উদ্দীপকে মনি চাকমার কর্মকাণ্ডে নিধিকুক্ত সূত্রের প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়।
'নিধি' অর্থ ধন, 'কুণ্ড' অর্থ নির্জন স্থান। অতএব নিধিকুণ্ড অর্থ নির্জন বা গোপন স্থানে ধন সঞ্চয় করা। নিধিণ্ড সূত্রে বুদ্ধ প্রকৃতি ধন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেন। দান, শীল, ভাবনা ও আত্মসংযম দ্বারা অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। ভিক্ষুদের সেবা করা, সংযম ধারণ করা, পিতামাতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবা করা ও শীল ভঙ্গ না করার মাধ্যমে নিধিকণ্ড অনুসরণ করা সম্ভব।
উদ্দীপকে মনিকা চাকমা স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছেন। বিহারে ভিক্ষুদের সেবায় নিয়োজিত হন। তিনি কোনো প্রকার শীল ভঙ্গ না করে পুণ্য সঞ্চয় করেন। সুতরাং মনি চাকমার ঘটনা নিধিকুণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
Related Question
View Allঅপ্রমাদ বর্গে ১২টি গাথার কথা উল্লেখ আছে।
'অপ্রমাদ' শব্দের অর্থ হচ্ছে উদ্যম, উৎসাহ, উত্থানশীলতা, জাগ্রতভাব, স্মৃতিমান, সংযমশীলতা ইত্যাদি। অপ্রমাদ বুদ্ধের সমস্ত শিক্ষার ভিত্তি ও মূলনীতি। নির্বাণ লাভের জন্য অপ্রমাদ অত্যাবশ্যক। সুতরাং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলোর মাধ্যমে উপযুক্ত বিষয়ে জ্ঞানার্জন লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে ঘটনা-১ এ অপ্রমাদ বর্গের ১নং থেকে ৩নং গাথার ইঙ্গিত বহন করে। ঘটনা-১ বর্গের ১ থেকে ৩নং গাথার সাথে সংগতিপূর্ণ।
বুদ্ধ অপ্রমাদ বর্গের ১ হতে ৩নং গাথা ভাষণ করেছিলেন কৌশাম্বীর অন্তর্গত ঘোষিতারামে অবস্থানকালে। সেসময় মহারাজ উদয়নের প্রধান মহিষী ছিলেন শ্যামাবতী। তিনি ছিলেন বুদ্ধ ভক্ত। তিনি প্রত্যহ বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণের জন্য ঘোষিতারামে যেতেন। রাজার অপর রানি ছিলেন মাগন্ধিয়া, সে বুদ্ধবিদ্বেষী। তিনি রানি শ্যামাবতীর বুদ্ধভক্তি একদম সহ্য করতে পারতেন না। তাই শ্যামাবতীর প্রাসাদে আগুন দেয়। এতে শ্যামাবতীসহ পাঁচশ সহচরী পুড়ে মারা যায়। রাজা রানি মাগন্ধিয়াকে প্রাণদণ্ড দেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর মাধ্যমে অপ্রমাদ বর্গের ১ থেকে ৩নং গাথার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের বিকাশ চাকমার কর্মটি ১২নং গাথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘটনা-২ এ অপ্রমাদ বর্গটির ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি।
ভিক্ষু তিষ্য শ্রাবস্তীর কাছেই নিগম গ্রামে বাস করতেন। বাইরের জগতের সাথে তাঁর কোনো সংস্রব ছিল না বললেই চলে। নিজের কয়েকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ভিক্ষা করে যা পেতেন তাতেই তার প্রয়োজন মিটতো। এর বেশি আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল না। এ কারণে শ্রেষ্ঠীদের মহাদান বা কোশলরাজ প্রসেনজিতের বড় দান উৎসবে তিষ্যকে কখনো দেখা যায়নি। এ নিয়ে লোকে তাঁকে নিন্দা করত এবং বলত তিষ্য শুধু তার স্বজনদেরকেই ভালোবাসেন। বুদ্ধ তিষ্যের এ অল্পে তুষ্ট আর লোভহীনতার কথা শুনে বেশ প্রশংসা করে অপ্রমাদ বর্গের ১২নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে বিকাশ চাকমার ধর্মকর্মের সাথে ভিক্ষু তিষ্যের সাদৃশ্যতা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, ঘটনা-২ অপ্রমাদ বর্গের ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি।
অনুগামী নিধি হলো দানময়, শীলময়, ভাবনাময়, ধর্ম শ্রবণময়, ধর্মদেশনাময় পুণ্য। অনুগামী নিধি সবখানে সবসময় অনুগমন করে সুখ লাভ করা যায়। অনুগামী নিধি অর্জন করতে হলে দানশীল, ভাবনাময়, ধর্মশ্রবণ ও ধর্মদেশনাময় পুণ্য করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!