বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো জন্মহার ও মৃত্যুহারের ব্যবধান।
অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ফলে দেশের জনসংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
দেশের ভিতর যখন এক এলাকার লোক অন্য এলাকায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে তখন তাকে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর বলে। এর ফলে প্রথম এলাকার জনসংখ্যা কমে যায় এবং দ্বিতীয় এলাকায় জনসংখ্যা বেড়ে যায়। তবে দেশের মোট জনসংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
মধুপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো উচ্চ জন্মহার এবং নিম্ন মৃত্যুহার।
কোনো দেশ বা এলাকায় বছরে যত শিশু জন্মগ্রহণ করে তার চেয়ে কম সংখ্যক মানুষ মারা গেলে সে দেশ বা এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জন্ম ও মৃত্যুর ফলেই মূলত জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়ে থাকে। এ পরিবর্তন স্থূল জন্মহার ও স্থূল মৃত্যুহার দ্বারা নির্ধারিত হয়। স্থূল জন্মহার, স্থূল মৃত্যুহারের চেয়ে বেশি হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকের মধুপুর ইউনিয়নে প্রতিবছর ১০০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করলেও মারা যায় মাত্র ১৫ জন মানুষ। এখানে প্রতিবছর ৭৫ জন লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ এখানে জন্মহার বেশির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মধুপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। প্রতিবছর আয়তন অনুপাতে যেভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। উদ্দীপকে মধুপুর ইউনিয়নের অবস্থা যেন বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনতে বিবাহের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে যে বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকর করা উচিত। এছাড়া নারী সমাজকে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি মহিলার। উৎপাদনমুখী কাজে অংশগ্রহণ করলে জনসংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। এছাড়া সমাজের সকল স্তরে শিক্ষার প্রসার ঘটানো উচিত। কেননা শিক্ষা মানুষকে জীবন সর্ম্পকে সচেতন করে তোলে। একইসাথে জীবনযাত্রার উচ্চমান সম্পকেও জনগণকে আগ্রহী করে তোলে শিক্ষা। তাই সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা কর্মসূচিকে আরও জোরদার করা উচিত। ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান ও স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যাপারে বাবা-মাকে সচেতন করতে সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৃহীত এ পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে আসতে শুরু করবে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৮ বছর।
বসতি স্থানান্তরের কারণে কোনো দেশে বহির্গমনের থেকে বহিরাগমন মাত্রা বেশি হলে সে দেশের জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
বসতি স্থানান্তর জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। দেশান্তরের কারণে বহিরাগমন এবং বহির্গমন ঘটে থাকে। বহিরাগমন অর্থাৎ দেশের বাইরে থেকে দেশে লোক আসলে জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মহার ও মৃত্যুহারের ব্যবধান।
১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে ২৫ লক্ষ শিশু আর মৃত্যুবরণ করছে সব বয়সের মাত্র ৬ লক্ষ লোক। ফলে বছরে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৯ লক্ষ। এভাবে জনসংখ্যা বাড়লে ৪০ বছরে জনসংখ্যা তিনগুণ হওয়াই স্বাভাবিক।
এছাড়া মৃত্যুহার হ্রাসের কারণেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি, খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা লাভ প্রভৃতি কারণেও শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
১৯৭৪ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি। ২০০১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১২.৯৩ কোটি। অর্থাৎ ২৭বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.২৮ কোটি। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১১.১৫ কোটি। ২০২২ সালে এসে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। অর্থাৎ ৩১ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে পাঁচ কোটি তিরাশি লাখের মতো। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কম।
আবার, ১৯৯১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.১৭% যা ২০০১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫৯। ২০১১ সালে তা আরও কমে হয় ১.৩৭%। বর্তমানে জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.২২%। দেখা যাচ্ছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার পেছনে নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, চিকিৎসা সেবার উন্নতি, জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে সচেতনতা প্রভৃতি কারণ ভূমিকা রেখেছে। এ বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির যথার্থতা আছে।
একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনো বছরে প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে মোট জীবন্ত শিশু জন্মের সংখ্যা এবং সেই বছরের মধ্যবর্তী সময়ের জনসংখ্যার অনুপাতকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate) বলে।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি।
মাত্র ৫০ বছর আগেও এ ভূখণ্ডে কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি সংক্রামক রোগ মহামারীরূপে দেখা দিত এবং হাজার হাজার লোক মারা যেত। কিন্তু প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ায় এ ধরনের রোগে আর মানুষ সহজে আক্রান্ত হচ্ছে না। আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার বদৌলতে হৃদরোগ বা ক্যানসারের মতো অসংক্রামক অন্যান্য রোগে মৃত্যুহার কমেছে। চিকিৎসা সেবার উন্নতির ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুও অনেক কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!