হাড়ের মতো শক্ত ডাল ফেড়ে সবুজ পাতা বেড়ে ওঠে।
১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের জন্য এ দেশবাসীর প্রাণ ডুকরে কেঁদে ওঠে।
১৯৫২ সালের ফাগুন মাসেই এদেশের ছাত্রসমাজ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রাণ বিসর্জন দেয়। ফাগুনের সমস্ত সৌন্দর্য ও রূপবৈচিত্র্য মুহূর্তেই শোকের সাগরে পরিণত হয়। তাই কবি বলেছেন, "কান্নারা সব ডুকরে ওঠে মনে।"
উদ্দীপকের টোকাই লখার মাঝে 'ফাগুন মাস' কবিতার মাতৃভাষাপ্রীতির দিকটি ফুটে উঠেছে।
মনের ভাব প্রকাশ এবং যোগাযোগ রক্ষার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ভাষা। তবে মাতৃভাষার মাধ্যমে যদি মনের ভাব ও যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, তাহলে তার মর্যাদাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উদ্দীপকের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে লখা বাকপ্রতিবন্ধী হলেও ভাষাশহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য সেও শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিতে যায়। সে বোবা হওয়া সত্ত্বেও গাওয়ার চেষ্টা করে একুশের অমর গানটি। তার আঁ-আঁ গোঙানো আওয়াজে বাংলা ভাষাপ্রেমের চেতনাটি ফুটে ওঠে। 'ফাগুন মাস' কবিতায় দেখা যায়, বসন্তের আনন্দ ও অনুপ্রেরণা বাঙালিদের মনে স্নান হয়ে গেছে। কারণ ফাগুন মাসে 'রাষ্ট্রভাষা' হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এদেশের ছাত্ররা শহিদ হন। তাঁদের শোক আমাদের মনে অভিনব সাহস ও প্রেরণা জোগায় এবং আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পেয়ে ধন্য হই। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের লখার মাঝে 'ফাগুন মাস' কবিতায় বাংলা ভাষার চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকটি 'ফাগুন মাস' কবিতার আংশিক ভাবের ধারক।"-মন্তব্যটি যথাযথ।
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে এদেশের যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ সংগ্রামী মনোভাব নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করতে থাকে। সালাম, জব্বার, রফিক, বরকতসহ নাম না-জানা অনেকেই শহিদ হন। অবশেষে বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা।
উদ্দীপকের লখা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে যায়। বোবা হওয়ার কারণে লখা অমর একুশের গান গাইতে পারে না। তবুও তার গোঙানো আওয়াজে বাংলা ভাষার চেতনা ফুটে ওঠে। 'ফাগুন মাস' কবিতায় বসন্তের সঙ্গে শোকের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য এদেশের ছাত্রসমাজ প্রাণ দেয়, বুক খালি হয় অনেক মায়ের। তবুও সমস্ত মানুষ শোক ভুলে সাহসী চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়।
উদ্দীপকে টোকাই লখার মাঝে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী অনুভবে প্রকাশিত হয়েছে। পক্ষান্তরে 'ফাগুন মাস' কবিতায় ভাষাগত চেতনার দিকটিই শুধু বর্ণিত হয়নি, বরং তৎকালের নানা ঘটনা উঠে এসেছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ফাগুন মাস' কবিতার আংশিক ভাবের ধারক। সুতরাং মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allআমার পঠিত 'ফাগুন মাস' কবিতার প্রথম চরণে ফাগুনকে ভীষণ দস্যি মাস বলা হয়েছে।
ফাগুন মাস ভাষাশহিদদের স্মৃতিবিজড়িত বলে এ মাসে দুঃখী গোলাপ ফোটে।
'ফাগুন মাস' কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে শোক ও বেদনার গভীর অনুভূতি। এ মাসে আমরা ভাষাশহিদদের জন্য অনুভব করি দুঃখ ও মমতা। তাঁদের আত্মদানে একই সঙ্গে আমরা দুঃখী ও সাহসী হয়ে উঠি। আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই গোলাপ ফুলের মতো একেকটা শহিদ মিনার জেগে ওঠে। এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কবি বলেছেন 'ফাগুন মাসে দুঃখী গোলাপ ফোটে।'
চিত্রকর্মটিতে আমার পঠিত 'ফাগুন মাস' কবিতার বিষয়গত মিল রয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলন ও ভাষার জন্য আত্মত্যাগের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
একুশের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গভীর তাৎপর্যময় ঘটনা। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা পায়।
উদ্দীপকের চিত্রটি আমাদের ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ চিত্রে মাতৃভাষার বর্ণমালা দেখতে পাই যা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অহংকার। 'ফাগুন মাস' কবিতায় কবি ফাগুন মাস কেন আমাদের হৃদয়ে চির অম্লান তার বর্ণনা দিয়েছেন। ফাগুন মাসের ৮ তারিখ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং অনেকে প্রাণ দেন। মাতৃভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ তা কবিতার শেষ কয়টি চরণে' উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় উদ্দীপকের চিত্রটি ও পঠিত 'ফাগুন মাস' কবিতা ভাষা আন্দোলন ও আত্মত্যাগের দিকের সঙ্গে অভিন্ন হয়ে উঠেছে।
"চিত্রকর্মটি 'ফাগুন মাস' কবিতার ভাবকে ধারণ করেছে।"-মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
বীর বাঙালি জাতি তাদের প্রিয় মাতৃভাষার শত্রুদের প্রচণ্ড সাহস নিয়ে রুখে দিয়েছিল। এদেশের সাহসী সন্তানেরা যেভাবে সংগ্রাম করেছিল সেটা অতুলনীয়। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি বিভিন্ন সংগ্রামে বিজয়ী হয়।
'ফাগুন মাস' কবিতায় বলা হয়েছে বাংলা মায়ের সাহসী সন্তানরা জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যার জন্য আমরা আজ বাংলায় কথা বলতে পারছি। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অসীম ভালোবাসার কারণেই তাঁরা এ রকম আত্মত্যাগ করতে পেরেছিলেন। উদ্দীপকের চিত্রকর্মটি দেখে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে শিশুরা জানতে আগ্রহী হবে এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুনলে তাদের মধ্যেও আত্মত্যাগের মতো মহৎ অনুভূতি জাগ্রত হবে।
উদ্দীপকের চিত্রকর্মটি ভাষার জন্য আত্মত্যাগের বিজয়গাথা এবং বাঙালি জাতির অহংকারের প্রতীক। এভাবেই উদ্দীপকের চিত্রকর্মটি 'ফাগুন মাস' কবিতার ভাবকে ধারণ
'ফাগুন মাস' কবিতার রচয়িতা হুমায়ুন আজাদ।
ফাগুন মাসে গাছে গাছে সবুজ রঙের নতুন পাতা গজায়। এই সবুজের সমারোহকেই 'সবুজের আগুন' বলা হয়েছে।
বসন্ত ঋতুর প্রথম মাস ফাগুন বা ফাল্গুন। এ মাসে গাছে গাছে সবুজ রঙের নতুন পাতা গজিয়ে ওঠে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফোটে অসংখ্য লাল, ফুল। 'সবুজের আগুন' বলতে কবি বসন্ত প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহকেই বুঝিয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!