নারী উদ্যোক্তা হলেন এমন একজন মহিলা যিনি নিজের মালিকানায়, নিজের উদ্যোগে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়কে সংগঠিত করে পরিচালনা করেন।
ভবিষ্যৎ সমস্যা ও সম্ভাবনা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করার সামর্থ্যকেই উদ্যোক্তার দূরদৃষ্টি বলে।
একজন উদ্যোক্তা ইতিবাচক নতুন চিন্তা মাথায় রেখে তা বাস্তবায়নে প্রয়াসী হন। এক্ষেত্রে তিনি নতুন কিছু চিন্তাই শুধু করেন না তার বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সফলতা ও বিফলতা নিয়েও ভাবেন। বাধাগুলো কী আসতে পারে, কিভাবে তা দূর করা যেতে পারে এগুলোও আগে থেকে ভেবে পথনির্দেশনা তৈরি করেন। অন্যথায় সাফল্য আসে না। তাই একজন উদ্যোক্তার জন্য দূরদৃষ্টির গূণ অপরিহার্য।
উদ্দীপকের মঈনের সৃজনশীল মানসিকতার গুণ তাকে ব্যবসায়ে সফলতা দিয়েছে।
নতুন কিছু সৃষ্টি করার বা দেওয়ার মতো সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক মনকেই উদ্যোক্তার সৃজনশীল মানসিকতা বলে। এ কাজের সফলতা নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কর্ম তৎপরতা ওপর।
উদ্দীপকে, মঈন বুয়েট থেকে আর্কিটেকচারের ওপর ডিগ্রি নিয়ে তার বাবার ব্যবসায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে ব্যবসায় পরিচালনা শুরু করল। সে বিভিন্ন দেশ ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বিল্ডিং নির্মাণ দেখে কিছু ডিজাইন নির্বাচন করলেন। দেশে এসে তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে বিল্ডিং নির্মাণ করে সফলতা অর্জন করল। যার ফলে তিনি সৃজনশীল মানসিকতার অবাধ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি একজন ভালো উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কিছু সৃষ্টি করার মতো সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক মনের অধিকারী হন। তাই মঈনকে সৃজনশীল মানসিকতার গুণ ব্যবসায়ে সফলতা দিয়েছে।
আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা ছাড়া ব্যবসায় উদ্যোগ এগুতে পারে না- এ বক্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতি ও অগ্রগতিতে উদ্যোগ বিশ্বময় পরিচিত। কেননা ব্যবসায় উদ্যোগ একটি আর্থসামাজিক প্রক্রিয়া। আমাদের মতো দেশে আর্থসামাজিক অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায় উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করে।
উদ্দীপকে মঈন দেশে এসে তার ব্যবসায়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে বিল্ডিং নির্মাণ করে সফল হলেন। কিন্তু তার এ সফলতা বেশি দূর এগোচ্ছে না। দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে অনেক ফ্ল্যাট অবিক্রীত থাকায় সে সমস্যায় পড়ে। এক্ষেত্রে আর্থসামাজিক অস্থিতিশীলতা তার ব্যবসায়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একটি, দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। একটি দেশের ব্যবসায় যদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি বিধান করে এগুতে না পারে তাহলে নিঃসন্দেহে ঐ দেশ ব্যবসায়-বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়বে। তাই আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা ছাড়া ব্যবসায় উদ্যোগ এগুতে পারে না কথাটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের সার্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সত্যিকারভাবে একজন উদ্যোক্তার দক্ষতা, উদ্যমতা, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির মাঝেই ব্যবসায়ের সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করে থাকে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!