাইল আয়তনের বাংলা প্রেসিডেন্সিকে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম এবং বাংলা প্রদেশ নামে ২টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। ব্রিটিশ ভারতের তদানীন্তন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
উদ্দীপকে প্রণীত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
ভারতবর্ষের জনগণ ব্রিটিশ শাসনের এক পর্যায়ে তাদের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে গণআন্দোলন শুরু করে। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের পরস্পর বিরোধী দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার মহাসমস্যায় পড়ে। ভারতের এই রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্যে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এটি কার্যকর করার লক্ষ্যে ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি একটি বিল উত্থাপন করেন। এ বিলে ব্রিটিশ ভারতে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই বিলটি রাজকীয় সম্মতির মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। এটিই ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' নামে খ্যাত।
উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রের জনগণ ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন যাবৎ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে চলেছে। তাদের গণআন্দোলনে বাধ্য হয়ে শাসকগোষ্ঠী একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। শাসকগোষ্ঠীর প্রণীত নতুন আইন অনুযায়ী জন্ম হয় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। এ আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইন অর্থাৎ ১৯৪৭সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়। এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এ আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে পাকিস্তান ও ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দূরীভূত হয়।
দীর্ঘ আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন কর হয়। এজন্য এ আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দলিল। উক্ত আইন প্রণয়নের ফলে এ উপমহাদেশে রক্তপাতহীন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়াই স্বাধীন দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা, সাহিত্য ইত্যাদিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রেরণা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুটি স্বাধীন দেশের জনগণ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে।
দ্বিজাতি তত্ত্ব' হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কাউন্সিলে সভাপতির ভাষণে মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের লক্ষ্যে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন। তার মতে, হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক রীতি, জীবন পরিচালনা, সাহিত্য, ইতিহাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে দুটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং জাতীয়তার মানদণ্ডে তারা পৃথক দুটি জাতি। তার এই মতবাদটি 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!