তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি মহীসোপানের অগভীর অংশে ও দ্বীপে প্রতিহত হলে জোয়ারের তরঙ্গের চূড়া ভেঙে পড়ে এবং প্রবাহ সৃষ্টি হয়। জোয়ারের পানি খাড়ি ও মোহনা দিয়ে দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। নদীর মোহনা দেশের ভেতর ক্রমশই সংকীর্ণ। জোয়ারের পানি যতই অগ্রসর হয় ততই সংকীর্ণ ও অগভীর নদীর মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু স্থানের সংকীর্ণতার জন্য ওপরের দিকে ফুলে ওঠে এবং প্রাচীরের মতো উঁচু হয়ে অগ্রসর হতে থাকে। এরূপ জোয়ারকে বান বলে।
নদীর খরপ্রবাহ, নদীর মুখে বালির বাঁধ এবং ফানেল আকৃতির নদীর মুখ হলে বানের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত উপসাগর হলো বঙ্গোপসাগর। এ উপসাগরের তলদেশ খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ। নিচে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
(১) সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড নামে একটি গভীর গিরিখাত; (২) ৯০০ ডিগ্রি পূর্ব শৈলশিরা; (৩) মায়ানমার ও চ্যাগোস পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রখাত এবং (৪) কতিপয় নিমজ্জিত চরাভূমি। তবে এসবের মধ্যে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি অত্যন্ত গভীর ও খাড়া সামুদ্রিক গিরিখাত এবং উপকূল থেকে ২৪ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের এই সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডের অবস্থানের জন্য পার্শ্ববর্তী উপকূলে বাহিত পলি মাটি সর্বদা গভীর সমুদ্রে জমা হচ্ছে।
এ কারণে উক্ত এলাকায় নতুন বদ্বীপের গঠন ক্রিয়ায় বাঁধার সৃষ্টি হয়।
বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের গভীরতা সর্বত্র ২০০ মিটারের কম।
দক্ষিণ-পূর্বাংশের মহীসোপান খুবই চওড়া। উপকূলীয় মহীসোপানের মধ্যভাগের এক বিশাল অংশের গভীরতা ২০০ থেকে ২০০০ মিটার।
তবে দক্ষিণাংশের গভীরতা ২০০ থেকে ৪০০০ মিটারের মতো।
সার্বিক আলোচনায় বলা যায় বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূমিরূপ
উদ্দীপকের শেষ লাইনের উপসাগরটি বঙ্গোপসাগর যা বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।
বঙ্গোপসাগরে অর্থাৎ বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকারের কারণে এদেশে অধিকসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। ঘূর্ণিঝড় প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে অন্যতম। এটি কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ ও চারপাশে ঊর্ধ্বচাপ বিরাজ করে। এ ঘূর্ণিঝড় ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক ও চৈত্র-বৈশাখ মাসে সংঘটিত হয়। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে এদেশে অধিকসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। আর এ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় অর্থাৎ প্রাণ ধ্বংসকারী দুর্যোগটি সংঘটিত হয় বঙ্গোপসাগরের ফানেলাকৃতির কারণে। এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটনের ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বিপুলসংখ্যক প্রাণঘাতীসহ ব্যাপক আকারে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদাদির ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, টেকনাফসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে।
বিশ্বের খুব কমসংখ্যক সমুদ্র এলাকায় বছরে নির্দিষ্ট সময় এমন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত উপসাগরটি অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।
Related Question
View Allমহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান।
সমুদ্রের গভীরে গর্তসদৃশ বিষয়টি গভীর সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের l
পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক পাতের সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাতের উদ্ভব হয় বিধায় প্রতিটি গভীর সমুদ্রখাত পাত সীমানায় অবস্থিত। এ পাত সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত যার ভূমিরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরের মহীঢাল এলাকায় খাড়া ঢাল বিশিষ্ট অবস্থানজনিত একটি গভীর নিমগ্ন খাত রয়েছে। এটি প্রায় ১২ কিমি. চওড়া এবং প্রায় ১২৭০ মিটার গভীর। এছাড়া প্রচন্ড ঢেউয়ের প্রভাবে পলল মহীসোপান জমা হয়ে চরাভূমি গঠন করে।
বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড নামে একটি গভীর গিরিখাত; ৯০ ডিগ্রি পূর্ব শৈলশিরা, মায়ানমার ও চ্যাগোস পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রখাত ও কতিপয় নিমজ্জিত চরাভূমি। বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের গভীরতা সর্বত্র ২০০ মিটারের কম। দক্ষিণ-পূর্বাংশের মহীসোপান খুবই চওড়া।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। নিচে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো-
বঙ্গোপসাগরের তলদেশ নানা ধরনের সম্পদে সমৃদ্ধ। এ সাগরের তলদেশ খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধশালী। সম্প্রতি বাংলাদেশের উপকূলীয় মহীসোপান অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রচুর খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাগরের অনেক স্থানে আবার মূল্যবান লোহা, সিসা, তামা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মৎস্য সম্পদেও এ এলাকা সমৃদ্ধশালী। এখানকার মৎস্য সম্পদের মধ্যে লাক্ষা, রূপচান্দা, চান্দা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, হাঙ্গর, কোরাল, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের প্রান্ত পর্যন্ত অঞ্চলকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
পানি ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, তাই জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীবজগতের ওপর পানিচক্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। পানিচক্রের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় সূর্যের তাপশক্তি দ্বারা। বাষ্পীভবন ও বর্ষণ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বাষ্পীভবন বেশি হলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। এ বৃষ্টিপাত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীজগতের ওপর প্রভাব রাখে। তাই বলা যায়, জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!