কবি সূর্যের কাছে উত্তাপ প্রার্থনা করেছেন।
'আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ডে পরিণত হব' বলতে কবি অসহায় গরিব মানুষের জাগরণের সম্ভাবনাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'প্রার্থী' কবিতায় অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুদের প্রতি কবির অসীম মমতা ও ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য প্রকাশ পেয়েছে। দরিদ্র, অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিনিয়ত ধনীদের দ্বারা শোষিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। তারা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। তাই কবি বিত্তবানদের সতর্ক করে দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। আমরা একদিন জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড হব, যে অগ্নিপিন্ডের দ্বারা ধনিকশ্রেণির প্রাসাদ জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। কবি এখানে তাদের সেই জাগরণের সম্ভাবনাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের মতিন মিয়ার আচরণ 'প্রার্থী' কবিতার নিচুতলার মানুষের প্রতি গভীর মমতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সমাজের নিচুতলার মানুষ খাদ্য, বস্ত্র আর আশ্রয়ের অভাবে বহু কষ্টে দিনাতিপাত করে। অন্যদিকে সমাজের উচ্চবিত্তরা বিলাসী জীবনযাপন করে। এই উঁচুতলার মানুষ যদি দরিদ্রদের দুঃখ-কষ্ট গভীরভাবে অনুভব করে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তবে তাদের কষ্ট-যন্ত্রণা অনেকাংশে লাঘব হবে।
'প্রার্থী' কবিতায় কবিও এ প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। শীতের রাতে অসহায় মানুষ বস্ত্রের অভাবে প্রচণ্ড কষ্ট পায়। ফলে সকালের সূর্যের আলো ও উত্তাপ তাদের কাছে সোনার চেয়েও দামি মনে হয়। কবি সমাজের উঁচুতলার মানুষকে সূর্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন যাদের সহানুভূতিতে দূর হবে তাদের সব কষ্ট। উদ্দীপকের মতিন মিয়ার আচরণে কবির এ প্রত্যাশা বাস্তব রূপ লাভ করেছে। অনেক সম্পদের মালিক হলেও তার মনে কোনো অহংকার নেই। ফুটপাতে বসবাসকারী অসহায় মানুষদের তিনি সাহায্য করেন, তাদের দুঃখ দূর করেন।
'অসহায় মানুষের কাছে মতিন মিয়া সূর্যের মতো'- 'প্রার্থী' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
পৃথিবীসহ সৌরজগতের সব গ্রহ-উপগ্রহের শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্যের তাপ ও আলোর কারণেই পৃথিবীতে জীবের জীবনধারণ সম্ভব হয়েছে। শীতে প্রতিটি শীতার্ত ব্যক্তির কাছেই সূর্যের তাপ পরম কাম্য।
'প্রার্থী' কবিতায় কবি সমাজের নিচুতলার মানুষের জন্য সূর্যের কাছ থেকে তাপ ও আলো প্রার্থনা করেছেন। বস্ত্রহীন মানুষেরা শীতের রাতে প্রচণ্ড কষ্ট করে। কবি এই মানুষদের দুঃখ দূর করার জন্য সূর্যের কাছে শক্তির প্রার্থনা করেছেন। উদ্দীপকের মতিন মিয়া সমাজের উঁচুতলায় বসবাস করলেও নিচুতলার মানুষদের তিনি ভুলে যাননি, ফুটপাতের মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সূর্যের তাপ ও আলো শীতার্ত মানুষদের একমাত্র সম্বল। কবির চোখে বিত্তবান মানুষেরা সূর্যের মতো। উদ্দীপকের মতিন মিয়া বিত্তবান মানুষের প্রতিনিধি হলেও দরিদ্র অসহায়দের জন্য তার রয়েছে সহানুভূতিশীল হৃদয়।
Related Question
View All'প্রার্থী' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ডের তাপ অফুরন্ত, তাই কবি সূর্যকে জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড বলেছেন।
গরিব অসহায় মানুষের জন্য সূর্যই প্রধান অবলম্বন। কারণ তারা শীত নিবারণের উপযুক্ত কাপড় পায় না। সারারাত শীতে কষ্ট করে অপেক্ষা করতে থাকে কখন সূর্য উঠবে- তাদের শরীরকে উষ্ণ করবে। জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডের অফুরন্ত তাপের পাশে দাঁড়ালে যেমন শীতার্ত মানুষ আরাম পায়, সূর্যের নিচে দাঁড়ালেও তারা তেমনি শীত থেকে রক্ষা পায়। কবি তাই সূর্যকে জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড বলেছেন।
উদ্দীপকের নাদিম সাহেবের আচরণ 'প্রার্থী' কবিতার কবির অসহায় মানুষের প্রতি যে দরদ প্রকাশ পেয়েছে, সেই ভাবের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। শীতের সময় বস্ত্রের অভাবে তারা শীত নিবারণের জন্য সূর্যকে প্রধান অবলম্বন মনে করে।
উদ্দীপকের নাদিম সাহেব গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল নন। তার গাড়ির জানালার পাশে এক ভিক্ষুক ভিক্ষার থালা বাড়িয়ে দিলে তিনি জানালার কালো গ্লাস তুলে দেন এবং বিরক্তি প্রকাশ করেন। নাদিম সাহেবের এ আচরণ কবির আচরণের বিপরীত। 'প্রার্থী' কবিতায় কবির অসহায় মানুষের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। তাদেরকে তিনি সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার কথা বলেছেন। তাদের জন্য সূর্যের কাছে প্রার্থনা করেছেন কিন্তু উদ্দীপকের নাদিম সাহেবের মধ্যে তা অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের নাদিম সাহেবের আচরণ 'প্রার্থী' কবিতার কবির অসহায় মানুষের প্রতি যে দরদ প্রকাশ পেয়েছে সেই ভাবের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ড্রাইভার মহসীনের অভিব্যক্তিতে 'প্রার্থী' কবিতার মূল চেতনা প্রকাশ পেলেও কবি সুকান্তের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। – মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য প্রবল। যার জন্য গরিবেরা নানা রকম বঞ্চনার শিকার হয়। ধনী মানুষদের তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে গরিবের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
উদ্দীপকের ড্রাইভার মহসীন নাদিম সাহেবের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বলেছেন, 'গরিব মানুষ, কী করবে বলেন?' তার এ অভিব্যক্তিতে আলোচ্য কবিতার দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতির দিকটি প্রকাশিত হলেও কবি সুকান্তের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। কারণ কবি সমাজের নিচুতলার মানুষের প্রতি গভীর মমতা থেকে সূর্যের কাছে উত্তাপ প্রার্থনা করেছেন। তাদের নিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চেয়েছেন।
'প্রার্থী' কবিতায় কবি সমাজের অসহায় মানুষের অবস্থা, তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করা এবং বিত্তশালীদের শোষণ থেকে তাদের মুক্তি চেয়েছেন। অসহায় মানুষের কষ্টে কবির দরদি মন কেঁদে উঠেছে, তাই তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান। সূর্যকে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন সূর্য যেন উত্তাপ দেয় রাস্তার পাশের সেই উলঙ্গ ছেলেটাকে। কিন্তু উদ্দীপকের মহসীনের অভিব্যক্তিতে শুধু দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে মাত্র, কবির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
হিমশীতল অর্থ তুষারের মতো ঠান্ডা।
সকালের সূর্যের উত্তাপে আমাদের গরম কাপড়ের অভাব দূর হতে পারে।
সূর্য যে তাপ বিকিরণ করে তার সাহায্যেই ভূপৃষ্ঠে উদ্ভিদ, জীবজন্তু ও মানুষ জীবনধারণ করে। প্রচন্ড শীতে সূর্যের সেই উত্তাপের জন্য সারারাত অপেক্ষা করে বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শীতার্ত মানুষ। কবি মনে করেন সকালে সূর্য উঠলে তার উত্তাপে যেন শীতবস্ত্রহীন মানুষের গরম কাপড়ের অভাব দূর হয়ে যায়। এখানে শীতার্ত মানুষের প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!