ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের পাঁচটি সুবিধা বর্ণনা করুন।

Updated: 1 week ago
উত্তরঃ

দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বঙ্গোপসাগরের শীর্ষে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'কৌশলগত সেতু' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই অনন্য অবস্থানের পাঁচটি প্রধান সুবিধা নিচে বর্ণনা করা হলো:

i) আঞ্চলিক সংযোগ ও ট্রানজিট হাব: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য, স্থলবেষ্টিত নেপাল এবং ভুটানের জন্য সমুদ্রের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশ কাজ করে। ট্রানজিট ও করিডোর সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই ট্রানজিট সুবিধা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দূরত্ব ও পরিবহন খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে এনেছে। একই সাথে নেপাল ও ভুটানের সাথে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব গতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক গেটওয়েতে পরিণত করছে।

ii) ব্লু-ইকোনমি ও বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ: বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা জয়ের পর বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ মৎস্য, খনিজ ও তেল-গ্যাস আহরণের আইনি অধিকার পেয়েছে। এই বিশাল জলসীমার একচ্ছত্র অধিকার আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের মেরিটাইম সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করেছে। সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ভারী খনিজ বালু এবং গ্যাস হাইড্রেটের মজুদ দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সমুদ্র রাজনীতিতে বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

iii) পরাশক্তিদের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ: কৌশলগত অবস্থানের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান এবং রাশিয়া প্রত্যেক পরাশক্তিই বাংলাদেশে তাদের প্রভাব ও অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায়। এর ফলে বাংলাদেশ 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' এবং 'ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্যাটেজি' উভয় পক্ষ থেকেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সুবিধা লাভ করছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এই সমীকরণকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কোনো একক পরাশক্তির অক্ষের দিকে ঝুঁকে না পড়ে একটি সুনিপুণ ভারসাম্যমূলক কূটনীতি বজায় রাখছে। এর সুফল হিসেবে দেশের বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোতে পশ্চিমা প্রযুক্তির পাশাপাশি এশীয় পরাশক্তিদের কাছ থেকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক শর্তে বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

iv) এনার্জি হাবে রূপান্তরের সুযোগ: গভীর সমুদ্রে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান 'এনার্জি হাব' বা জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে পারে, যা ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে। মাতারবাড়ীর এই টার্মিনালগুলো কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের সমাধান করছে না, বরং ক্রুড অয়েল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের এক বিশাল আঞ্চলিক ডিপো হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা বা মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে এই জ্বালানি পুনঃরপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হওয়ায়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো 'এনার্জি গ্রিড'-এর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাংলাদেশের কৌশলগত সুবিধার অধীনে চলে আসবে।

v ) উপ-আঞ্চলিক জোটে নেতৃত্ব: বিমসটেক এবং সার্ক-এর মতো আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক ফোরামগুলোতে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে পারে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করে তুলেছে। বিমসটেকের মাধ্যমে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং যৌথ মেরিটাইম নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে বাংলাদেশ এখন নীতি-নির্ধারণী নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হচ্ছে, যা বিশ্বমঞ্চে দেশের কূটনৈতিক মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

8

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বনায়ন একটি প্রাকৃতিক ও দীর্ঘস্থায়ী ঢাল হিসেবে কাজ করে। নিচে এর ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  • গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ ও কার্বন সিঙ্ক: বনায়নের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ব্যাপক বনায়ন বৈশ্বিক কার্বন ক্রেডিট বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির পথ সুগম করে, যা পরিবেশগত সুফলের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক। তাছাড়া, নিবিড় বনভূমি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে প্রাক-শিল্পযুগের ভারসাম্যপূর্ণ জলবায়ু ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের গতিবেগ হ্রাস: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন 'সুন্দরবন' সিডর, আইলা, আম্পানের মতো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের গতিবেগকে বাধাগ্রস্ত করে ভেতরের জনপদকে রক্ষা করে। উপকূলীয় বনায়ন বা 'সবুজ বেষ্টনী' জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা কমিয়ে দেয়। ম্যানগ্রোভ বনের ঘন শ্বাসমূল এবং গাছের শাখা-প্রশাখা উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়া জলোচ্ছ্বাসের গতিশক্তিকে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুষে নেয়। এই সবুজ প্রাচীর না থাকলে প্রতি বছর সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে দেশের উপকূলীয় কোটি মানুষের জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হতো। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র হওয়া নতুন নতুন সুপার-সাইক্লোনের বিরুদ্ধে এই বনায়নই দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমানার প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাবলয়।
  • উপকূলীয় ক্ষয়রোধ ও ভূমির স্থায়িত্ব: বনাঞ্চলের গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, যা নদীভাঙন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি ধস ও ক্ষয়রোধ করে। সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত থেকে বেড়িবাঁধগুলোকে টিকিয়ে রাখতে উপকূলীয় বনায়ন অপরিহার্য। নদীর পাড় ও বেড়িবাঁধের ঢালে গভীর শিকড়যুক্ত গাছের বনায়ন মাটির কণাগুলোর মধ্যকার বাঁধন জোরদার করে পানির তোড়ে মাটি ধুয়ে যাওয়া বন্ধ করে। সমুদ্রের প্রবাল ও বালুময় সৈকতে ঝাউবনের মতো বনায়ন জলোচ্ছ্বাসের পরবর্তী সময়ে মাটির ক্ষরণ রোধ করে নতুন পলি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে দেশের মানচিত্র থেকে মূল ভূখণ্ড নদী বা সাগরে বিলীন হওয়া রক্ষা পায় এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের পথ সুগম হয়।
  • লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুপেয় পানির অভাব ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনাঞ্চল মাটির ক্ষতিকর লবণাক্ততার বিস্তার রোধ করে এবং সাইক্লোন-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত ইকোসিস্টেম বা জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেয়। একই সাথে, এই বনাঞ্চল অসংখ্য বন্যপ্রাণী, পাখি এবং জলজ উদ্ভিদের নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র ও অভয়ারণ্য হিসেবে কাজ করে পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখে। সংকটাপন্ন জীববৈচিত্র্যের এই সুরক্ষাবলয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে ইকোসিস্টেমের সামগ্রিক সহনশীলতা বৃদ্ধি করে।
  • বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি ও মরুকরণ রোধ: দেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া রোধ করতে এবং নিয়মিত বৃষ্টিপাতের ধারা বজায় রাখতে ব্যাপক সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জলবায়ুর চরমভাবাপন্নতা (তীব্র গরম ও ঠান্ডা) হ্রাস করে। সামাজিক বনায়নের ফলে বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, যা বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে। এই বৃষ্টিপাত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া প্রতিরোধ করে মরুময়তার বিস্তার রুখে দেয়। সর্বোপরি, এই বনায়ন আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতাকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে।
6
উত্তরঃ

BIMSTEC-এর পূর্ণরূপ: BIMSTEC-এর পূর্ণরূপ হলো- Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation ।

৬ষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারসমূহ: থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তার অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে:

  • মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দ্রুত বাস্তবায়ন: বাংলাদেশ বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে, যাতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্কমুক্ত পণ্য বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় এবং এলডিসি (LDC) গ্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সুরক্ষিত থাকে। এই চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর হলে অত্র অঞ্চলের আন্তঃবাণিজ্যের শুল্ক ও অশুল্ক বাধাসমূহ দূর করা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের পোশাক ও ওষুধ শিল্পের জন্য বিশাল বাজার উন্মুক্ত করবে। বাংলাদেশ বিমসটেক অঞ্চলে একটি সমন্বিত সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে যাতে কাঁচামাল আমদানি সহজতর হয়। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক বাণিজ্যের এই আইনি সুরক্ষা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
  • মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি: 'বিমসটেক মাস্টারপ্ল্যান ফর ট্রান্সপোর্ট কানেক্টিভিটি' বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক, রেলপথ ও সমুদ্রপথে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার যা সরাসরি আসিয়ান ব্লকের বাজারে দেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। একই সাথে, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সাথে ভারতের কলকাতা এবং থাইল্যান্ডের রেনং বন্দরের কোস্টাল শিপিং বা উপকূলীয় নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এই বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য পরিবহন সময় ও লজিস্টিকস খরচ প্রায় অর্ধেক কমে আসবে। এটি মূলত বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি প্রধান লজিস্টিকস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশলগত অগ্রাধিকার।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা ও গ্রিড সংযোগ: নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ ভারতের গ্রিড হয়ে বাংলাদেশে আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করতে 'বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন' চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশ অত্র অঞ্চলে একটি 'আঞ্চলিক ক্লিন এনার্জি পুল' বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব রাখছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। বিমসটেক গ্রিড সংযোগের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের চাকা সচল রাখা সহজ হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা টেকসই হবে এবং আঞ্চলিক শক্তির অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ পরিবেশ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা আদান-প্রদানের জন্য একটি সমন্বিত 'আঞ্চলিক আবহাওয়া ডাটাবেজ' তৈরির ওপর বাংলাদেশ গুরুত্বারোপ করেছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল গঠনে বিমসটেক দেশগুলোর যৌথ রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর তোলার আহ্বান জানায়। টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সদস্য দেশগুলোর উদ্ধারকারী বাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির রোডম্যাপ তৈরি করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
  • সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy) ও মেরিটাইম নিরাপত্তা: বঙ্গোপসাগরের জলসীমার নিরাপত্তা, মানব পাচার ও জলদস্যুতা রোধ এবং সমুদ্র সম্পদের যৌথ টেকসই আহরণে বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা পালন করছে। বঙ্গোপসাগরের বিশাল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। মেরিটাইম অপরাধ, অবৈধ মৎস্য শিকার এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান রুখতে বিমসটেক মেরিটাইম সিকিউরিটি কো-অপারেশন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ চাপ দিচ্ছে। সমুদ্রকে কেন্দ্র করে গভীর সমুদ্রের ইকোসিস্টেম রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব শিপিং লাইন্স গড়ে তোলা বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির মূল দর্শন। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটগুলোর ওপর বাংলাদেশের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত হবে।
10
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews