উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম হযরত মুয়াবিয়া (রা)।
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের চারজন পুত্র পরবর্তীতে খলিফা হওয়ায় তাকে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলা হয়।
আবদুল মালিকের চার পুত্র আল ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রি.), সুলাইমান (৭১৫-৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.) পরবর্তীকালে খলিফা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা উমাইয়া বংশকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।" এ কারণে আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলা ভাষার দাপ্তরিক ব্যবহার আব্দুল মালিকের রাষ্ট্রীয় কাজে আরবি ভাষা প্রচলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
খলিফা আব্দুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পূর্ব থেকে চালুকৃত ফারসি, সিরীয় ও গ্রিকসহ প্রচলিত বিভিন্ন ভাষার উচ্ছেদ সাধন করে আরবিকে রাষ্ট্র ভাষায় মর্যাদাদান করেন। এর বাস্তবায়ন ও সর্বত্র আরবির প্রচলন সহজসাধ্য ছিল না। কেননা আরবি ছিল বেদুইনদের ভাষা, তা সত্ত্বেও, আরবি ভাষায় উৎকর্ষ সাধন, আরবিকে বিশ্বজনীন ভাষায় রূপান্তরের সুকঠিন কাজটি তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন। উদ্দীপকেও এ ঘটনার দৃশ্যপট অকিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাষাকে অফিস-আদালতের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেয়। তাছাড়া বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে। অনুরূপভাবে আব্দুল মালিকও সালিহ বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলমানের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ফলে সিরিয়া ও ইরাকের প্রদেশসমূহে আরবি ভাষায় সরকারি কার্য ও হিসাবপত্র লিপিবদ্ধ রাখার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। পরে মিসর ও পারস্যেও আরবি ভাষা সরকারি ভাষার মর্যাদা লাভ করে। এ ব্যবস্থায় সাম্রাজে অনারব অমুসলমানগণ কর্মচ্যুত হলে তাদের স্থলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে আরব মুসলমানগণ নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এতে আরব মুসলমানগণের প্রশাসনিক প্রতিভা বিকাশের পথ সুগম হয়। পি.কে. হিস্ট্রি বলেন, "এই যুগেই প্রশাসনের জাতীয়করণ বা আরও স্পষ্ট করে বললে আরবীয়করণ হয়।" তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলা ভাষায় দাপ্তরিক ব্যবহারের সাথে আব্দুল মালিকের আরবি ভাষায় জাতীয়করণের সাথে মিল রয়েছে।
আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিতে আব্দুল মালিক অসামান্য অবদান রাখেন।
আব্দুল মালিকের খেলাফতারোহণের পূর্বে ইরাক ও অন্যান্য প্রাচ্য দেশে ফারসি বা পাহলভি ভাষায় সিরিয়া, ট্রান্সজদান ও অন্যান্য, উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে গ্রিক ও সিরিয়া এবং মিশর ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য এলাকাতে কোবতি ভাষায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। খলিফা বিজাতীয় প্রভাব হতে সাম্রাজ্যকে মুক্ত করা এবং বিজাতীয় প্রভাব হতে সাম্রাজ্যকে মুক্ত করা এবং আরবি ভাষার মর্যাদা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার মানসে আরবিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির স্বার্থে সরকারি অফিস আদালতের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকও আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্রে চালুকৃত বিভিন্ন ভাষার পরিবর্তে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদান করেন। ফলে আঞ্চলিক ভাষাসমূহের পরিবর্তে অফিস-আদালতে দলিলপত্রাদি আরবি ভাষায় রক্ষিত হওয়ার নিয়ম চালু হয়। সমগ্র মুসলিম সাম্রাজ্যে একই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রচলিত হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ভাষা প্রচলিত হওয়ার শাসনকার্যে যে সমস্যা দেখা দিত তার বিলুপ্ত ঘটে। বিশুদ্ধ আরব শাসন প্রচলিত হওয়ায় আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এ ব্যবস্থার ফলে সমগ্র অনারব মুসলমানরা চাকরিচ্যুত হলেন এবং তদস্থলে আরব মুসলমানগণ নিযুক্ত হলেন। সর্বোপরি, আরবি ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করার ফলে গোটা সাম্রাজ্যে এটি প্রচলিত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, খলিফা আব্দুল মালিক আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে আরবি ভাষা প্রচলনের মাধ্যমে অসামান্য অবদান রাখেন।
Related Question
View Allকুব্বাতুস-সাখরা' হলো উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যেটি 'Dome of the Rock' নামে পরিচিত।
খলিফা আবদুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং রাষ্ট্রে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দান করেন অর্থাৎ আরবি ভাষা জাতীয়করণ করেন।
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের রাজত্বকাল উমাইয়া বংশের সবচেয়ে গৌরবময় যুগ। তার শাসননীতি মূলত আরব জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশের জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি শাসনক্ষমতায় বসে দেখলেন যে আরব মুসলিমরা রাজ্যশাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠীই উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে। ফলে আরব মুসলিম শাসননীতি কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণেই খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষাকে জাতীয়করণ করেন।
উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ।
মুদ্রা হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু আবদুল মালিকের পূর্বে আরবদের কোনো নিজস্ব মুদ্রা ছিল না। ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। এই সংস্কারেরই প্রতিফলন ঘটেছে রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কারের ক্ষেত্রে। রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের সংস্কারের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যে তিন ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিল। যেমন-বাইজান্টাইনে Dinarious, পারস্যে Darkmah এবং দক্ষিণ ইয়েমেনে Athene নামক মুদ্রা চালু ছিল। এতে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল ছিল না। মুদ্রা বিনিময়ের সমস্যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসুবিধা দেখা দিত। এছাড়া মুদ্রার ছাপ ও মূল্য নির্ণয় একেবারে অনির্ধারিত থাকায় বাজারে অনায়াসে জাল মুদ্রা প্রচলিত হতো। এসব কারণে খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলনের জন্য ৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্কে জাতীয় টাকশাল গঠন করেন। তিনি দিনার, দিরহাম ও ফালুস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রার প্রচলন করেন। মুদ্রাগুলোকে জাতীয়করণ ও আরবীয়করণের জন্য মুদ্রায় ব্রুসের পরিবর্তে আরবি বর্ণমালা লেখা হয়। সুতরাং বোঝা যায়, রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আবদুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটি যথার্থ।
ইসলামের ইতিহাসে রাজেন্দ্র নামে পরিচিত আবদুল মালিক উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা বলে উমাইয়া সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এ বলিষ্ঠ চরিত্রের মন ছিল শিল্পানুরাগী। তার মার্জিত রুচিবোধের সামান্য * প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের রাজার মধ্যে। উদ্দীপকের রাজা আলমগীর সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন। স্থাপত্য শিল্পে তার এ অবদান সকলের দৃষ্টি কাড়লেও এগুলো আবদুল মালিকের অবদানের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আবদুল মালিক শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নির্মাতা হিসেবে তার কৃতিত্ব অপরিসীম। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে সামরিক শহর 'ওয়াসিত' ও আল আকসা মসজিদ তার স্থাপত্য কীর্তির উজ্জ্বল নিদর্শন। তবে স্থাপত্য শিল্পে তার সবচেয়ে বড় কীর্তি হচ্ছে 'কুব্বাতুস সাখরা' বা Dome of the Rock নামক একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা ইবনে জুবায়েরের শাসনাধীন মক্কার কাবাগৃহের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবদুল মালিক ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে একটি স্থাপত্য কীর্তি নির্মাণ করেন। এটি ছিল মহানবি (স)-এর মিরাজের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র পাথরের ওপর নির্মিত অষ্টাকোণাকৃতির স্থাপত্য শিল্প। এছাড়া তিনি দামেস্কে মহাফেজখানা বা সরকারি দলিল-দস্তাবেজখানা স্থাপন করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকের রাজা স্থাপত্য শিল্পে যে উন্নয়ন করেছেন তার চেয়ে খলিফা আবদুল মালিকের অবদান অনেক বেশি।
আমির মুয়াবিয়াকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়।
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের চারজন পুত্র পরবর্তীতে খলিফা হওয়ায় তাকে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলা হয়।
আবদুল মালিকের চার পুত্র আল ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রি.), সুলাইমান (৭১৫-৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.) পরবর্তীকালে খলিফা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা উমাইয়া বংশকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।" এ কারণে আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!