জার্মানি একত্রীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল অটোফেন বিসমার্কের নেতৃত্বে।
যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা কিন্তু প্রকতৃ যুদ্ধ নয়- এরূপ স্নায়ুবিক উত্তেজনার পরিস্থিতিকে এক কথায় স্নায়ু যুদ্ধ বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এরূপ রেষারেষি প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সমাজের ওপর পড়ে এবং সারা বিশ্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ব দুটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মনিপুর ইউনিয়নের সংঘাত আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল একটি ভয়াবহ যুদ্ধ। এ যুদ্ধের পিছনে নানাবিধ কারণ থাকলেও মূলত ইউরোপে আধিপত্য বিস্তারই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। এ যুদ্ধে বহু নগর, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়, অনেক মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। এছাড়া যুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এ যুদ্ধের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে তা বিশ্ববিবেককে আন্দোলিত করে। এ যুদ্ধের ভয়াবহতায় ব্যথিত হয়ে মার্কিন, প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি, রুজভেল্টের উদ্যোগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মনিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও রক্তপাত হয়। এ ঘটনা দাউদ মল্লিককে ব্যথিত করে। তাই রক্তপাত, হানাহানি থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষা করতে তিনি একটি শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। উদ্দীপকের এ সংঘর্ষ ও শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ উপণ্ডের আলোচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার কথা মনে করিয়ে দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সংঘাতের গঠনা আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উক্ত সংস্থা তথা জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
যেসব মহান আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সব বাস্তবায়িত না হলেও সার্বিকভাবে জাতিসংঘ শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে বলা যায়। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের অবদান উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিগাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববাসী বহু বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও মূলত জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে বিম্ব এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিকার হয়নি। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দেশগুলো মূলত জাতিসংঘের দিকেই তােিকয় থাকে। এ বিষয়গুলোই এ সংস্থার সবচেয়ে বড় সফলতা। শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব ইসরাইল বিরোধ মোকাবিলা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, আফ্রিকার দেশে দেশে সংঘাতের নিয়ন্ত্রণ বা অবসান ইত্যাদি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান, পরিবেশ সংরক্যষণ, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধ ইত্যাদি বিষয়ে অনেক কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাছে।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলমান সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যয়ে বিশ্বসংস্থাটির ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!