অতীতে বোদ্ধিসত্ত্ব মগধ রাজ্যে মচল গ্রামের এক মহাকুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নাম ছিল মঘ কুমার।
আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। রাজা শুদ্ধোদন এবং রানি মহামায়া ছিলেন তাঁর পিতা-মাতা। মানুষের দুঃখমুক্তির উপায় অন্বেষণের জন্য তিনি রাজপ্রাসাদ, পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র, ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবন অবলম্বন করেন। সুদীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনায় তিনি লাভ করেন বোধিজ্ঞান, খ্যাত হন 'বুদ্ধ' নামে। তিনি আবিষ্কার করেন চারি আর্যসত্য, দুঃখ নিরোধের উপায় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ এবং জন্ম-মৃত্যুর কারণ প্রতীত্যসমুৎপাদ তত্ত্ব। সর্ব প্রাণীর কল্যাণের জন্য তিনি প্রচার করেন তাঁর ধর্ম-দর্শন। তাঁর প্রতিটি ধর্মবাণী মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। সংযমী, আদর্শবান এবং মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। এ অধ্যায়ে আমরা গৌতম বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কে অধ্যয়ন করব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বুদ্ধ নির্দেশিত নৈতিকতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- দৈনন্দিন জীবনে বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষার প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- নৈতিক আচরণের সুফল ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allগৌতম বুদ্ধের পিতার নাম রাজা শুদ্ধোদন।
নৈতিক ও শীল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 'নৈতিকতার' অর্থ নিয়মনীতি মেনে চলে সুশৃঙ্খল ও সৎ জীবনযাপন করা আর 'শীল' অর্থ হলো স্বভাব বা চরিত্র। বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের সংযত, আদর্শ এবং নৈতিক জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য তিনি বেশকিছু নিয়মনীতি বা বিধি-বিধান প্রবর্তন করেছেন। বৌদ্ধ পরিভাষায় এসব নৈতিক বিধিবিধানই হলো শীল।
সুশীল চাকমার ঘটনাটি বৃদ্ধের বোদ্ধিসত্ত্ব জীবনের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। গৌতম বুদ্ধ মচল গ্রামের যুবকদের কুশলকর্ম করার জন্য সংগঠিত করেন। কারণ ঐ গ্রামের যুবকরা হত্যা, চুরি, মিথ্যাচার, ব্যভিচার, মাদকদ্রব্য সেবন এমন অনেক অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদেরকে নিয়ে বৃদ্ধ গ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণ, মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেন। সেতু নির্মাণ, পুষ্করিণী খনন, বৃক্ষরোপণ, জমিচাষের জন্য জলাধার ও পুণ্যকর্ম সম্পাদন করতেন। যুবকরা বোধিসত্ত্বের উপদেশ মতো সকল প্রকার অকুশল কর্ম পরিত্যাগ করে পঞ্চশীল পালন করতে শুরু করে। ফলে গ্রামে অপরাধকর্মগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শেষে বোধিসত্ত্ব ও যুবকদের নৈতিক ও জনহিতকর কাজের জন্য রাজা তাদের পুরস্কৃত করেন।
গ্রামবাসীর উন্নয়নে উদ্দীপকে সুশীল চাকমার গৃহীত পদক্ষেপটি বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে নৈতিক দায়িত্ব।
প্রতিদিন নানা কাজ করে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। ভালো কাজ শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং অপরের মঙ্গল সাধন করে। অপরদিকে মন্দ কাজ ক্ষতিকর ও নিন্দনীয়। সত্যভাষণ, পরোপকার, সেবা, দান, মৈত্রীভাব পোষণ, সৎ বাণিজ্য ইত্যাদি নৈতিক কাজ। ধর্মীয় বিধিবিধানে মন্দ কাজ না করা এবং ভালো কাজ সম্পাদন করার নির্দেশনা রয়েছে। নৈতিকতা হলো ভালো ও মন্দ কাজের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের মানদণ্ড। বুদ্ধ নৈতিকতা অনুশীলনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। দৈনন্দিন বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা নৈতিকতার চর্চা করতে পারি। সুশীল চাকমা বিহারে যাওয়ার পথটি বেশ সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এবং গ্রামের যুবকদের সহযোগিতায় সংস্কার ও মেরামত করেন, যা একটি জনহিতকর এবং নৈতিক কাজ। সুশীল চাকমার গৃহীত পদক্ষেপটি বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে এভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।
এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন।
মানুষের দুঃখ মুক্তির উপায় অন্বেষণের জন্য মহামানব বুদ্ধ রাজপ্রাসাদ, পিতামাতা, স্ত্রী-পুত্র, ভোগবিলাস বর্জন করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনা করে তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন। এভাবেই তিনি বুদ্ধ নামে খ্যাত হলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!