মঞ্জুর সাহেবের ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর ভগিনী মাজেদাকে নিয়ে এসে মানুষ করে। টাকা বাঁচানোর জন্য মাজেদাকে ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী এর প্রতিবাদ করে এবং তা হতে দেয়নি।

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়।

উত্তরঃ

জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠেছে বলে জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।
হাতেম আলি জমিদার। খাজনা বাকি পড়ায় তার জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা না দিতে পারলে জমিদারি অন্যের কাছে হস্তান্তর করত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। হাতেম আলি সারা জীবন জমিদার ছিলেন। শেষ বয়সে এসে জমিদারি হারাতে হবে এটা তিনি মানতে পারেননি। আবার জমিদারি বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তাও তিনি জোগাড় করতে পারছেন না। এসব কারণেই হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।

সারকথা: জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই, কারণ সূর্যাস্ত আইনে তার জমিদারি নিলামে উঠেছে।

উত্তরঃ

বহিপীর' নাটকে হাতেম আলি একজন আদর্শ মানুষ। কারণ তিনি টাকার জন্য তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি- এই বিষয়টি উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
বৈষয়িক সুবিধার জন্য মানুষ কখনো কখনো অন্যের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে, যা অন্যায় ও অমানবিকতা। আর যাঁরা মানবতাবোধসম্পন্ন, তাঁরা নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে কষ্ট দেন না, বরং নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের স্বার্থকে রক্ষা করেন।
উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেব একজন স্বার্থবাদী মানুষ। তাই টাকা বাঁচানোর জন্য সে তার বোনকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। মঞ্জুর সাহেবের বিপরীত চরিত্র হলো 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি। কারণ তিনি জমিদারি রক্ষা করার ক্ষেত্রে পীরের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার শর্তেও বহিপীরের হাতে তাহেরাকে তুলে দিতে রাজি হননি। সুতরাং দেখা যায় যে, উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলির চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

সারকথা: সারকথা: 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি টাকার বিনিময়ে তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি। আর উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেব টাকা বাঁচাতেই বোনকে ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দিতে চেয়েছে।

উত্তরঃ

বহিপীর' নাটকের খোদেজার মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ থাকলেও তা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কিন্তু উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর মধ্যে কোনো কুসংস্কার নেই। সে আদর্শ মায়ের পরিচয় দিয়েছে।
কুসংস্কার মানুষের জন্য অভিশাপ। কারণ মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে অনেক সময় সত্যকে বাদ দিয়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করে। ফলে অনেক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনো বিপদও হয়। আর যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে, বোধের স্ফুরণ আছে তারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না।
উদ্দীপকে মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর চরিত্রে মাতৃসুলভ আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। মাজেদাকে তার ভাই মঞ্জুর সাহেব বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু বিয়েতে টাকা খরচ হবে, এটা ভেবে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে জোর প্রতিবাদ করে তার স্ত্রী। সে বুঝতে পারে যে সতিনের সংসার কুরুক্ষেত্রের মতো, মাজেদা সেখানে শান্তি পাবে না। 'বহিপীর' নাটকে খোদেজা চরিত্রের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ খুঁজে পাই। তাহেরা বিপদে পড়ায় খোদেজা তাহেরাকে বজরায় তুলে নেন। যত্ন করেন, মাথার চুল আঁচড়ে দেন। মেয়ের মতো ব্যবহার করেন তাহেরার সঙ্গে।
'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কারণ তাহেরাকে তিনি মাতৃস্নেহ দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠিকই; কিন্তু যখন বুঝলেন যে, তাহেরা পীরের অবাধ্য স্ত্রী, তখনই তার মাতৃস্নেহ ম্লান হয়ে যায়। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার দাম্পত্য জীবন কেমন বেমানান আর অন্যায় হবে, সেটা বিবেচনা না করেই তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে চান। এ অন্যায়কে হাশেম রোধ করতে গেলে খোদেজা পীরের অভিশাপের ভয় দেখান। পীরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমিদারি রক্ষা করতে চান। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা: 'বহিপীর' নাটকের খোদেজার চরিত্রে মাতৃস্নেহ থাকলেও তা কুসংস্কারের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। আর উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর চরিত্র কুসংস্কার দ্বারা প্রভাবিত নয়। অর্থাৎ মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী 'বহিপীর' নাটকের খোদেজার চরিত্রের অনুরূপ

405
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিয়ে হলো তকদিরের কথা- এ কথাটি জমিদারপত্নী খোদেজা বলেছেন তাহেরাকে উদ্দেশ করে। এখানে দাম্পত্য জীবনের অনিশ্চিত সুখের বিষয়কে বোঝানো হয়েছে।
পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে বিচিত্রতর আর কিছু নেই। কারণ বহুদিন পর্যবেক্ষণের পরেও একজন মানুষের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে বোঝা যায় না। মানুষ একান্তই দাম্পত্য সুখ কামনা করে। বিয়ে সংসার করলেই যে কেউ সুখী হবে, তার নিশ্চয়তা নেই, কেউ তা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে দুর্বলচিত্ত মানুষ কর্মশক্তির তুলনায় ভাগ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তারা মনে করে, ভাগ্য ভালো হলে সুখ আসবে, আর ভাগ্য খারাপ হলে তা আসবে না। এ কারণেই বলা হয়েছে- বিয়ে হলো তকদিরের কথা।

সারকথা: দুর্বলচিত্ত মানুষ মনে করে, দাম্পত্য জীবনে সুখ। অনিশ্চিত, তাই তা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়াই উত্তম।

7k
উত্তরঃ

পীরের প্রতি অন্ধভক্ত মানুষ দেখা যায় 'বহিপীর' নাটকে এবং সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায়।
সমাজে 'পীর' অত্যন্ত সম্মানী মানুষ। কারণ সমাজের মানুষের মতে পীর খোদার প্রিয় বান্দা। পীর অনেক ক্ষমতা রাখেন, ক্ষমতার কারণেই খোদার সঙ্গে তার সম্পর্ক সাবলীল এবং মানুষ ঐ পীরের ক্ষমতার মাধ্যমে খোদার অনুগ্রহ পেতে চায়।
উদ্দীপকে আজাদের বাবা একজন নামকরা পীর ছিলেন। মানুষ তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা-ভক্তি করত। আজাদ শহরে লেখাপড়া করেন। শহর থেকে অনেকদিন পর গ্রামে আসেন। আজাদের বাবার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির কারণে আজাদকেও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। মুরব্বিরা তাকে সালাম করতে আসেন। পানিপড়া নিতে আসেন। অথচ আজাদ পীর নন, তিনি সচেতন ও শিক্ষিত মানুষ। 'বহিপীর' নাটকেও এ সমাজব্যবস্থার অনুরূপ চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বহিপীরকে সাধারণ মানুষ হিসেবে গণ্য করে না, তাদের কাছে তিনি অতিমানব। এ কারণেই সারা বছর তাকে মানুষের আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়। না চাইতেই পীর অনেক টাকা পান। এমনকি বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী কন্যাকে বিয়ে দিতেও কেউ দোষের মনে করে না। এভাবে পীরের প্রতি যে অন্ধভক্তি তা উদ্দীপক এবং 'বহিপীর' নাটক উভয় সমাজব্যবস্থাতেই সমান বলে মনে হয়।

সারকথা: 'বহিপীর' নাটকে বহিপীরের প্রতি মানুষের অন্ধভক্তি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রামের মানুষগুলোর কার্যক্রমেও নাটকে প্রতিফলিত সমাজের এ দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।

1.8k
উত্তরঃ

ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিতে দেখা যায় 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরকে। কিন্তু উদ্দীপকের আজাদ মানুষের সেই দুর্বলতাকে ব্যবহার করেন না।
ধর্ম মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বিষয় হিসেবে বিবেচিত। কারণ ধর্মের মাধ্যমে মানুষ আত্মিক শান্তি লাভ করে। ফলে যারা ধর্মসংশ্লিষ্ট মানুষ তাদের প্রতিও একধরনের দৃঢ়বিশ্বাস থাকে। তবে কিছু কিছু অসাধু মানুষ আছে, যারা এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করে। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। এরা ঘৃণ্য মানুষ এবং ধর্মব্যবসায়ী। কারণ ধর্মব্যবসায় করেই এরা স্বার্থ উদ্ধার করে।
উদ্দীপকে আজাদের বাবা নামকরা পীর ছিলেন। কিন্তু আজাদ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। শহরে চাকরি করেন। অনেকদিন পর গ্রামে গিয়ে দেখলেন যে, মানুষ তাকে অত্যন্ত ভক্তি করছে। গ্রামের মুরব্বিরাও তাকে সালাম করতে আসেন। মানুষ পানিপড়া নিতে আসছে। আজাদ তাদের এ ভক্তি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। তাই তিনি মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করলেন যে, তার বাবা পীর হলেও তিনি কিন্তু পীর নন। 'বহিপীর' নাটকেও দেখা যায়, বহিপীরের প্রতি মানুষ অনেক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ফলে সারা বছরই তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। তিনি মুখ ফুটে বললেই মানুষ অনেক টাকা বের করে দিতে প্রস্তুত। এমনকি ভক্তির কারণে বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতেও আপত্তি করে না।
'বহিপীর' নাটকে বহিপীরকে অত্যন্ত সুযোগসন্ধানী চরিত্রের মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়, যার বৈষয়িক জ্ঞান অত্যন্ত জোরালো। কারণ যদি সত্যিই তিনি ধর্মের অনুগামী হতেন, তবে কিশোরী মেয়েকে বৃদ্ধ বয়সে বিয়ে করার চিন্তা করতেন না। আর তিনি যদি পীর না হতেন তাহলে তাহেরাকেও তার কাছে বিয়ে দেওয়া হতো না। পীর এ সুযোগ কাজে লাগিয়েই তাহেরাকে বিয়ে করেছেন, যা তার ধর্ম ব্যবসায়কে নিশ্চিত করে। উদ্দীপকের আজাদের প্রতিও মানুষের অন্ধভক্তি আছে। ইচ্ছা করলেই আজাদ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ধর্মব্যবসায়ী নন, তাই তিনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

সারকথা: বহিপীর' নাটকে দেখা যায় বহিপীর ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। একই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও করেন না। কারণ উদ্দীপকের আজাদ বহিপীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী নন।

1.6k
উত্তরঃ

জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠেছে বলে জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।
হাতেম আলি জমিদার। খাজনা বাকি পড়ায় তার জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা না দিতে পারলে জমিদারি অন্যের কাছে হস্তান্তর করত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। হাতেম আলি সারা জীবন জমিদার ছিলেন। শেষ বয়সে এসে জমিদারি হারাতে হবে এটা তিনি মানতে পারেননি। আবার জমিদারি বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তাও তিনি জোগাড় করতে পারছেন না। এসব কারণেই হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।

সারকথা: জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই, কারণ সূর্যাস্ত আইনে তার জমিদারি নিলামে উঠেছে।

4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews