ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় 'জাতি' বলা হয়।
"তাহার আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাম্বর, আর একই মহা-আত্মার অংশ।"- বাক্যটিতে লেখক তথাকথিত ছোটলোকদের প্রতি সম্মান এবং তাদের আত্মার বিশালতা বোঝাতে চেয়েছেন।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক কাজী নজরুল ইসলাম এখানে সাম্য ও মানবতার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে ছোট-বড়, ধনী--দরিদ্র প্রভেদ নেই। প্রবন্ধে তিনি সমাজ-সংসারে যারা উপেক্ষিত তাদের শক্তির উদ্বোধন কামনা করেছেন। লেখকের মতে এই উপেক্ষিত শক্তির 'ধারকরাই দেশে যুগান্তর আনবে। তিনি মনে করেন, তাদের আত্মা আমাদের আত্মার মতোই ভাম্বর এবং একই মহাত্মার অংশ।
নবিজির আচরণে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। মানুষে মানুষে পার্থক্য বা বৈষম্য উন্নতির অন্তরায়। তাই ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু বলে একে অন্যের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টি করা উচিত নয়। শ্রমজীবীদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা দেওয়া উচিত।
উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর আচরণে সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি এখানে নিজেকে সবার সাথে অভিন্ন বিবেচনা করেছেন। অন্য সবার মতো তিনিও মানুষ, একই স্রষ্টার সৃষ্টি। তাই সাহাবিদের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি পরিখা খননের কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে পরস্পরের সাম্যনীতির পরিচয় দিয়েছেন। এই বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিকটিকে নির্দেশ করেছে। এতে লেখক সাম্যবাদী সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিন্ন মানবজাতি এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির জয়গান গেয়েছেন। কারণ সমাজের উঁচু শ্রেণির লোকদের দ্বারা শোষিত নিচু শ্রেণির লোকেরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে পারে না। সমাজের সুবিধাবাদীরা তাদেরকে ঘৃণা করে দূরে সরিয়ে রাখে। ফলে দেশের প্রকৃত উন্নতি ও জনকল্যাণ বাধাগ্রস্ত হয়। লেখক তাই তাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ ও বৈষম্য দূর করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান করেছেন। লেখকের সেই সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের নবিজির আচরণে।
"নবিজির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আত্মস্থ করতে পারলেই লেখকের বাঞ্ছিত সমাজব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পূর্বশর্ত হলো ধনী-দরিদ্রের বিভেদ দূর করা। অর্থ-সম্পদ, বংশমর্যাদার ভিত্তিতে মানুষকে ছোট-বড় মনে করা উচিত নয়। মানবকল্যাণ সাধন করতে হলে সাম্যের সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
উদ্দীপকে নবিজির আচরণে সাম্যবাদী সমাজ গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এখানে মানুষের মর্যাদাকে উচ্চে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের নবিজি ও সাহাবিদের মধ্যে সাম্যনীতির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি সাহাবিদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়ে আমির-ফকির, ছোট-বড়র মধ্যকার বিভেদের অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁর কাছে মর্যাদার দিক থেকে সবাই সমান। নবিজির চরিত্রের এই সাম্যনীতি 'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে প্রতিফলিত সাম্যনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখক এখানে একটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করার কথা বলেছেন। বিশ্বে মর্যাদাবান রাষ্ট্র গঠনে যাঁরা আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন তিনি তাঁদের নির্দেশিত পথে চলতে বলেছেন।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও উন্নতির জন্য সব শ্রেণির মানুষের সমান অংশগ্রহণ কামনা করেছেন। কারণ মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যকের পক্ষে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব নয়। এই কারণে তিনি নিম্নশ্রেণির মানুষকে জাগিয়ে তুলে তাদের উপযুক্ত কর্মে নিয়োজিত করতে বলেছেন। লেখক সমাজ থেকে বিভেদ-বৈষম্য দূর করে মানুষকে দেশের জন্য কাজ করতে বলেছেন এবং সর্বক্ষেত্রে সাম্যবাদী চেতনার জয়গান গেয়েছেন। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!