মাযহাব চারটি।
'ফিকহচর্চার মজলিস ষাট বছরের ইবাদত থেকে উত্তম'- মহানবি (স) এর এই হাদিসটিতে ফিকহচর্চার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। ফিকহশাস্ত্রের বিপুল গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কারণে এর চর্চা, অনুশীলনও শ্রেষ্ঠতম ইবাদতের শামিল। অন্য যেকোনো ইবাদত সম্পাদনের জন্য ফিকহচর্চা ও সাধনার গুরুত্ব বেশি। কেননা এর চর্চা সুন্দরভাবে ইবাদত সম্পন্ন করার পদ্ধতি বলে দেয়। এর সহায়তায় ব্যক্তির ইবাদত যথাযথ ও নিষ্ঠাপূর্ণ হয়। এ কারণেই মহানবি (স) ফিকহচর্চার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচ্য হাদিসটি অবতারণা করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত দুজন শিক্ষক মালিকি মাযহাবের অনুসারী। মদিনায় ইমাম মালিক বিন আনাস (র) প্রতিষ্ঠা করেন মালিকি মাযহাব। তিনি তাঁর সময়কালে সর্বশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির চেয়ে হাদিসের ওপর বেশি নির্ভর করায় মালিকি মাযহাবের অনুসারীরা 'আহলে হাদিস' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের বর্ণিত দুজন শিক্ষক ইমামদের মতপার্থক্য আছে এমন মাসয়ালায় মদিনাবাসী ইমামকে অনুসরণ করেন। এ থেকেই বোঝা যায়, তারা দুজন 'আহলে হাদিস' বা মালিকি মাযহাবের অন্তর্গত। ইমাম মালিক (র) প্রবর্তিত মালিকি মাযহাবে মদিনাবাসীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইমাম মালিক (র) মদিনার অধিবাসী ছিলেন বলেই এরূপ হয়েছে। মালিকি ফিকহের মূলভিত্তি হলো মদিনাবাসীর আমল। কেননা মদিনা হচ্ছে ইসলামের লালনক্ষেত্র। মদিনার অধিবাসীরা রাসুলুল্লাহ (স) এর ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে ছিলেন। এ কারণে মাসয়ালা প্রণয়নে ইমাম মালিক (র) মদিনাবাসীর অভ্যাস ও মদিনার প্রচলিত প্রথাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আর উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষকদ্বয় এসব মাসয়ালাই মেনে চলেন।
উদ্দীপকের শিক্ষকদ্বয়ের অনুসরণকৃত মাযহাবটি হলো 'মালিকি মাযহাব'।
ইমাম মালিক বিন আনাস (র) প্রতিষ্ঠা করেন মালিকি মাযহাব। সমকালীন হাদিস বিশেজ্ঞদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। ইমাম মালিক (র) ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধির চেয়ে হাদিসের ওপর বেশি নির্ভর করতেন। হাদিসের ওপর অধিক নির্ভরতার কারণে মালিকি মাযহাবকে 'রক্ষণশীল মাযহাব' বলে মনে করা হয়। আর উদ্দীপকের শিক্ষকদ্বয় এ মাযহাবের অনুসারী।
উদ্দীপকের মনসুরের বিভাগীয় দুজন শিক্ষক মালিকি মাযহাবের অনুসরণ করে থাকেন। মাসয়ালার নির্ভরশীলতা এবং অনুসরণের ভিত্তিতে তারা মদিনাবাসী ইমামকে অনুসরণ করেন। ইমাম মালিক (র)-এর জীবনী থেকে জানা যায় যে, তিনি পুরো জীবনে মাত্র একবার মদিনার বাইরে গিয়েছিলেন। সুতরাং শিক্ষকদ্বয়ের অনুসরণকৃত মাযহাবটি যে মালিকি মাযহাব সেটা আলোর মতো প্রতিভাত হলো। আর ইমাম মালিক (র) প্রবর্তিত মাযহাব অন্যান্য মাযহাবের চেয়ে কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে। যেমন- মালিকি মাযহাবে সব যুক্তিতর্কের ওপর কুরআন ও হাদিসকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অনেকে মনে করেন মালিকি মাযহাবে হাদিসকে কুরআনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে এটা সত্য নয়; বরং কুরআনকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ইমাম মালিক (র) মাসয়ালা প্রণয়নে মহানবি (স)-এর হাদিস তাঁর সাহাবিদের গৃহিত বিচার পদ্ধতিগুলোকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতেন। তাছাড়া মদিনা যেহেতু ইসলামের লালনক্ষেত্র ছিল সেহেতু মদিনাবাসীর আমলের দিকেও লক্ষ্য রেখে আইন প্রণয়ন করতেন। মদিনাবাসীর প্রচলিত প্রথা-অভ্যাসকে গুরুত্ব দিতেন।
Related Question
View Allসিহাহ সিত্তাহ বলতে বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে বোঝায়। হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগে হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে ছয়জন মুহাদ্দিস এবং তাদের সংকলিত গ্রন্থ বিশেষ প্রাধান্য পায়। এগুলো সর্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি লাভ করে। ইলমে হাদিসের পরিভাষায় তাদের সংকলিত বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। এগুলো হলো- সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযি, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবন মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদ। হাদিস সংকলকদের নাম অনুযায়ী উক্ত হাদিস গ্রন্থগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।
জনাব ময়নুল দ্বিতীয় উৎস হিসেবে হাদিস অধ্যয়ন করেন- যার গুরুত্ব অপরিসীম।
হাদিস অর্থ- কথা বা বাণী। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলে। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যা। উদ্দীপকে এ উৎসের আলোকপাত হয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব ময়নুল কুরআনের ব্যাখ্যা বোঝার জন্য হাদিস অধ্যয়ন করেন। মূলত ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিসের জ্ঞান। মানুষ জীবন চলার পথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভূত সব সমস্যার সমাধান দিতে হাদিস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। হাদিস মুসলমান জাতির জন্য জীবন চলার অন্যতম উপকরণ। ইসলামি জীবনধারার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর বন্দেগি বা ইবাদত করা। এ ইবাদত কীভাবে করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রদান করেছে হাদিস। একজন মুসলমানের সামগ্রিক আচার-আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছে হাদিস। আর মহানবি (স) ছিলেন পরিচ্ছন্ন আচার- আচরনের বাস্তব প্রতিকৃতি। সুতরাং ইসলামি জীবনধারায় প্রত্যেক মুসলমানের জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রিত হবে হাদিসের আলোকে।
উদ্দীপকে মাওলানা ফখরুলের কর্মটি ফিকহশাস্ত্র নিয়ে। ইসলামি শিক্ষা প্রসারে যার গুরুত্ব অপরিসীম। ফিকহ শব্দের অর্থ- অনুধাবন করা, বুঝতে পারা ইত্যাদি। পরিভাষায় যে শাস্ত্রে কর্মসংক্রান্ত তথা ব্যাবহারিক জীবনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত শরিয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান আলোচিত হয়, সে শাস্ত্রকে বলা হয় ফিকহশাস্ত্র বা ইলমুল ফিকহ। উদ্দীপকে এ শাস্ত্রেরই ইঙ্গিত এসেছে।
উদ্দীপকের মাওলানা কুরআন হাদিস গবেষণা করে এর বিধি-বিধান একটি বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। তার কাজটি ইসলামি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান প্রসারে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। কেননা কুরআন নাজিল সমাপ্তি ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর ইন্তেকালের পর সর্বসাধারণের উপযোগী করে শরয়ি বিধান পরিবেশনের জন্য মূলনীতি ও বিধানাবলির চুলচেরা বিশ্লেষণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া কুরআন-হাদিসের অবিন্যস্ত ও বিক্ষিপ্ত বর্ণনা ইসলামি আইনের বিন্যাস ও সহজ উপস্থাপনার উপযোগিতা সৃষ্টি করে। ফিকহশাস্ত্র শরয়ি বিধানের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়। বিধান গুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে এগুলোকে বিন্যস্ত করে সব দেশের সাধারণ মানুষের উপযোগী করে। সর্বোপরি এ শাস্ত্রবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সহজ উপস্থাপনার রীতি গ্রহণ করে আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মানুশীলনকে সহজসাধ্য করেছে।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর সংযোগকারী বিষয় হলো- ইবাদত।
ইসলামের প্রসারের ফলে সাহাবিদের যুগে ফিকহশাস্ত্র বিকশিত হয়। সাহাবিদের যুগে ইসলাম দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়। সাহাবিগণ সম্মিলিতভাবে কুরআন-হাদিসের মূলনীতির আলোকে এসব সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় তারা ইজতিহাদের সূচনা করেন। এরপর ইজতিহাদি বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত করে সমস্যার সর্বসম্মত সমাধান দেওয়ার প্রয়াস পান। ফলে এ যুগে স্বতন্ত্র ফিকহশাস্ত্র সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!