যে কাগজি নোটের পরিবর্তে সরকারের কাছ থেকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রূপা পাওয়া যায় না, তাকে রূপান্তর অযোগ্য মুদ্রা বলে। যেমন: বাংলাদেশের ১ টাকা ও ২ টাকার কাগজী নোট।
বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে জনগণের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে। এ আমানতের কিছু অংশ গ্রাহকের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জন্য হাতে রেখে বাকি অর্থ গ্রাহককে ঋণ দেয়। ব্যাংক গ্রাহককে সরাসরি ঋণ না দিয়ে গ্রাহকের হিসাবে ঋণের টাকা জমা করে দেয়। এভাবেই বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ ও আমানত সৃষ্টি করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের হুন্ডি বাট্টাকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে রিশিত কম্পিউটারস লি. নগদ অর্থ সংগ্রহ করল।
হুন্ডি হচ্ছে বিক্রেতাকে তার পণ্যদ্রব্যের মূল্য পরিশোধে ক্রেতার চুক্তিপত্র। এ পত্রে বিক্রেতার পাওনার পরিমাণ ও অর্থ পরিশোধের তারিখ উল্লেখ থাকে। উক্ত তারিখ বা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেও বিক্রেতা ইচ্ছা করলে হুন্ডি ভাঙিয়ে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এক্ষেত্রে হুন্ডির মালিক কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে হুন্ডির অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট কমিশন দিয়ে নগদ অর্থ পেতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের এরূপ কাজকে হুন্ডি বাট্টাকরণ বলা হয়। উদ্দীপকে রিশিত কম্পিউটারস লি. হচ্ছে বিক্রেতা। আর মজুমদার গ্রুপের মালিক হচ্ছে ক্রেতা। ক্রেতা বিক্রেতাকে মালামালের মূল্য বাবদ যে প্রতিশ্রুতিপত্র প্রদান করল তা হচ্ছে হুন্ডি। এটির মালিক হচ্ছে রিশিত কম্পিউটার লি.। এক্ষেত্রে, হুন্ডির মালিক রিশিত কম্পিউটার্স লি. তার হুন্ডির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই ব্যাংকে গিয়ে তা ভাঙিয়ে নগদ অর্থ সংগ্রহ করে।
হুন্ডি বাট্টাকরণ পদ্ধতি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যকে গতিশীল করে বলে আমি মনে করি।
হুন্ডি বাট্টাকরণ পদ্ধতির সাহায্যে ধারে দ্রব্য ক্রয় করা যায় এবং এতে নগদ অর্থ বহনের কোনো ঝুঁকি নেই। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহণ না করেও ব্যবসা চালু রাখা যায়। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ অনেক সুবিধাজনক হয়।হুন্ডি বাট্টাকরণ পদ্ধতি চালু থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকা হাতে না থাকলেও তারা ধারে মালামাল ক্রয় করার সুযোগ পায়। আবার ব্যাংক গ্যারান্টি থাকায় বিক্রেতা নগদ অর্থ না পেয়েও মাল বিক্রি করে এবং এ ব্যবস্থার ফলে নগদ অর্থ বহন না করেও ক্রেতা মালামাল ক্রয় করার সুযোগ পায়। তাছাড়া, ব্যাংক ঋণ না পেলে অনেক সময় ব্যবসায়ীকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়। কিন্তু এ সুবিধা থাকলে তা করতে হয় না। আবার, নগদ অর্থ পাঠানো অপেক্ষা বিক্রেতাকে হুন্ডিতে অর্থ প্রদান অধিক সহজ ও নিরাপদ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উল্লিখিত সুবিধাগুলো বিবেচনা করলে বলা যায়, হুন্ডি বাট্টাকরণ পদ্ধতিতে দেশে ব্যবসায়-বাণিজ্যের গতিশীলতা বজায় থাকে। তাই হুন্ডির বহুল ব্যবহার ঘটলে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। ফলে জনসাধারণের আয়, ভোগ ও বিনিয়োগ উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
Related Question
View Allমানুষের এক দ্রব্যের পরিবর্তে সরাসরি অন্য দ্রব্য বিনিময় করে অভাব পূরণ করার ব্যবস্থাকে বিনিময় প্রথা বলে।
অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী পচনশীল এবং দীর্ঘকালে সংরক্ষণ উপযোগী না হওয়ায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিক উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
আবার এমন কিছু দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে (স্বর্ণ, রূপা) যেগুলো মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের মূল্যমানের পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায় সঞ্চিত দ্রব্যের বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে তারতম্য দেখা দিতে পারে। কিন্তু অর্থ দ্বারা সবকিছু ক্রয়-বিক্রয় তথা সহজেই বিনিময় করা যায়। তাছাড়া সময়ের বিবর্তনের সাথে এর বিনিময় মূল্যের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিকতর নিরাপদ ও সুবিধাজনক বলা যায়। তাই অর্থ সঞ্চয়ের উৎকৃষ্ট বাহন হিসেবে কাজ করে।
রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো একটি দেশের শ্রেষ্ঠতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি মালিকানার অধীনে দেশের মুদ্রা বাজারের প্রাণকেন্দ্র রূপে কাজ করে। এটি একটি দেশের সকল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এ ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলন, সরকার ও অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কর্তৃক সৃষ্ট ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি, অর্থের অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য ব্যাংকের মতো কেবল মুনাফা অর্জনই এ ব্যাংকের উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সাধনই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের রত্নার কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে ঋণ দিতে পারে না, কিন্তু এটি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। তার ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের ঋণ তদারকি করে। অন্যান্য ব্যাংকগুলো তারল্য সমস্যার মুখোমুখি হলে এ ব্যাংক ঋণ আকারে অর্থ প্রদান করে এসব সমস্যা সমাধান করে।
রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক; আর তার বান্ধবী যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
নিচে এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হলো-কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলনকারী একমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা বাদে বিনিময়ের অন্যান্য মাধ্যম তথা চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি প্রচলন করতে পারে। প্রত্যেক দেশে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে; কিন্তু একটি দেশে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকতে পারে। জনসেবা ও দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সৃষ্টি করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজেদের কাছে গচ্ছিত আমানতের বিপরীতে ঋণ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পরস্পর প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের সাথে প্রত্যক্ষ লেনদেন করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণের সাথে আর্থিক লেনদেনের জন্যই সৃষ্ট। এভাবে রত্নার প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা যায়। এক্ষেত্রে রত্নার প্রতিষ্ঠান তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
যে অর্থ দেশের জনসাধারণ গ্রহণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকে তাকে বিহিত অর্থ বলে।
নিকাশ ঘর হলো এমন একটি স্থান বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে একটি নিকাশ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলের ব্যাংকসমূহ পরস্পরের মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত হিসাবের নিষ্পত্তি করে। নিকাশ ঘর বলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন চেক, ড্রাফট, হুন্ডি প্রভৃতি ভাঙানোর মাধ্যমে একে অন্যের নিকট পাওনাদার হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেনের 'নিকাশ ঘর' হিসেবে পারস্পরিক দেনা- পাওনার হিসাব পরিশোধ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!