ইসলামের মূল ভিত্তি হলো পাঁচটি। যথা- ১. কালিমা, ২. সালাত, ৩. জাকাত, ৪. হজ ও ৫. সাওম।
হালাল উপার্জনের গুরুত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নোক্ত হাদিসটির মাধ্যমে মুসলমানদেরকে হালাল উপার্জনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মুসলমানদের দোয়া ও ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার শর্ত হলো হালাল পথে অর্থ উপার্জন করা। হালাল রুজি আহার করলে আল্লাহ তায়ালা যেমন বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন তেমনি তার ইবাদতও কবুল হয়। এ কারণে হারাম পথ ত্যাগ করে হালাল পথে উপার্জনে আমাদের সবাইকে ব্রতী হতে হবে। মনে রাখতে হবে এটি ফরজের পর ফরজ।
পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত তিনটি উত্তম কাজ সম্পর্কিত হাদিসের আলোকে মজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত উত্তম বলা যায়। সন্তান-সন্ততিকে মানুষের মতো মানুষরূপে গড়ে তোলা প্রত্যেক পিতা-মাতার দায়িত্ব। সন্তান পিতা-মাতার অস্তিত্বেরই অংশ। তাই সন্তানের প্রতি প্রত্যেক পিতা-মাতারই বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। যেমনটি কিনা উদ্দীপকের মজিদ সাহেবের ক্ষেত্রে। পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত তিনটি উত্তম কাজ লক্ষণীয়, যা মৃত্যুর পরও উপকারে আসে'- এ সম্পর্কিত হাদিসে তিন নম্বর কাজ হিসেবে সন্তানদেরকে নেককার করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। সন্তান নেককার হলে পিতা-মাতার মৃত্যুর পরও আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করে। নেককার সন্তানের এই দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন এবং মৃত পিতা-মাতা উক্ত দোয়ার সুফল ভোগ করেন। উদ্দীপকের মজিদ সাহেব এমনই একজন সৌভাগ্যবান পিতা। তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করে তার সন্তানদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তুলেছেন। তার মৃত্যুর পর এখন সন্তানেরা নিয়মিত নামাজ আদায় করে তার মাগফেরাতের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে। উল্লিখিত হাদিসের আলোকে বলা যায়, মজিদ সাহেবের সন্তানদের এই দোয়া আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কবুল করবেন। সুতরাং মজিদ সাহেব তার সন্তানদেরকে মানুষের মতো মানুষরূপে গড়ে তুলে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।
সলিমুদ্দিন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকায় পরকালে শাস্তির সম্মুখীন হবেন। ইসলামে মাদকদ্রব্য হারাম করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য আল্লাহর অভিশাপের ঘোষণা হাদিস শরিফে এসেছে। তাই মাদকের সাথে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট হওয়া উচিত নয়। উদ্দীপকের সলিমুদ্দিন মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্যই জান্নাত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সংগত কারণেই ইসলামে মাদকদ্রব্যকে হারাম করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের চেতনা লুপ্ত হয়। ফলে সমাজে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়। মাদকদ্রব্য আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকেও মানুষকে বিরত রাখে। তাই ইসলাম যে শুধু মদপান হারাম করেছে তাই নয়, মদ উৎপাদন, মদের ব্যবসা ও মদকে কেন্দ্র করে যা কিছু করা হয় বা করার প্রয়োজন হয় তার সবকিছুকেই হারাম ঘোষণা করেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য এবং হাদিসে মাদকসংশ্লিষ্ট সবার ওপর আল্লাহ তায়ালার অভিশাপ বর্ষণের কথা বলা হয়েছে। সলিমুদ্দিন যেহেতু নিজে মাদক ব্যবসা করেছেন এবং নিজের সন্তানদেরও এ পথে এনেছেন, সেহেতু তার জন্যও আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হবে। আর কারো ওপর আল্লাহর অভিশাপ পড়লে তার জন্য জান্নাত লাভ করা সম্ভবপর নয়।
ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সলিমুদ্দিনের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডই তার জান্নাত লাভের প্রতিবন্ধক হবে।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!