যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষ যে সংস্কৃতি লালন করে আসছে সাধারণ অর্থে তাই লোকসংস্কৃতি।
মানুষ পৃথিবীর যে অঞ্চলেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন তার পক্ষে সেখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ুকে উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ এসবই তার কাছে নিজের পরিবারের মতো। এ প্রকৃতিই তাকে শিক্ষা দেয় কীভাবে জীবনে সংগ্রাম করতে হবে, কীভাবে জীবন চালাতে হবে। এ প্রকৃতি ও পরিবেশ, জলবায়ু, বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে এভাবে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য দান করে থাকে। এজন্য মানুষ এগুলোকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না।
উদ্দীপকে মনিরার দাদার কথায় প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। একসময় বাংলা ছিল সমৃদ্ধশালী একটি দেশ। কৃষকের মাঠে ছিল ফসল, গোলাভরা ধান আর নদীতে ছিল মাছের ভান্ডার। আর মানুষের মুখে ছিল অফুরন্ত হাসি। এখানকার মাটি ছিল বেশ উর্বর। ফলে কৃষিকাজ হয়ে ওঠে বাঙালির প্রধান পেশা। এছাড়া তখন তাদের ব্যবহার্য তৈজসপত্র বেশিরভাগ ছিল মাটির। কৃষি থেকে তারা পেয়েছে তুলা, যা বাঙালিকে কাপড় বুনতে উৎসাহিত করেছে। জীবনের পথে চলতে গিয়ে বাঙালি সৃষ্টি করেছে তাদের অকৃত্রিম সংস্কৃতি। প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে জীবন সংসারে টিকে থাকা আর আনন্দদানের জন্য জীবনমুখী গান বাঙালিকে করেছে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল, যা আজও পর্যন্ত বাঙালির স্বকীয়তায় টিকে আছে।
'কচি সর্ষে শাক, নতুন চালের ভাত, হড়হড়ে দই প্রচুর।' মনিরার দাদার গাওয়া এ গানের মাধ্যমে প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধির কথা প্রকাশ পেয়েছে। প্রাচীনকালে বাংলার জমি ছিল বেশ উর্বর। সেখানে যেটি চাষ করা হতো বিধাতা যেন তা আপন হাতে পরিচর্যা করে বড় করে তুলত। কৃষকের মাঠে ছিল ফসল, গোলাভরা ধান আর নদীতে প্রচুর মাছও পাওয়া যেত। প্রাচীন বাংলার মানুষ খুব সুখে-শান্তিতে দিন কাটাত। এজন্য তখনকার মানুষের মুখে যেন হাসি ফুরাত না। বাংলার প্রকৃতিও বাংলার মানুষকে নিয়ে নানা সময় আনন্দে মেতে উঠেছে। ফলে তারা প্রকৃতিকে সন্তুষ্টি করতে চেয়েছে বারবার। এটা বাঙালির নিজস্ব ধরন। ফলে বাংলার মানুষের মুখে মুখে জন্ম নিয়েছে রাউল-ভাটিয়ালি, মারফতিসহ লোকগান যা বাংলার সংস্কৃতির মুখপাত্র হিসেবে আজও প্রচলিত আছে। এসব গান বাঙালির সংস্কৃতিমনার চিত্র উপস্থাপন করে চলেছে।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!