মনিরামপুর গ্রামের আমজাদ সাহেবের স্কুলটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার ব্যতিক্রমধর্মী দোকান 'সততার' জন্যে স্কুলে প্রতিষ্ঠিত দোকানটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এই দোকানে কোনো দোকানি নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ওপরে লেখা মূল্য দেখে দামটা পাশে রাখা বাক্সে রেখে দেয়। শিশুদের পড়াশুনার পাশাপাশি সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই আমজাদ সাহেবের এই প্রচেষ্টা। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ হতে বাংলায় এসেছে।

উত্তরঃ

সাধারণ অর্থে নৈতিকতা হলো নীতিমূলক, নীতি সম্বন্ধীয়। অর্থাৎ কথাবার্তা, আচার-আচরণে নীতির অনুসরণ করাকে নৈতিকতা বলে। নৈতিকতা বলতে আমরা এমন এক আদর্শকে বুঝি, যা নৈতিক অর্থে ভালো বা ন্যয়কে বোঝায়। নৈতিকতা মূলত ব্যক্তি-মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও পছন্দ হতে উদ্ভূত।
নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।

উত্তরঃ

আমজাদ সাহেবের এ ধরনের উদ্যোগ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করবে।

নাভরে দেয়ান্তোৎ দেবতার সেকচার সেকচার লেকচার মেশকচার।
নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময়, ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে। শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। এই নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হলে একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজকের শিশুরা হয়ে উঠবে আদর্শবান মানুষ। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা সুশাসনের সুরভী ছড়িয়ে দেবে সারা বিশ্বে। তাই সরকারের উচিত দেশের প্রতিটি স্কুল কলেজে আমজাদ সাহেবের মতো এধরনের দোকান প্রতিষ্ঠা করা

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্যবোধের ধারণা যে সমাজে যত বেশি সে সমাজ তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল। উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।
মূল্যবোধ সম্পন্ন আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে একটি সুশৃংখল ও সুনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র গঠনে উদ্বুদ্ধ হতে পারবে।

১. মূল্যবোধ ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সততার শিক্ষা দেয়। আমরা দেখতে পাই, সমাজের মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ সততার সাথে দায়িত্ব পালনে ব্রত থাকেন।

২. আধুনিক রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বহুদল ও মত থাকে। কাজেই অন্যের মতামত সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করে নিজের মতামত প্রকাশ করতে হয়। মূল্যবোধ ব্যক্তিকে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সফলতা লাভ করে।

৩. মূল্যবোধ কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। ফলে তাদের মাঝে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করেছিল।
৪. মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হলে সে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সততা-শঠতার পার্থক্য বুঝতে পারে। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত হতে অনুপ্রেরণা লাভ করে।
৫. সত্য সর্বদা সুন্দর। মূল্যবোধ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ একদিকে যেমন অধ্যবসায়ী হয়, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী হয়।
৬. মূল্যবোধের অনুপ্রেরণা মানুষকে তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে, সচেতন করে তোলে। ফলে প্রত্যেকে নিজ অধিকার ভোগে সচেতন হয়। সাথে সাথে তার কর্তব্য পালনেও সচেষ্ট থাকে। এরূপ অধিকার ও কর্তব্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি মানব কল্যাণে ব্রত হয় এবং সমাজের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়।
৭. মূল্যবোধ আইনের ভিত্তি। কারণ, মূল্যবোধ বিবর্জিত আইন সমাজে টিকে থাকতে পারে না। অতএব বলা যায়, আইন সভায় প্রণীত আইন মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত বিধায় সমাজের স্বীকৃতি লাভ করে এবং তা কার্যকর করা সম্ভবপর হয়।

উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মানবিক গুণাবলি বিকাশে মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবিক গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে সুসভ্য ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

59

Related Question

View All
উত্তরঃ

সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।

235
উত্তরঃ

আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।

তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।

199
উত্তরঃ

প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।

বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।

248
উত্তরঃ

আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।

241
উত্তরঃ

মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

225
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews